ভাসিটি থেকে ফিরছি । শেয়ারের রিক্সায় । তখন শুত্রাপুর লোহারপুল পার হতে ঠেলা দেয়া লাগত । আমাদের রিক্সাটা ঠেলছিল একটা 12-13 বছর বয়সি মেয়ে । প্রতি রিক্সা ঠেলার জন্য 50 পয়সা দিতে হত । ঠেলা হলে মেয়েটি আমার কাছে টাকা চাইতে এল । আমি 50 পয়সা দিতে গেলে সে বলল, এক টাকা দেন । আমি বললাম, সবসময় 50 পয়সা দেই আজকে কেন এক টাকা দিতে হবে ? সে বলল, এক টাকাই দিতে হইব । আমি তবুও 50 পয়সা দিতে গেলাম । কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে সে পয়সাটা রাস্তায় ছুরে ফেলে দিল । আমি অবাক হয়ে বললাম, তোরা পয়সা পাসনা আর তুই কিনা পয়সাটা ছুরে ফেলে দিলি ? সে বলল, তাইলে এক টাকা দেননা কেন ? আমি বললাম, আচ্ছা দিব আগে পয়সাটা তোল । সে বলল, না আগে টাকা দেন । আমার ভিষন রাগ হল । বললাম, যা পয়সা নিলে নে, না নিলে নাই । রিক্সাওয়ালাকে চালাতে বললাম । মেয়েটা পিছনে পিছনে আসতে লাগল । হঠাৎ ল করলাম একটা ছেলে হোন্ডায় চেপে আমাদের পাসে পাসে আসছে আর আমাদের রিক্সাওয়ালাকে থামতে বলছে । রিক্সাওয়ালা রিক্সা থামাতেই সে হোন্ডা থেকে নেমে রিক্সাওয়ালাকে একটা চড় মেরে বলল, রিক্সা থামাইতে কই থামাসনা কেন ? আমার সাথের ভদ্রলোক কিছু বলতে চাইছিল । হোন্ডামানব তাকে ধমক লাগাল, চোপ । আমি রিক্সা থেকে নেমে এলাম । হোন্ডামানবকে বললাম, এমন করতেছেন কেন ? বলার সাথে সাথে সে আমার গালে কষে একটা চড় মারল । তবুও মরিয়া হয়ে আমি বললাম, আমার কথাটা একটু শোনেন । এবার সে আরও জোড়ে আমার গালে একটা চড় মেরে বলল, কথা কম, মাইয়াটারে পাঁচ টাকা দে । এর পরে আর আমার কিছু বলার সাহস ছিলনা । মেয়েটাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাসায় ফিরে এলাম ।
মেয়েটার উপরে আমার কোন রাগ নেই । তবে হোন্ডামানবকে আর একটাবার শুধু দেখতে ইচ্ছা করে । ভিষন ইচ্ছা করে সেদিনের সে চড় সুদে আসলে দিগুন করে ফিরিয়ে দেই । আজও সে আমার অনেক রাতের ঘুম কেড়ে নেয় ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




