কী রে ভাই ! এই দ্যাখ রে ভাই ! তোর কেমন একটা ব্যাটা হয়েছে রে ভাই !!
__সদ্য প্রসব হওয়া মরা বাচ্চা হাতে তুলে নিয়ে সুলতানের সামনে এসে বলে দাদী শাশুড়ি। তারপর তার সে যে কী অট্টহাসি !!
নে নে দ্যাখ, তুই তো বাপ হয়েছিস। এমন ভাগ্য ক'জনের হয় ? তোর ভাগ্য খুব ভালো রে ভাই !
সুলতান বিজ্ঞানের বিভাগের ছাত্র। বিএসসি পড়ছে। ভাবে, বিয়ে হবার সবমাত্র হলো চারমাস। এই চারমাসে এত বড় বাচ্চা হয় কীভাবে ? সে তো জানে কোন মাসে শিশুর বৃদ্ধি কতটুকু ঘটে ? তারপরও সে বিয়ের হিসেবটা ঠিকমতে কষে। কিন্তু কোনমতেই মেলাতে পারে না। বিয়ের চারমাসেই প্রভূ তাকে এই নয়মাসের পরিপুষ্ট বাচ্চা উপহার দিলেন ! সে মেলাতে পারে না। তার সন্দেহ জাগে। এই বাচ্চা কি আসলে তার ? মাথা চিরিৎ করে ওঠে সুলতানের ! সে আর ভাবতে পারে না।
শশুরবাড়ি থেকে সোজা বেরিয়ে সাইকেলের প্যাডেল মারে। পিছে পিছে ডাকতে থাকে, তার দাদী শাশুড়ি, শাশুড়ি,শ্যালা ...
__এ্যা নাতজামাই, জামাই বাবাজি, দুলা ভাই।
ওদিকে সুতিকাগৃহে তার প্রিয়তমা স্ত্রী ভাবছে জ্যাঠাতো ভাইয়ের সন্তানের দায় তাহলে ঠিকমতোনই বুঝিয়ে দেয়া গেলো স্বামীকে। ব্যাটা প্লাবন কী সর্বনাশটাই না করেছিলো তার। যদি সুযোগ মতোন বিয়েটা না হতো এই সন্তানের দায় সে দিতো কাকে। সে কি মুখ দেখাতে পারতো ?
সুলতান সাইকেলে প্যাডেল মারতে মারতে ভাঙ্গামোড় বাজার পার হয়ে উঠেছে কামারপাড়া রাস্তায়। ভাবছে তাহলে সে একটা নষ্টা মেয়েকে বিয়ে করেছে। সে তো বিয়ে করতে চায়নি । বাবাই তাকে জোর করে বিয়ে দিলেন। তার তো লেখাপড়ার সময়। বাবাও বুঝলেন না হুট করে পাত্রি দেখলন, পছন্দ হলো বিয়েটা দিয়ে দিলেন। এখন এই নষ্টা মেয়েকে নিয়ে সংসার করবে কেমন সে ! তার ইতখিতি লাগছে ! ঘৃণা লাগছে। এই নষ্টা মেয়েটির সঙ্গেই সে বাসররাতে ছিলো ?
তার তেষ্টা লাগে । কামারপাড়া বাজারে এসে নেমে এককাপ চায়ের অর্ডার দেয় সে। তারপর লাগায় একটা চুরুট। চুরুটের গোয়ায় টান মারে আর ভাবে সে এখন কী করবে, কোথায় যাবে ?(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




