somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতি তুমি ক্রিকেট বল

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছবির বস্তুটি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন আমার এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। খেলা-ধুলার প্রতি আমার আগ্রহ ছিল পড়াশুনার প্রতি আগ্রহের ব্যস্তানুপাতিক। নিতান্ত অমনোযোগী ছাত্রকে মূলা দেখিয়ে লাইনে আনার এটা তার কোনো ফন্দিও হয়ে থাকতে পারে, জানা হয়নি। তবে বলটা নিয়ে খেলাও হয়নি। সময়টা তখন ক্লাস টেন। সামনে প্রি-টেস্ট পরীক্ষা। প্রি-টেস্ট এর পর টেস্ট, তারপর এসএসসি। এসময় খেলার কথা চিন্তা করাটাও একটা বেশ ভয়ানক রকমের গুনাহের কাজ। বলটা রক্ষিত থাকল সযত্নে। পরীক্ষা শেষ হলে খেলা হবে। প্রতিদিন বলটা হাতে নিয়ে ভাবি, কবে শেষ হবে পরীক্ষা। সময় যে আর কিছুতেই কাটে না।

এসএসসির পর শুনলাম সামনে আছে কলেজ ভর্তি , তারপর এইচএসসি, তার উপর আছে ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা।আশে-পাশের পরিচিত সবার কথা শুনে যা বুঝলাম, এই পৃথিবীতে আমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে কতটুকু তা নির্ভর করছে এই ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার উপর। সেই আতঙ্কেই মনে হয় আমি এমনভাবে এইচএসসি পাস করলাম যে পাস আর ফেল এর মধ্যে পার্থক্য রইলো খুব সামান্যই। ভার্সিটি ভর্তি তো পরের কথা, ভর্তি ফর্ম-ই তোলার মত যোগ্যতা নেই টাইপ অবস্থা। বাকিটা ইতিহাস।

তারপর যে কিভাবে কতবার সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়ে পশ্চিমে অস্ত গেলো তার কোনো হিসাব নাই। পড়াশুনার অধ্যায় শেষ অনেক দিন। কোনো রকম মারধোর খাওয়ার আশংকা ছাড়াই নির্ভয়ে সন্ধ্যার সময় টিভির সামনে বসা যায়, চাইলে বন্ধের দিন অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমানোও যায় আয়েশ করে। ইহাকে বলে সময়ের পরিবর্তন।

পুরোনো জিনিসপত্রের ভেতর যখন সেই সযত্নে রক্ষিত বলটি আবিষ্কৃত হল তখন কিছুটা বিমূঢ় হয়েই প্রায় একযুগেরও বেশি সময় আগের ফেলে আসা দিনগুলোতে ফিরে গেলাম। সেই বল-ও আছে, বলের মালিক-ও আছে। শুধু নেই ক্লাস টেনে পড়া সেই ফাস্ট বলার। পড়াশুনা আর পরীক্ষার চিপায় কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে বেচারা।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:২১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×