somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

X( গাজরের জ্যুস আর X(( ব্যাচেলর চা খাওয়ার অভিজ্ঞতা !! :(

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আমরা ৪ - ৫ জন কয়েকদিন আগে গিয়েছিলাম শপিং এ ... সুপারমার্কেট থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় সব জিনিস কিনে যে যে যার যার বাসায় রওনা দেয়ার জন্য বিদায় জানাতেই আমাদের মধ্যে একজন (নতুন প্রবাসী ভদ্রলোক) বললেন -- আরে ভাই এখন বাসায় গিয়ে কি করবেন, পাশেই আমার বাসা, এক কাপ চা খেয়ে যান ... আমি আজকাল বেশ ভাল রান্না করতে পারি ... রাতে না হয় খেয়ে ও যাবেন ... রাতে খাবনা কিন্তু চা খাওয়া যেতে পারে শুনে উনার চোখে এমন আনন্দের ঝিলিক দেখা গেল যে মনটা ভাল হয়ে গেল, কিন্তু কে জানতো একটু পরেই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য অবিস্মরনীয় অভিজ্ঞতা ....

উনার বাসায় পৌছে , ঘরে ঢুকতেই সামনে এনে রাখলেন কুকিজ, চিপস আরো হাবি জাবি অনেক কিছু... আমরা বললাম না রে ভাই শুধু চা খাব আজকে ... চলেন আপনার কিচেনে গিয়ে একসাথে চা বানিয়ে আনি ... উনি রিতিমতো হুংকার দিয়ে বললেন আরে আপনারা আমার মেহমান আমার বাসায় এসে নিজেরা কেন চা বানাবেন ? .... আমরা বললাম আরে ভাই , আমরা এখানে সবাই ব্যাচেলর ... এখানে সবাই আমরা যে বাসাতেই যাই একসাথে রান্না করি ... এটা কোন ব্যাপার না .... কিন্তু তিনি তার কথায় অনড় ... উনি নাকি এক মাস এখানে থেকে অনেক কিছু রান্না করা শিখেছেন ... তাই আজকে কোনভাবেই আমাদের সাহাজ্য নিবেন না ... আমরাও আর জোরাজুরি না করে বললাম -- ঠিকাছে , আজকের চা আপনিই বানান ... আমরা ড্রইংরুমে বসি ...

চায়ের পানি চড়িয়ে দিয়ে উনি বললেন -- ভাই আপনাদের একটা স্পেশাল জ্যুস খাওয়াই, .... নিজের হাতে বানানো... শপিং এ যাওয়ার আগে এটা বানিয়েছি বলতে বলতে দেখি এক জগ গাজরের জ্যুস আমাদের সামনে এনে হাজির করলেন ... বললেন -- আজকেই জ্যুস বানানোর ম্যাশিনটায় প্রথম জ্যুস বানালাম ... ফ্রেস জ্যুস খাওয়ার মজাই অন্যরকম ... বলতে বলতে তিনি আমাদের সবার জন্য গ্লাসে জ্যুস ঢেলে দিলেন ... ঐ দিকে তার চা প্রায় হয়ে গেছে বলে আমাদেরকে গাজরের জ্যুস খেতে বলে উনি কিচেনে চলে গেলেন ....




প্রথম চুমুকে আমরা কেউই বুঝিনি আসল কাহিনী কি ... আরেকটু খাওয়ার পরে সবাই বুঝতে পারলাম -- এই জ্যুসের ভিতরে আদা দেয়া হয়েছে ... আর চিনির কোন নাম গন্ধ নাই ... একটু পরে উনি চা নিয়ে ঘরে ঢুকে জিজ্ঞেস করলেন -- কেমন লাগলো আপনাদের ?
আমরা সবাই বললাম -- জিনিস তো ভাল তবে একটু অন্য রকম !
ঘটনা বুঝতে পেরে উনি গর্বিত হাসি উপহার দিয়ে বললেন -- আসলে হয়েছে কি জানেন , চিনি আমাদের সাস্হ্যের পক্ষে খারাপ, এ জন্য চিনি দেইনি ...
আমাদের একজন বললো -- আর আদা ???
উনি বললেন -- গাজর মূলত ঠান্ডা জিনিস, শীতের দেশে এভাবে গাজর খেলে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা আছে ... এ জন্যই এর সাথে আদা দিয়েছি যাতে এই জ্যুস খাওয়ার ফলে কারো ঠান্ডা না লাগে ...

উনার বক্তব্যে কি যে বুঝলাম তা নিজেই বুঝলাম না বলে বললাম -- ভাই চা দেন (মনে মনে বলছি এই জ্যুসের টেষ্ট অন্তঃত গরম চা দিয়ে মুখ থেকে মুছে ফেলা যাবে)

ধুমায়িত রং চা সামনে আসতেই মনটা আনচান করে উঠলো এক চুমুক চায়ের জন্য ...

কিন্তু যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয় টাইপ অবস্হা সেদিন আমাদের ...

চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আমরা সবাই একে অপরের দিকে তাকাচ্ছি আর চিন্তা করছি চায়ের স্বাদ তো এমন হওয়ার কথা না ....

আমাদের মুখের অবস্হা দেখে হো হো করে হেসে উঠে ঐ লোক বললেন ---

ঠান্ডার দিনে খেলে ভাল লাগবে বলে উপকার হবে ভেবেই রং চা বানিয়েছি , আর একে আরেক্টু টেষ্টি করার জন্য এর মধ্যে -- লবঙ্গ, দারুচিনি, এলাচ, ধনিয়া আর জিরা দিয়েছি ....

আমরা একসাথেই বলে উঠলাম -- তাহলে মরিচ আর লবন কি দোষ করেছিলো ওগুলো বাদ দিলেন ক্যান ? :|



সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:২২
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×