somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কসম মিথ্যার অন্য না্ম।।

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৯:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লিয়ানা পার্কের একটি বেঞ্চিতে বসে রায়হানের অপেক্ষা করছে। অপেক্ষা করা বিরক্তিকর ব্যাপার তবু সে করছে কারণ আজ সে এটার একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বে। রোজ এভাবে বসে থাকা যায়না। লিয়ানা মোবাইল বের করে রায়হানকে ফোন দিল কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার রায়হানের ফোন ব্যস্ত দেখাচ্ছে।
পিছন থেকে একটি ছেলে বলে উঠল, আমি কি এখানে একটু বসতে পারি?
জ্বি পারেন। এটা আমি কিনে রাখিনি , আপনি চাইলে বসতে পারেন।
ছেলেটি আর কিছু না বলে সন্তপর্নে বসে পড়ল। ছেলেটির হাতে বাদামের কৌটা । আপন মনে বাদাম ছিলছে আর খাচ্ছে,যেন তার মনে কোন চিন্তা নাই। সে বাদাম খাওয়ার জন্যেই জন্মেছে। ছেলেটির বাদাম খাওয়া দেখে লিয়ানার রাগ লাগছে। ছেলে মানুষ হয়ে এভাবে একা একা বসে কেন বাদাম খাবে? লিয়ানার রাগ একটু বেশি রাগের মাথায় কি করে বসে তা সে নিজেও জানেনা। আজ সে একটি নীল শাড়ি পরে এসেছে। রায়হানের অনেক দিনের শখ তাকে নীল শাড়িতে দেখতে। সে নীল শাড়ির সাথে মিলিয়ে নীল চূড়িও পরেছে। লিয়ানা্র বার বার ফোন ডায়াল করা দেখে ছেলেটি বলল, আপনি কি কারো অপেক্ষা করছেন?
জ্বি।
কার অপেক্ষা করছেন?
কার অপেক্ষ করছি বুঝেন না? পার্কে কেউ জামাইয়ের অপেক্ষা করেনা । বি এফ এর অপেক্ষাই করে।
ওহ আচ্ছা।
ছেলেটি এমন ভাবে ওহ আচ্ছা বলল যেন লিয়ানা এমনি এমনি অপেক্ষা করছে। লিয়ানার আবার রাগ লাগছে। রাগের মাথায় সে ছেলেটি কে বলল, আপনি এখান থেকে উঠুন?
কেন? উঠব কেন?
উঠুন বলছি। ওই বেঞ্চিতে গিয়ে বসেন। ওটা খালি আছে।
ছেলেটি উঠতে উঠতে বলল, আপনার ফোন নাম্বারটা দিবেন?
কি বললেন?
আপনি নিশ্চয় বয়রা না। আমি যা বলেছি তা আপনি শুনেছেন।
কেন? আমি আপনাকে নাম্বার দিব কেন?
আপনাকে আমার ভাল লেগেছে। আপনার সাথে বন্ধুত্ব করব।
কিন্তু আমি তো আপনার সাথে বন্ধুত্ব করব না।
না করলে না করবেন। তবু নাম্বারটা দেন,কিছু কথা বলব।
যা বলার এখানেই বলেন।
সামনা সামনি বলা যাবেনা।
না বলা গেলে নাই। এখন ফুটেন।
ছেলেটি চুপচাপ গিয়ে পাশের বেঞ্চিতে বসে পড়ল।
ছেলেটির চুপচাপ বসে থাকা দেখে লিয়ানার খুব হাসি পাচ্ছে। একটি ছেলে থাকে ভয় পেয়ে চুপচাপ বসে আছে।
রায়হানের কোন খোজ খবর নেই। লিয়ানা ঠিক করল আজ চলে যাবে। রায়হান হয়ত কোন সমস্যায় পড়েছে।
যাওয়ার জন্য লিয়ানা উঠতেই ছেলেটি আবার এসে বলল, শুধুই তো বন্ধুত্ব করতে চেয়েছি। বিশ্বাস করেন এর বেশি কিছু না। এই দেখেন কসম কেটে বলছি। ছেলেটি সত্যি সত্যি গলায় হাত দিয়ে ধরে কসম কেটে দেখাল।
লিয়ানা বলল, আচ্ছা লিখুন নাম্বার।
ছেলেটি নাম্বার পেয়ে চলে গেল।
রাত দশটার দিকে ছেলেটি ফোন দিল, কেমন আছেন?
কে বলছেন?
অই যে নাম্বার দিয়েছিলেন।
হ্যাঁ ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন?
খুব ঝামেলায় আছি।
কেন কি হইছে?
আর বইলেন না নতুন একটা বাইক কিনেছিলাম কিন্তু ওটার হেড লাইটে একটু সমস্যা।
তাই নাকি আপনার বাইক আছে নাকি?
জ্বি আছে।
ওমা তাই ?
জ্বি তাই।
আপনার বাইকের মডেল কি?
আর ওয়ান ফাইভ।
সত্যি বলছেন আপনার আর ওয়ান ফাইভ আছে?
হুম।
আচ্ছা আপনার বাইকের পিছনে কয়টা মেয়েকে বসাইছেন?
একটাও না। আসলে সেরকম মেয়ে পাইনি তো তাই। কিন্তু আপনাকে দেখে মনে হইছে আপনি হবেন সেই মেয়ে যাকে আমি প্রথম আমার বাইকের পিছনে বসাব।
সত্যি আমাকে দেখে এটা ভাবছেন? ইশ আমার কি যে ভাল লাগছে।
সত্যি বলছি। এই দেখ কসম কেটে বলছি।
এই চিটিং বাজ ফোন রাখবি? তোর মত অনেক চিটিং বাজ জীবনে দেখছি। তুই প্রথম না। তোর আর ওয়ান ফাইভ আছে তাইনা? থাপ্পড় দিয়ে সব কটা দাত ফেলে দিব।
লিয়ানা ফোন কেটে দিল। যেসব ছেলে ও মেয়েরা কথায় কসম কাটে তারা খুব মিথ্যুক হয়।

লেখকঃ চৌধুরী মোহাম্মদ ইমরান
এম সি কলেজ, সিলেট।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৯:২৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×