সকাল দশটা।মঝবয়সি লোকটি রুটি বানাচ্ছে।মুখে আধা কাঁচাপাকা দাঁড়ি,মাথায় পাচকুল্লি টুপি গায়ে সাদা গেঞ্জি এবং পরনে লুঙ্গি;হোটেলে কাজ করলেও বেশ পরিপাটি থাকে বলে মনে হচ্ছে।বাবুশাহ মার্কেটের গিঞ্জি হোটেলের টুলে বসে রুটি খাচ্ছে জন চারেক।এসময় নীলক্ষেতে বই কিনতে আসে মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া মাদরাসার ছাত্র রফিক।এবার সে আলিম ২য় বর্ষে পড়ে,ক্লাসে সবাই তাকে মেধাবী বলে মনে করে কারণ পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সে প্রচুর বই পড়ে।গলিতে ঢুকতেই বিষয়টি তার নজরে পড়ে।রফিক একটু ইতস্তত করে বলে কাকা,আপনার সাথে কথা বলা প্রয়োজন।দেখে আপনাকে ধার্মিক মনে হচ্ছে কিন্তু এই রমজান মাসে দিনের বেলায় রুটি বানিয়ে খাওয়াচ্ছেন কাজটা ঠিক হচ্ছে? কাকা বললঃ দেখো বাবা,তোমার বয়সে আমিও আবেগে ছিলাম।উপার্জন না করলে কেউ মুখে ভাত দিবে না,তোমার বয়সি একটা মেয়ে আছে আমার তার বিয়ের চিন্তা করতে হয়;আমার ছেলেটা ছেঁড়া জুতা পরে স্কুলে যায় এবার ঈদেও হয়তো নতুন জামা কিনে দিতে পারবো না!এর উপর যদি বুজুর্গি দেখিয়ে কর্ম না করি সংসার চলবে কি করে।কথা খুঁজে না পেয়ে রফিক এবার ধীরপায়ে চলে যায়,হাটতে হাটতে চিন্তা করে নাহ!বই পুস্তকের বাইরে অন্য আরেকটা জগত আছে।তার মাথায় ভিন্ন চিন্তা আসে,সম্পূর্ণ নতুন চিন্তা।সে এটাকে সরাতে পারছে না,নতুন জগত নিয়েই সে গাড়িতে চড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






