somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেখক ( Episode 2)

১০ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারারাত বিছানায় গড়াগড়ি করার পর যখন ঘুম নামানোর যুদ্ধে পরাজিত হলাম তখন রাত পাঁচটার দিকে নিয়ে বসলাম হুমায়ুন আহমেদ এর “শ্রাবণ মেঘের দিন” । সাদামাটা আবরণে আবৃত অসাধারণ একটি গল্পের স্রোতে এতটাই মজে গেলাম যে কখন ঘন অন্ধকার রাত কাক-ডাকা ভোর পার হয়ে রোদেলা সকালে পরিণত হয়েছে নিজেও বুঝিনি । অনেকদিন পর আবার সেই বইপড়ার অন্তর্নিহিত আনন্দটা টের পেলাম । শেষরাতের ঘন অন্ধকারের আড়ালে লুকানো সুনসান নীরবতায় গল্পের মাঝে ডুব দেয়ার আনন্দই অন্যরকম ।
বইটা পড়ে অনেকদিন পর একটু লিখার জন্য হাতটা নিশপিশ করছে । তাই আজ প্রায় ছয় মাস পর লিখতে বসলাম । জানিনা আগের মতো দিতে পারবো কি না । কথায় আছে অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস । তাও চেষ্টা করতে দোষের কি ?

একজন লেখক সময়ের সাথে পরিণত হতে থাকেন , তার লেখনী গুছানো ও সাবলীল হতে থাকে । এটাই চলমান সাধারণ নিয়ম । কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ হেঁটেছেন ঠিক তার উল্টাপথে । তার প্রথমদিকের লেখাগুলি অসাধারণ রকমের সুন্দর ও ঈর্ষনীয় পর্যায়ের গুছানো । তার শঙ্খনীল কারাগার , নন্দিত নরকে এই বইগুলি যারা পড়েছেন , তারা আমার সাথে একমত হবেন । আজ শ্রাবণ মেঘের দিন পড়ে আমার ধারণাটা নতুন করে পাকাপোক্তও হয়েছে । এই বইগুলি পড়লে আমরা খুঁজে পাই তার সত্যিকার লেখক সত্তাকে যা কিনা প্রায় অনুপস্থিত তার শেষদিকের লেখনীতে । হুমায়ূন আহমেদের লেখা আমি প্রায় পড়া ছেড়েই দিয়েছিলাম , কারণ তার শেষের দিকের লেখাগুলি আমার কাছে ছিলো শুধুমাত্র কিছু কথাবার্তার সমষ্টি, অগোছালো । যদিয়ও লেখনী ও উপস্থাপন অসাধারণ হওয়ায় পড়তে ভালোই লাগে , সময় বেশ কেটে যায় । কিন্তু সেই লেখা পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে অক্ষম , পাঠকের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে অক্ষম , সারবস্তু বিচারে নিষ্ফল । কিন্তু তার প্রথমদিকের লেখাগুলি পড়লে আমার অবাক লাগে । কিভাবে তিনি অসাধারণ নিপুণতায় পাঠকের আবেগ নিয়ে খেলা করতেন , মানব মনের গহীনের কলকাঠিকে নাড়া দিতেন । মনের ভেতর একটি প্রশ্ন খেলা করে । তার লেখার এই আমূল পরিবর্তনের পিছনে দায়ী কে বা কি ? তার ব্যস্ততা কি তবে তার অখণ্ড মনোযোগকে বাধাগ্রস্ত করেছিলো , নাকি ব্যক্তিগত অশান্তি ? আমার ধারনা ব্যস্ততাই মূল , ব্যক্তিগত সমস্যা অণুঘটক হিসাবে হয়তো কাজ করেছে । সময়ের সাথে তার লেখায় মূল পরিবর্তন ছিলও লেখাগুলির শুরু আর শেষের সুরের ভিন্নতায় । এটা তখনই ঘটে যখন লেখক শুধু একটানা লিখতে থাকেন কল্পনার সুসংবদ্ধ সংমিশ্রণ ছাড়াই । একসাথে অনেকগুলি কল্পনা যদি মাথার ভেতর খেলা করে তবে তা দিয়ে আলাদাভাবে কয়েকটি ছোটগল্পের সৃষ্টি সম্ভব , উপন্যাস না । উপন্যাসের জন্য লেখককে এর ভেতরে প্রবেশ করতে হয় , কল্পনায় চরিত্রগুলির সাথে দিনরাত খেলা করতে হয় । এর থেকেই সময়ের সাথে তিলে তিলে সৃষ্টি হয় একটি উপন্যাস । এই জন্য দরকার অখণ্ড মনোযোগ , সুতীব্র বাসনা , সৃষ্টিশীল কল্পনা । ব্যস্ততা হয়তো এর প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিলো ।
তার পরেও বলতে আমরা সবাই বাধ্য যে হুমায়ূন আহমেদ আমাদের বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছেন দুহাত ভরে । তার লেখনী নতুন ধারার সৃষ্টি করেছে । আমরা পেয়েছি অনেক অমূল্য লেখা , যা আমাদের হাসায় , কাঁদায় , আবেগময় করে তোলে । অসাধারণ কিছু চরিত্র , যারা আমাদের মতো পাঠকদের কল্পনায় খেলা করে । এই অসাধারণ লেখককে তাই অন্তর থেকে জানাই অনেক অনেক ভালোবাসা ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১১:৩৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুক্তির মোহে বন্দি জীবন: এক যান্ত্রিক সভ্যতার আর্তনাদ

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯


বর্তমানে আমাদের চারপাশের জীবনযাত্রা যেন এক ধূসর পাণ্ডুলিপি। আমাদের প্রতিদিনের যাপন ক্রমেই রুক্ষ হয়ে উঠছে, যেখানে ব্যস্ততার বেড়াজালে আটকা পড়ে আছে মানুষের সহজ-সরল আবেগগুলো। আমরা যাকে 'উন্নত জীবন' বলছি, তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাসানী-জিয়ার সম্পর্ক ইতিহাসের দায় ও তথ্যবিভ্রাট

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

রাজনীতি কেবল ক্ষমতার পালাবদল বা সংখ্যার খেলা নয় বরং রাজনীতি হলো একটি জাতির আদর্শিক দর্পণ। এই দর্পণে যখন ঘুন পোকায় ধরে তখন ই জাতির পথচলা স্থবির হয়ে পড়ে একটি জাতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'সাংবাদিক আলী' কে বা কারা?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০



এক আজীব জীব এই সাংবাদিক আলীরা! আর কিছু না থাকুক, উটকো কিছু ভাব বা আত্মবিভ্রম ঠিকই আছে তাদের। নিজেদের বুদ্ধির অভাব থাকিলেও অন্যদেরই তারা 'বুদ্ধি নাই' মনে করেন। কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যামিলি কার্ড যদি থাকে, তবে গুম-ভাতা কেন নয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৩৫


পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ দশ ফ্যাসিবাদের তালিকা করলে শেখ হাসিনার নাম ওপরের দিকেই থাকবে। এই শাসনামলে বিএনপি-জামায়াতের হাজার হাজার নিরীহ নেতাকর্মীকে যে আয়নাঘরে বন্দি করা হয়েছিল, তার একেকটা ঘটনা শুনলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×