somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবছায়া

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শুরুতেই বলে রাখি। মোটেও এটা যেনোতেনো বানানো গল্প না। দুর্বল চিত্তের মানুষদের না পড়াটাই বোধ হয় শ্রেয়। পারদিন থেকে ক্লাস শুরু হবে বলে আসিফের বাসা থেকে খুব দেরী করে আমি বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিলাম। রাত অনেক তখন। পাঁচটার চেয়ে কম তো হবে না অবশ্যই। শীতের রাত বলে ভোর পাঁচটাতেও ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাসের আশায় দাঁড়িয়ে আছি অনেক্ষণ ধরে। শীত পড়েছে প্রচুর। এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছি বলেই হয়তো শীতটা ভালো মতোন জেঁকে বসেছে শরীরে। বাসও যে খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে সেরকম মনে হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে গায়ের চাদর শরীরে শক্ত করে চাপিয়ে নিয়ে হাঁটতে শুরু করেছি। মাঝে মাঝে কিছু ট্রাক দ্রুত বেগে পাশ কাটাচ্ছে। গ্রাম মতোন এলাকা। রাস্তার পাশে প্রকান্ড ডোবা। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ মনে হলো, অদূরে রাস্তা ধরে ডোবার পাশে একটা মানুষ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আরেকটু এগিয়ে গিয়ে আদৌ সেটা মানুষ কিনা সেই বিভ্রান্তিতে পড়ে গেলাম। হাত পা অনেকাংশে বিকৃত। গায়ের রং কৃষ্ঞবর্ণ। মুন্ডুটা ঘাড়ে কোনো মতো লেগে থাকলেও শরীরের তুলনায় তা অস্বাভাবিক রকমের বড়। ভূত প্রেত এসবে আমার কোনো কালেই বিশ্বাস ছিলো না। যারা এসবে বিশ্বাস করে তাদেরকে কিছুটা হলেও আমার পশ্চাৎ চিন্তাধারার যুক্তিহীন মানুষ বলে মনে হয়। হঠাৎ করেই আমার মনে হলো, প্রকৃতি তার অদ্ভুত সৃষ্টির প্রতি এরকম নিন্ম দৃষ্টির কারণেই বোধ হয় আজ আমাকে ভয়ংকর কিছু একটার সম্মুখীন করাতে যাচ্ছে। অশরীরি কিছু একটা যেটার ভয় মনে আজীবন গেঁথে থাকবে ঠিকই কিন্তু দারূণ যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে বন্ধু মহলে পরিচিতি থাকায় এ নিয়ে আমি কোনোদিনও একটা কিছু বলতে পরবো না কারো কাছে। এলোমেলো চিন্তা আর একটা পাশবিক চাপা ভয় নিয়ে আমি ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছিলাম বিকৃতদেহী ওই কৃৎসীত প্রাণিটার দিকে। হঠাৎ মনে হলো মুন্ডুটার মাঝখানে কিছু একটা চিকচিক করছে। অনেকটা উদ্দীপ্ত চোখের মতোন। যদিও সেটার স্থান মানুষের মুখমন্ডলের গাঠনিক সাদৃশ্যতা অনুযায়ী চোখের কোটরে নয়। চাদর থেকে হাত নামিয়ে সিগারেট ধরালাম। এক চিলতে আগুনেও যদি কিছু একটা হয়! পা গুলো কেমন আড়ষ্ঠ হয়ে আছে। অজানা ভয়ের সম্মুখে য্যানো তারা বিন্দুমাত্র এগুতে চাইছে না। আমি দৃঢ় করলাম মনকে। হাঁটতে হাঁটতে কখন যে সেই বিকৃতদেহীর সামনে চলে এসেছি বুঝতে পারিনি। সত্যিকার অর্থেই কুৎসীত একটা প্রাণী। ভুল দেখিনি আমি। সত্যিই জ্বল জ্বলে চোখে দূর থেকে এটা তাকিয়ে দেখছিলো আমাকে। ভয়ের সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাকে জয় করটাই আমি শিখে এসেছি বলে সোজা এগিয়ে গেলাম সেই প্রাণীর দিকে। শরীরের সব শক্তি দিয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ঝাপিয়ে পড়লাম। হার্টবিট তখন আমার ভয়ঙ্কর বেগে দৌড়াচ্ছে। চারদিকে কেমন বিটকেলে শ্যাওড়াটে গন্ধ। পিচ্ছিল কিছু একটায় জড়ানো ওই প্রাণির দেহের ওপর থেকে আমি উঠে দাঁড়ালাম। ততক্ষণে ভোর হয়ে এসেছে। আজানের শব্দে কিছুটা আস্বস্থ হয়ে আমি শেষ দিগন্তের হালকা কমলা আলোয় দেখি সামনে একটা মাঝারী সাইজের মজে থাকা মরা কলাগাছ ঘুসি খেয়ে এ্যাবড়ো থ্যাবড়ো হয়ে পড়ে আছে।





ছোটোগল্প।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:৩০
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হেবা অক্ষুণ্ণ রেখেই মা-বাবার সুরক্ষা: সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে অহেতুক বিতর্ক

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮

হেবা অক্ষুণ্ণ রেখেই মা-বাবার সুরক্ষা: সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে অহেতুক বিতর্ক !

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গত ৬ সেপ্টেম্বর ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লিটারে ২০ টাকার আঘাত, পাম্পের দীর্ঘ সারি এবং মধ্যবিত্তের না-বলা দীর্ঘশ্বাস

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫

২০১৬ সাল থেকে মোটরবাইক চালাই। স্পষ্ট মনে আছে, তখনকার দিনে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ছিল ৮৯ টাকা। সেই থেকে আজ পর্যন্ত খুব কাছে থেকে দেখছি—কীভাবে ধাপে ধাপে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

⌛️ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫



প্রাচীন গ্রিক দর্শনের মহান পুরুষ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান বা "নিজেকে জানো" তত্ত্বটি মানুষের ভেতরের ঘৃণা, গোঁড়ামি এবং অজ্ঞানতা দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সক্রেটিসের মতে, মানুষের সমস্ত নৈতিক স্খলন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



রাজধানী ঢাকা সহ দেশের নানা অঞ্চলে টমটম, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন চলাচল করে। বেশ মানুষজন পরিবহন সহ মালামালের বস্তাও টানাটানি করতে দেখা যায়। কিন্তু এইগুলোর দেশ হচ্ছে গ্রাম গঞ্জের বাজার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৪


আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না
আমার ডক্টর উপাধিটি মুছে দিও
জ্ঞানী, কবি, দরবেশ, সাধক, সফল, ব্যর্থ
এসব কোনো শব্দই যেন
মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে আলাদা না করে।

কারণ আমি দেখেছি
অহংকার খুব সূক্ষ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×