somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গন্ধে উদাস হাওয়ার মত উড়ে তোমার উত্তরী, কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরী....

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ফাল্গুন আসে, বাতাসে ভাসে আমের বউল, কৃষ্ণচূড়ার ঘ্রান... মৌ মৌ, মধুকর গুঞ্জনে মুখরিত চারিদিক.....প্রকৃতিতে বাজে মন কেমন করা উদাসী অশ্রুত বাঁশির সুর, এ যেন এক অজ্ঞাত অচেনা আহ্বান!! তবু বহু চেনা। ফেলে আসা দিন, ফেলে আসা ক্ষণ, মনে পড়ে সেই সোনা রঙ দিনগুলি ....মনে মনে গাই .....

গন্ধে উদাস হাওয়ার মত উড়ে তোমার উত্তরী
কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরী.......
তরুন হাসির আড়ালে কোন আগুন ঢাকা রয়
এ কি গো বিস্ময়!!!!!!

অস্ত্র তোমার গোপন রাখো কোন তূনে!!!!!!!!!!!

সে এক বিস্ময়! সে এক ঘোর লাগা ক্ষণ! অদৃশ্য লুকানো তূণে অদৃশ্য অস্ত্রে ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাবার বেলা। এমন ফাগুন দিনেই তো তাহার সাথে দেখা! প্রকৃতিতে তখন বসন্তের হাওয়া। স্নিগ্ধ ভোরের নম্র আলোতে প্রথম চোখাচোখি, প্রথম বিস্ময়, প্রথম ভেঙ্গে যাওয়া । কলেজ গেইটে সেই জারুল গাছের নীচে দাঁড়ানো অফহ্যোয়াইট পাঞ্জাবী আর মোটা ফ্রেমের চশমার মাঝে গভীর অন্তর্ভেদী স্থির দৃষ্টি সারা জীবনের জন্য স্থির চিত্র হয়েই বিঁধে রইলো বুকের মাঝে। অকথিত ভাষাতেও দুটি হৃদয়ের দ্বারে দুটি হৃদয়ের কথা!!

প্রকৃতিতে নিয়ম করেই আসে ফাল্গুন! কবিতা গানে আর গল্পে ফাগুন, মন উতল করা অনুভুতির ছড়াছড়ি আর আমার কাছে ফাগুন মানেই উনিশ বছর, ফাগুন মানেই প্রথম দেখা, প্রথম প্রহরের স্মৃতি!

এমন করেও বুঝি ভালোবাসা হয়! মানুষ প্রেমে পড়ে! ফেলে আসা সোনারঙা দিন আর স্বপ্নে ভেসে যাওয়া রাত্রীগুলির একটি মুহুর্তও এই জীবনে আর কখনও ফিরবেনা তবুও অচ্ছুত স্মৃতিগুলি নিয়েই ফিরে যাই বারেবার সেই উথাল পাথাল দিনগুলিতেই।

বালক বীরের বেশে তুমি করলে বিশ্বজয়!!!!!!!
এ কি গো বিস্ময়!!!!!!!!!
অবাক আমি তরুণ গলার গান শুনে!!!!!!!
দেখা পেলেম ফাল্গুনে.......

সেই বালকবীর! সেই ফাল্গুন আর সেই অদৃশ্য তূণে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রবাণ ! যাতে বিঁধে রইলাম সারাটা জীবন!!! বার বার ফেরে ফাল্গুন, ফেরে ঝরঝর বরিষন মুখর শ্রাবণ রাতগুলিও।

বসন্ত আর শ্রাবণ এই সম্পূর্ণ বীপরিত স্বভাবী সময় দুটি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকে স্মৃতির এলবামে। দুজনে মুখোমুখি গভীরও দুখে দুখী.....স্মৃতির প্রদীপ হয়ে জ্বলে ক্ষীন আলোয়......

ঝরঝর বরিষণ মুখরিত সেই মেঘলা দুপুরে বিশাল মন্দিরের আলো ঝলমলে চাতাল যেন রহস্যময়ী গ্লিটারে আঁকা কোনো ভ্যালেনটাইন গ্রীটিং কার্ডে দেখা ছবি হয়ে যায়। সেই ছবিতে মন্দিরের অনিশ্বেষ সিড়িতেই ফিরে আসার পথে নামে হঠাৎ ঝুপঝুপ বৃষ্টি। সদ্য কৈশোর পেরুনো সে ছবির ছেলেমেয়ে দুটি দৌড়ে গিয়ে দাঁড়ায় এক কোনের খুপরী মত ডিজাইনের ভেতরে। আচমকা বৃষ্টির কারণে দুদ্দাড় সেদিকটা জনশূন্য হয়ে পড়ে ততক্ষনে।

চারিদিকে ঝুমঝুম অবারিত বৃষ্টির কলতান! মৌন মুখর নীরবতায় চারিদিক দিগবিদিকশূন্য! শুধু পথহারা দুটি পাখি দুজনে দুজনার! অধরের কানে জাগে অধরের ভাষা!

সে দৃশ্যপট, প্রকৃতি ও মানবমানবী, যে কোনো অস্কার পাওয়া চলচিত্রের বাণীও বুঝি মৃত হয়ে যায় তার কাছে।

নিয়ম করে প্রকৃতিতে আসে ফাগুন.....বাতাসে তারই গন্ধ ভাসে ...... ছিটকে পড়া সময়, বুকের জমিনে ধুলো জমা স্মৃতি, উঁকি দেয় অযথা হঠাৎ.......
জানিনা আজ কোথায় আছে সে..... কেমন আছে....... তবুও ফাগুনের বাতাসে আজও ভেসে আসে ফেলে আসা গান....হারানো দিনের কুহুতান....ফুরিয়ে যাওয়া কলহাস্যের রিনরিনে সুর......


গন্ধে উদাস হাওয়ার মত উড়ে তোমার উত্তরী
কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরী.......
তরুন হাসির আড়ালে কোন আগুন ঢাকা রয়
এ কি গো বিস্ময়!!!!!!
অস্ত্র তোমার গোপন রাখো কোন তূনে!!!

দেখা পেলেম ফাল্গুনে ....
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:১৮
৪৬টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×