somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপলক
আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

ডাক্তাররা সামনে আরও পিটুনী খাবে... প্রতিকারের সময় এখনি

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দেশে রুগির চেয়ে ডাক্তার, নার্স বা সরকারী সেবা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা অনেক কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৯ জন। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জনমিতি জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে পল্লী চিকিৎসকের (Rural Medical Practitioners বা Village Doctors) আনুমানিক সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও জনমিতি জরিপ অনুসারে, যেকোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২% থেকে ১৫% মানুষ কোনো না কোন কারনে রুগী বা চিকিৎসকের সরনাপন্ন হয়। সে হিসেবে দেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ প্রতিদিন ডাক্তারের কাছে যান। অর্থাৎ গড়ে একজন ডাক্তারের বিপরীতে ২২৭ জন রুগি বাংলাদেশে বিদ্যমান।

বাস্তবতা হল, সব রুগি ডাক্তারের কাছে যান না। তাদের কেউ আগের প্রেসক্রিপশন ফলো করে, কেউ ডিসপেনসারী থেকে অন্যের উপদেশ মত ওষুধ কিনে খায়, কেউ আছে টাকা বা অন্য কোন কারনে ডাক্তারের কাছে যায়-ই না। সে হিসেবে একটি বেসরকারী জরিপ বলছে, একজন ডাক্তারের কাছে গড়ে প্রতিদিন ৩৫-৪৫ জন বা গানিতিক ভাবে ৪০জন রুগী প্রতিদিন একজন ডাক্তারের কাছে যান।

একজন সরকারের নিবন্ধনকৃত ডাক্তার দিনে ৭ ঘন্টা সেবা দেবার কথা। বস্তবতা হল ওনারা গড়ে ৩ ঘন্টাও দেন না। আবার দিনে রাতে ৬ ঘন্টা ঘুমানোর সময় পান না। তাহলে বাকি কর্ম ঘন্টা কি করেন?

৭ ঘন্টা না হোক ৫ ঘন্টা সেবা দিলেও ৪০ জন রুগি সরকারী হাসপাতালে গড়ে ৮ মিনিট সময় পান। বাস্তবতা হলো, কোন রুগি ২ মিনিটের উপর সময় পান না। আউটডোরের রুগি ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকে আর বারায়। ওর্য়াডে রাউন্ড দিতে গিয়ে ২০০ রুগি দেখে ২০ মিনিটে। ডাক্তাররা সময় মত হসপিটালে না আসুক, সময় মত বেরিয়ে যান, সেটা দুপুর দুটা বা বিকেল ৪ টা তাদের রুটিন অনুযায়ী।

এর ফাঁকে তারা মেডিকেল রিপ্রিজেনটিভদের সময় দেন, কেউ কেউ বাচ্চাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসেন, কেউ কেউ নাস্তা খান, ফোনে লম্বা সময় আলাপ করেন, অফিসিয়াল মিটিং সারেন, বা অন্য কলিগের রুমে গিয়ে আড্ডা দেন। অন্যদিকে যদি ব্যক্তিগত ক্লিনিক থাকে, ভিআইপিদের ফোন কলে দৌড় দেন।

এদিকে ইন্টারনি ডাক্তাররা নাইট ডিউটি পেলে বেশির ভাগ দারুন খুশি। কারন রাতে কাজ কম। সারারাত মুভি দেখা, ফেসবুকিং বা কলিগদের সাথে আড্ডা আর প্রেমালাপে ভালই কাটে।

শহর বা নগরের হসপিটাল / ক্লিনিকে চাপ সত্যিকার অর্থেই অনেক বেশি। কারন থানা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার নার্স থাকে না। থাকলেও প্রয়োজনে পাওয়া যায় না। সবগুলো যদি সচল করা যেত এবং জবাবদিহিতার অধীনে আনা যেত, তাহলে শহরের চিকিৎসালয়ে চাপ কমত। সেই সাথে শহরের ডাক্তারদের ব্যক্তিগত প্রাকটিস কমিয়ে আনা দরকার। তাদের ইনকামে লাগাম টেনে ধরা দরকার। দেশে বর্তমানে ৪০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা ভিজিটের ডাক্তার আছে। কারও কারও কাছে ৩ মাস আগে সিরিয়াল নিতে হয়।

শহুরে ডাক্তারের উপর চাপ বাড়লে, মানসিক বিকারগ্রস্ত হবেই, ধৈর্য্য হারাবেই। ডাক্তাররাও মানুষ। যেহেতু বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন সহজে হবে না। রুগীর স্বজনরা ধৈর্য্য হারিয়ে ডাক্তারদের উপর চড়াও হবেই। বরং দিনকে দিন বাড়বে। রাগ উঠলে ঝি কে মেরে রাগ মেটানোর মত ইন্টার্নি ডাক্তাররা পিটন খেয়েছে। সামনে সিনিয়ররা খাবে।

নিজের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। রাস্তায় চলার সময় টমটম এসে আমাকে আঘাত করে। তাতে হাত কেটে যায়। ৬টা সেলায় লেগেছিল। সিলেট ওসমানি মেডিকেলের এক ইন্টার্নি ডাক্তার আমার সেলাই করতে গিয়ে একটা সুই বেকে ফেলে, ২য় একটা সুই দিয়ে সেলাই (স্টিচ) করার সময় তার হাত বৃদ্ধ মানুষের মত কাঁপছিল। এই যদি ইন্টার্নি ডাক্তারদের অবস্থা হয়, আর তাদের জরুরি বিভাগে বসিয়ে রাখা হয়, তাহলে কত ক্ষণ আপনি ধৈর্য্য ধরে রাখবেন?



গতপরশু বগুড়া জিয়ায়ূর রহমান মেডিকেল কলেজে, ইন্টার্নি ডাক্তাররা সংবাদ সম্মলনে বলল, মৃত রুগির স্বজনরা হামলা করেছে। কিন্তু পুলিশ গিয়ে দেখল, রুগির স্বজনরা আহত। দুজনের হাত ভেঙ্গেছে, ৪ জনের কেটে ছিড়ে গেছে। কারও গায়ে কাপড় নেই, মারধোরে ছিড়ে গেছে। কিন্তু কোন ইন্টার্নি ডাক্তার তেমন আহত হয়নি। তাহলে বুঝুন এই সব ইন্টার্নি ডাক্তাররা কতটা বেপরোয়া, সেবা না দিয়ে মারধোর করে বেড়ায়। সবচেয়ে অমানবিক কাজ হল, গত ২ দিন হল তারা কর্মবিরতিতে আছে। আমার কাছে এরা হল ট্যালেন্ট অমানুষ নির্লজ্জ বিবেগহীন ইন্টার্নি ডাক্তার। যাদেরকে নিজের হাতে বিচার তুলে নেয়া এবং কর্মবিরতিতে যাওয়ার জন্যে আইনের আওতায় শাস্তি দেয়া খুব জরুরি। নচেৎ এটাকে উদাহরন হিসেবে নিয়ে, সারা বাংলাদেশের ডাক্তার সমাজে এই সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়বে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ছেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২১

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -

কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×