somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিভৃতচারীর ডায়েরি

১৭ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ ছেলেটি…...

ছেলেটি একটু লাজুক , চুপচাপ । প্রয়োজনে কথা ভালোই বলতে জানে , প্রয়োজন ছাড়া একদম নির্বাক । সবচেয়ে বড় যে সমস্যা , সেটা হল নতুন কেউ বা বিশেষ করে মেয়েদের সাথে কথা বলায় সে একদম অপটু । তালগোল পাকিয়ে ফেলে । অবসরে নিজের মনে গান লেখে , তাতে সুর দেয় আর দোতালার বারান্দায় রেলিঙে বসে গিটারের তারের ছোঁয়ায় তার সেই গানকে পূর্ণতা দেয় । তার গানের একমাত্র শ্রোতা একটি গোল্ডফিস , যার আবাস বারান্দার রেলিঙের পূর্ব-কোন । কখনো কখনো হয়তো সন্ধ্যায় মা কফির কাপ হাতে ছেলের গান শোনেন ।
সামনের ফ্ল্যাটে থাকে একটি মিষ্টি ও দুষ্টু মেয়ে । সমবয়সী তারা , এগার বছর বয়স থেকে প্রতিবেশী । মেয়েটির সাথে ছেলেটির যমজ বোনের অনেক খাতির । তাদের বাসায় প্রায়ই আসে মেয়েটি ।ছেলেটি যে মেয়েটিকে নিয়ে কবে থেকে নিজের মনের সাথে নিজেই লুকোচুরি খেলছে তা নিজেও জানেনা । তার সকল গানেই মেয়েটির অবয়ব অস্পষ্টভাবে খেলতে থাকে । কিন্তু সে যে নিভৃতচারী , তাই তার মনের কথা মনের গহীনেই থেকে যায় । মনের কথাটি বাস্তব রূপ না পেয়ে মনের ভেতর পাক খায় আর গানের কলির মাঝে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় । এভাবেই চলছিল । তার ডায়েরি আর সে নিজে ছাড়া এই সত্য কেউ জানত না । ছেলেটির নাম হৃদয় ।

২ মেয়েটি......

ছটফট আর দুষ্টুমি মেয়েটির প্রধান বৈশিষ্ট্য , কিন্তু কেন জানি এতে কেউ বিরক্ত হয়না । শ্যামবর্ণ মিষ্টি এই মেয়েটির আছে দুষ্টামি ভরা ডাগর দুটি কাজল কালো চোখ , যার দিকে তাকালে যে কেউ বলবে “এই মেয়ে যদি চঞ্চল না হয় তবে কে হবে’’ ? । মেয়েটি গান শোনে , ছবি আঁকে , বাসায় সারাদিন হইচই করে , কিন্তু পাশের বাসার ছেলেটি যখন বারান্দায় বসে উদাসী গলায় গান গায় তখন মেয়েটি অস্বাভাবিক রকমের শান্ত হয়ে যায় । মেয়েটি জানালার পর্দা টেনে দিয়ে পর্দার এপাশ থেকে চুপ করে গান শোনে । দিনের বেলা হয়তো অস্পষ্ট শোনা যায় , কিন্তু গভীর রাতে ছেলেটির মৃদু গলার সুর মেয়েটিকে অন্য এক অপার্থিব পৃথিবীর মাঝে নিয়ে যায় । মেয়েটি এমন এক জাদুর মায়াজালে আবদ্ধ হয় যে এত ছটফট মুখরা মেয়েটি ও ছেলেটির সামনে গেলে কেমন জানি আড়ষ্ট হয়ে যায় । লজ্জায় মাথা তুলে রাখা কষ্টকর কয়ে দ্বারায় । পরে এর জন্য নিজের উপর অনেক রাগ লাগে মেয়েটির , কিন্তু কিছু করার নেই । ছেলেটিকে দেখলেই সেই সুর এসে মেয়েটির বাস্তবতা-বোধ বিলুপ্ত করে দেয় । পারতপক্ষে মেয়েটি তাই লজ্জায় হোক বা অন্য কারণে হোক , ছেলেটিকে দেখলেই পালায় । কিন্তু মনের কোনে ছেলেটিকে নিয়ে অনেক স্বপ্নের মহল গড়ে মেয়েটি , যেখানে ছেলেটিকে দিয়েছে সে রাজপুত্রের আসন । মনে মনে সেই রাজপুত্রের সাথে মেয়েটি ঝগড়া করে, হাসে , কাঁদে , ভালবাসে । কল্পনায় তারা অনেক অনেক গল্প করে , অথচ বাস্তবের রাজপুত্র সেই ছেলেটির তা অজানাই থেকে যায় । বলব বলব করেও মেয়েটির আর বলা হয়না মনের কথা । অব্যক্ত থেকে যায় তার স্বপ্ন । মেয়েটির নাম চন্দ্রা ।


৩ গল্প............

পুস্প , হৃদয়ের যমজ বোন । আজ তার মন খুব খারাপ । দুই বছর আগে এই দিনে সে হারিয়েছে তার সবচেয়ে প্রিয় কাছের বন্ধুটিকে , আজ তার দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী । চুপচাপ হৃদয়ের ঘরে বসে আছে সে । ঘরটি খুব সাজানো গোছানো , প্রচুর বই , একপাশে একটা গিটার। পড়ার টেবিলের পাশেই একটি কম্পিউটার । ঘরটির গত দুই বছরে কোন পরিবর্তন হয়নি , পুস্প হতে দেয়নি । হৃদয় যেমন রেখে গিয়েছিল তেমনই আছে । পুস্প জানে হৃদয় আর কখনো এই ঘরে ফিরে আসবেনা । সে চলেগেছে অনন্তপারে , না ফিরে আসার দেশে , দুই বছর আগে আজকের এই দিনে ।
চোখে পানি নিয়ে হৃদয়ের বইগুলির দেখছিল সে , হাতে নিয়ে পাতা উল্টাচ্ছিলো আর তাতে খুঁজে ফিরছিল হৃদয়ের সৃতি । ভাগ্যের পরিহাসে একসময় হৃদয়ের ডায়রিটা হাতে আসলো তার । পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করল তার ভাইয়ের লুকানো ভালবাসার অজানা এক জগত । কাঁদতে কাঁদতে ভেঙে পড়ল সে , নিয়তির নির্মমতা দেখে ।

৪ পরিশেষ......

ডায়েরিটা পুস্প চন্দ্রার হাতে তুলে দিয়েছিল । কে জানে , হয়তো এতেই হৃদয়ের আত্মা শান্তি পাবে । সেদিন সন্ধ্যায় চন্দ্রা এলোচুলে চুপচাপ ছাদে বসে ছিল , ডায়েরিটা সামনে আধখোলা , আকাশে তখন গুড়গুড় শব্দে মেঘ ডাকছে । যে কোন সময় অঝোর ধারায় ভেসে যাবে পৃথিবী । চন্দ্রা অপেক্ষায় আছে , মনে ক্ষীণ আশা হয়তো তার মনের চাপা কষ্ট ধুয়ে যাবে শ্রাবণের বর্ষণে । বৃষ্টির প্রথম ফোটাটি নিচে নেমে এসে মিলিত হল চন্দ্রার চোখের জলের সাথে । উপরের দিকে চোখ তুলে তাকাল সে , বুক চিরে বেরিয়ে এলো এক ফিসফিস হাহাকার “ তুমি যেখানেই থাক , আমি জানি তুমি শুনছ । শুধু জেনে রেখ চন্দ্রা আজও তোমায় ভালবাসে , ভালবাসবে সারাজীবন ’’
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুক্তির মোহে বন্দি জীবন: এক যান্ত্রিক সভ্যতার আর্তনাদ

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯


বর্তমানে আমাদের চারপাশের জীবনযাত্রা যেন এক ধূসর পাণ্ডুলিপি। আমাদের প্রতিদিনের যাপন ক্রমেই রুক্ষ হয়ে উঠছে, যেখানে ব্যস্ততার বেড়াজালে আটকা পড়ে আছে মানুষের সহজ-সরল আবেগগুলো। আমরা যাকে 'উন্নত জীবন' বলছি, তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাসানী-জিয়ার সম্পর্ক ইতিহাসের দায় ও তথ্যবিভ্রাট

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

রাজনীতি কেবল ক্ষমতার পালাবদল বা সংখ্যার খেলা নয় বরং রাজনীতি হলো একটি জাতির আদর্শিক দর্পণ। এই দর্পণে যখন ঘুন পোকায় ধরে তখন ই জাতির পথচলা স্থবির হয়ে পড়ে একটি জাতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'সাংবাদিক আলী' কে বা কারা?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০



এক আজীব জীব এই সাংবাদিক আলীরা! আর কিছু না থাকুক, উটকো কিছু ভাব বা আত্মবিভ্রম ঠিকই আছে তাদের। নিজেদের বুদ্ধির অভাব থাকিলেও অন্যদেরই তারা 'বুদ্ধি নাই' মনে করেন। কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যামিলি কার্ড যদি থাকে, তবে গুম-ভাতা কেন নয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৩৫


পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ দশ ফ্যাসিবাদের তালিকা করলে শেখ হাসিনার নাম ওপরের দিকেই থাকবে। এই শাসনামলে বিএনপি-জামায়াতের হাজার হাজার নিরীহ নেতাকর্মীকে যে আয়নাঘরে বন্দি করা হয়েছিল, তার একেকটা ঘটনা শুনলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×