somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপলক
আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

কোন অঞ্চলের রান্নার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কেমন?

০৮ ই মে, ২০২৫ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উত্তারাঞ্চল: উত্তারাঞ্চলের ছেলে আমি। আমাদের এদিকে খাবারের তেমন কোন আহামরি বৈচিত্র নেই। কিন্তু অন্য অঞ্চলের যারা খায়, তারা মনে রাখে রান্নার স্বাদ। একই মেনু একেক রাধুনীর হাতের রান্না একেক রকম। মশলা হিসেবে, কমন কিছু গরম মশলা যেমন ডারচিনি, সাদা এলাচ, কাল এলাচ, লং, আদা রসুন পেয়াজ... ব্যবহার করে সবাই।

তবে পুরপুরি বা চচ্চরিতে বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। অন্য অঞ্চলে আমি অবশ্য এই মেনুটা কমই দেখিছি। এক ঘেয়েমি খাবার উত্তারাঞ্চলের মানুষ তেমন একটা পছন্দ করে না। প্রচুর শাক সবজি তাদের পছন্দ। আসলে কত জাত বেজাতের শাক পাতা, এরা যে খায় তার শেষ নেই।
বাসা বাড়িতে কমন খাবার রেসিপি হল, গরুর ঘন ভুনা, গরুর কসানি, আলু ঘাটি, মাঝারি মাছের সবজির ঝোল, আলুর নানা পদ। রংপুরের মানুষ অবশ্য আদা গাছের মত অন্য একটি মশলা জাতীয় গাছ ব্যবহার করে, সেটা দিলে গরম মশলা দেয়া লাগে না। সাবধান: রংপুর কুড়িগ্রামের মানুষদের দাওয়াত দিলে মনে রাখবেন একজন আসলে একজন না, ২ থেকে ৩জনের খাবার খাবে।

হাঁসের ভুনা মাংস খেতে গেছি ভাবির হোটেলে। আহামরি কিছু না, তার চেয়ে আমার ঘরনী বা মাউই মা হাসের মাংস অসম্ভব ভাল রান্না করে।

দক্ষিনাঞ্চল: চুই ঝাল চুই ঝাল শুনতে শুনতে অস্থির। কয়েক হোটেল এবং আত্মীয়ের বাসায় (বৈবাহিক সূূত্রে) খেলাম। আহামরি কিছু না। তবে নারকেলের বহু আইটেম খাবার বানাতে পারে তারা। তালের গুর বা গোল পাতার গুড় অন্য রকম স্বাদের। আমার দেখা মতে, খুলনা ডিভিশনের মানুষরা সবচেয়ে বেশি প্রকারের পিঠা বানাতে পারে। এত এত বৈচিত্রময়, যে পিঠা মেলাতেও দেখা যায় না। অনেক মাছও খায় তারা। তবে বরিশাল পটুয়াখালির মাছের পদ বেশির ভাগ সময় আমি ট্যাল ট্যালা টাইপের ঝোল পেয়েছি। চিংরিও ভাল রান্না করে। আর যাই হোক উত্তর বঙ্গের মত হয় না। খাবারের স্বাদে সেরা উত্তর বঙ্গের খাবার।

পূর্বাঞ্চল: পূর্বাঞ্চল তো সিলেট ডিভিশনও বুঝায় আবার চিটাগং ডিভিশনও ভাবতে হয়। সিলেটের কথা বলতে পারি। তারা শুটকি আর সিদল পাগল। প্রচুর মাছ খায়। দু:খের বিষয় এরা মাছ বা শুটকি উত্তারাঞ্চলের মত স্বাদের বানাতে পারে না। আমি উত্তরবঙ্গের ছেলে বলে বলছি না। আসলেও তাই। আর একটা ব্যাপার। চায়ের দেশ সিলেট হলেও, ওরা ভাল চা বানাতে পারে না। শাক পাতা খুব কমই খায়। প্রচুর পান খায়। আপনি কোথাও স্বজনে গাছ খুজে পাবেন না, খেজুর বা তাল গাছ খুবই রেয়ার। এ গুলো থেকে যেকোন খাবার, তাদের খাবার মেনুতে অনুপস্থিত। বলা ভাল খুবই কম। তবে আখনি, সাতকরা দিয়ে গরুর গোসত বা বিফ রেসিপি খুব খায়। সত্য বলতে সাতকরা দিয়ে খাবার আইটেম গুলা খুব একটা স্বাদের কিছু না। হিন্দুদের মেনুতে মশলার অনেক বৈচিত্র আছে। তাদের সবজির পদ গুলো চমৎকার হয়। চা শ্রমিকদের বা মনিপুরিদের খাবার সম্বন্ধে তেমন ধারনা নেই।

চিটাগং এর কালো ভুনা খেয়েছি। এক কথায় দারুন। তবে পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলের খাবার দাবার ব্যাপারে আমার তেমন একটা ধারনা নেই। তবে আপনারা যারা পড়ছেন, দয়াকরে কমেন্টে জানাবেন।

ঢাকা ডিভিশন বা মধ্যাঞ্চলের কথা আর নাই বলি। এরা কি যে খায় আর না খায়। এদের এখানে সব চলে। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা শ্রেণীর মানুষ ঢাকায় আসে। তাদের ক্রিয়েটিভিটির অভাব নাই। আসলে জীবন যেখানে যেমন। প্রতিযোগিতা মানুষকে বদলে দেয়।



খাবার খেতে খুব যে পছন্দ করি তা না। তবে ভাল হলে, প্রশংসা না করে পারি না। বগুড়ার দই কম বেশি প্রতি মাসেই খাওয়া হয়। মহস্থান গরের কটকটি, কুমিল্লার মাতৃভান্ডারের রসমালাই, সাতক্ষীরার মিষ্টি, নাটোরের কাঁচা গোল্লা, বগুড়ার এশিয়ার মিষ্টি, দিনাজপুরের তিলের জিলাপি, পুরান ঢাকার হালিম, বাগমারার গোপালভোগ, রংপুরের হাড়িভাঙ্গা, চাপায়ের হিমসাগর, বরিশালের আমড়া, বগুড়ার আলুঘাটি, সিলেটের হাওরের বোয়াল/রুই/কালি বাউস মাছ, খুলনার ভাগান/ভেটকি মাছ, পদ্মার ইলিশ, শ্রীমঙ্গলের লাড্ডু আনারস, খুলনার সফেদা, চিরিরবন্দরের লিচু, আর অন্যদিকে মা + ঘরনীর হাতের রান্নার ভক্ত আমি।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২৫ বিকাল ৫:৪৩
৩টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রোফাইল ফ্রেমের আগে: ২০০৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের ব্লগগুলি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:২২

বিশ বছর আগে, ২০০৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে সামহ্যয়ার ইন ব্লগে কী লেখা হচ্ছিল—এই প্রশ্নটি কেবল নস্টালজিয়ার নয়, বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিসরের এক প্রাথমিক মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার প্রশ্ন।



আজ যখন আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তরের ইতিহাস অন্য কিছুর সঙ্গে মিলবে না, সত্যিই?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×