somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার স্মৃতির বিনিময়ে কান্না (ছোট গল্প)

০৩ রা জুন, ২০১৪ রাত ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাহিদ বিছানায় শুয়ে শুয়ে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ভাবছে,জীবনটা কি সরল রেখা নাকি চক্রকার।জীবনটা যদি সোজা হয় তার মানে জন্ম এর'পর মৃত্যু আর যদি চক্রকার হয় তবে জন্মের পর মৃতুয় এর'পর আবার জন্ম।কি হতে পারে?মৃত্যুর সময় যদি কোনো মানুষ লিখে যেতে পারত যে আজরাইল কি তাকে দেখা দিয়েছে নাকি;এমন কিছু যদি থাকত যে মৃত্যুর সময় কি হয়।ক্ষণটা কি,তবে হয়তো পাল্টে যেতো কিছু।মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভালোবাসার মানুষটিকে কি মনে করা যায়?ইচ্ছা করলে কি মনে করা যায় সব কিছু তখন?যদি ইচ্ছা ক'রে মনে করতে পারবো শালিক পাখি,রুক্ষ টোকাই,জোঁনাকী;যদি পারা যায় তো আমি মনে করতে চেষ্টা করবো মেঘলার হাসি মাখা মুখ।মেঘলা হাসলে গালের এক'পাশে টোল পরতো,টোল পরার গভীরতায় অন্ধকার হয়ে যেতো একটুখানি জায়গা।বা'পাশে টোলে মনে হতো কেউ যেনো এঁকে দিয়েছে;ইচ্ছা করে এঁকে দিয়েছে;যেনো নজর না পড়ে,কিন্তু ঐ টোলখানি তো নজর কেঁড়ে নিতো জাহিদের।

ঐদিনের কথা খুব মনে পরতে লাগলো;সে'দিন মেঘলা বলেছিলো-আচ্ছা জাহিদ জোঁনাকীরা কি রাতে চোখে দেখে না?

-জানি না তো!কেনো?

-না!দেখ কি সুন্দর জোঁনাকী।আমার মনে হয় ওরা চোখে কম দেখে তাই হয়তো পাছার মধ্যে খোদা লাইট লাগিয়ে দিয়েছে।

-আ'দূর কি যে বলনা।এই রাতের জোঁনাকী দেখতে এসেছো নাকি আবোল-তাবোল কথা বলতে এসেছো।

-হি হি!আচ্ছা আমরা যদি জোঁনাকী হতাম কেমন হতো।

-যেমন হত তেমন হত!

-আমরা যদি জোঁনাকী হতাম ঐ গুলা করার সময় সবাই দেখে ফেলতো,কারণ আমাদের পাছার মধ্যে লাইট সেটিং করা তাই না,হি হি!কি বিচ্ছিরি লাগলো।ভালো ক'রে জড়িয়ে ধরতে পারতাম না।

-তুমি কি মেঘলা এমন আবোল-তাবোল কথা বলছো পাবনা যাওয়ার জন্যে?

-ওমা আমার কথা শুনে তুমি কেনো পাবনা যাবে!

-আমি যাবো না কেনো?তোমাকে পাবনা ভর্তি করাতে।

-হি হি!আমি তো ভাবলাম আমার কথা শুনে তুমি পাগল হয়ে যাবে।

-হুম;আরো কিছু মনে ক'রে বসে থাকো।

-এই আচ্ছা পাগলাগারে কি নারী রোগী আছে?

-কেনো নারীরা কি পাগল হয় না!

-না নারীরা কখনো পাগল হয় না।

-মানে!

-পাগল হয় না কারণ নারীরা পাগলী হয় আর পাবনাতে যে পাগলাগার আছে এটা শুধু পাগলদের জন্যে পাগলীদের জন্যে না।যদি পাগলীদের জন্যে হতো তবে তা হতো পাগলীগার।

-দূর!

-হি হি!আচ্ছা আমরা তো হানিমুন করতে এলাম।বিয়ের আগে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে দূরে বের হলে হানিমুন ব'লে না কিন্তু বিয়ের পর কেনো হানিমুন ব'লে।

-স্বামী আর স্ত্রী বৈধ ভাবে একান্তে সময় কাটাই তাকে হানিমুন ব'লে।প্রেমিক-প্রেমিকার ক্ষেত্রে হানিমুন বলা হয় না।

-ও আচ্ছা।এটা এতো নাম থাকতে হানিমুন হলো কেনো?

-হানিমুন এর বাংলা কি?

-মধুচন্দ্রীমা!

-হানি অর্থ মধু আর মুন অর্থ চাঁদ মানে সুন্দর ক'রে বা রোমান্টিক ক'রে বললে চন্দ্রীমা।

-মধুচন্দ্রীমা কেনো ব'লে?

-হা হা হা!দাড়াও বলছি;কোনো এক হালায় এই মধুচন্দ্রীমা শব্দ উদ্ভব করছে।ঐ লোকে তার বৌকে নিয়ে বিয়ের পর চাঁদনী রাতে দূরে কথা বের হয়েছে।আর তারপর তারা হয়তো চাঁদনী রাতে মধু বিনিময় করেছিলো।আর ঐ দিন থেকে এই শব্দের উদ্ভব হয়।

-হা হা হা।মধু আবার কি?চাঁদনী রাতে কি কেউ মধু খেতে বের হয় নাকি।

-এই মধু সে মধু না;এটা দু'জনের মিলন;মধুরমিলন।

-বাহ!কি পন্ডিত তুমি।

-তাই এসো মেঘলা মধুরমিলন করি।এসো!

-এই যা!তুমি না!

মেঘলা আর জাহিদ মধুর মিলন করলো ঐ দিন,দু'জন মিলে মিলে এক;একাকার।জাহিদ ভাবছে সে'দিনের কথা।আহা কতো রঙ্গিন ছিলো।এখন ভাবলে সব সাদা-কালো।স্বপ্ন আর ভাবনা সব সময় সাদা-কালো হয়।

"বাবা!বাবা!বাবা!"

হটহ্যাৎ মিতার চিৎকারে যাহিদের ভাবনার জগৎ উড়ে গেলো।যাহিদ সজাগ হয়ে উঠলো।দৌড়ে গেলো তার একমাত্র মেয়ের ডাকে।

-কি হয়েছে?

-বাবা দেখ বাইরে বৃষ্টি!

-তো!

-চলো না বাবা একটু ভিজি।

-না!অসুখ করবে।

-প্লিজ বাবা চলো না।

-বললাম না অসুখ করবে।

-একবার বাবা।বছরের প্রথম বৃষ্টি,প্লিজ বাবা।

এই এক দায়-সাড়া।যাহিদ কখনো মিতার কথা ফেলতে পারে না।আর মেয়েটাও হয়েছে মার মতো;খুব বেশি জেদি। না যেয়ে পারলো না জাহিদ।

বাবা-মেয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে,খুব নাচতে লাগলো মেয়েটি।মাত্র পাঁচ বছরের মেয়ে কিন্তু তার কাছে হেরে যায় সব সময় জাহিদ;তার কথা না মেনে পারে না জাহিদ।খুব মনে পরছে মেঘলার কথা।

জাহিদ মনে মনে ভাবছে তোমার মেয়ের কথার কাছে সব সময় হেরে যাই,সব সময়;তুমি হয়তো হারতে না।মিতাকে এক বকা দিয়ে চুপ ক'রে দিতে।কেনো!কেনো চ'লে গেলে না ফেরার দেশে?কেনো আমাকে আর মিতাকে ফেলে গেলে।

জাহিদের চোখের জল মিতা দেখছে না,জাহিদ হাসার ভান করে আছে,তাকিয়ে আছে মেয়ের দিকে।চোখে জল বুঝতে পারছেনা মিতা মেয়েটি কারণ বৃষ্টর জল আর চোখের জল যে এক হয়ে আছে,একাকার হয়ে আছে,মিশে আছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×