ক্লাস শেষ করেই ঘড়ি দেখলাম। বারোটা পঞ্চান্ন।
আকাশের অবস্থা একই সাথে ভালো আবার ভালোনা।আজকাল প্রায়ই এমন হচ্ছে।"এই মেঘ এই রোদ্র" টাইপ।মাঝেমধ্যে মনে হয় আকাশও বুঝি দোটানায় পড়েছে।বৃষ্টি হবে কি হবে না এই বিষয় নিয়ে গভীর দোটানা। বৃষ্টি নিয়ে মাথা ঘামাতে ইচ্ছা করলোনা। ইদানিং বৃষ্টি জিনিসটা কেমন জানি ডাল ভাত হয়ে গেছে।ডাল ভাত যখনই আসুক মানুষ কিভাবে কিভাবে জানি সামলে নেয়।
মাথাটা খালি করতে ইচ্ছে করছে। পারছিনা। নেটওয়রকিং এর টাইম ভ্যালুর সূত্রটা মাথায় ঘুরছে। ফালতু সুত্র।জটিল সুত্র মাথায় নিয়ে ঘুরতে ভালো লাগে,ফালতু সুত্র না। আপাতত ফালতু সূত্রটা মাথায় নিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। উদ্দেশ্যহীন হাঁটা। আমার উদ্দেশ্যহীন হাঁটার কথা না। বাসায় যাবার কথা। বাসায় যেতেও ইচ্ছে করছেনা। কেমন জানি ভ্যাবসা গরম পড়েছে। সেই সাথে লেগেছে ক্ষুধা। ব্যাগে কেক আছে। বের করলাম না। কেকের ক্ষুধা লাগেনি, ভাতের ক্ষুধা লেগেছে। গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত। সঙ্গে এক চামচ ঘি, পাবদা মাছের ঝোল আর মুড়িঘণ্ট।
আমার মানুষ দেখতে ভালো লাগে।দেখতে বলতে অনেকটা পর্যবেক্ষণ করতে ভালো লাগে। এক একটা মানুষের মনের কথা এক এক রকম। চোখের ভাষা এক এক রকম। সেই ভাষাগুলো বুঝার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ-বেদনার মিশ্রিত অনুভূতি কাজ করে।
আমি হাঁটছি। রোদটা বেড়েছে। কিছদূরে একজন ট্র্যাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন। বেচারা দর দর করে ঘামছেন। চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। চোয়াল খানিকটা ভেতরে।দেখে খুবই ক্লান্ত মনে হচ্ছে নিজের পরিবারের জন্য কতই না কষ্ট করছেন।হয়তো তাঁদের মুখগুলি মনে করে কষ্ট ভুলে আছেন। আচ্ছা, আমি যেভাবে ভাবছি মানুষটাকি আসলেই তাই? নাকি তার মনে এখন নিকৃষ্ট কোন অনুভূতি! সে কি ভাবছে? কিভাবে সামনে থেকে আসা রিক্সাগুলোকে থামিয়ে চাঁদা আদায় করা যায়!!
লেকের কাছাকাছি আসতেই বৃষ্টি শুরু হলো।ঝুম বৃষ্টি। দৌড়ে একটা ছাউনিতে দাঁড়ালাম। সেখানে নানান ধরনের মানুষ। নানান ধরনের গল্প। নানান কাহিনী আর অঙ্গভঙ্গি। আমার ব্যাগে ছাতা আছে। বের করতে আলসেমি লাগছে।অবশ্য এই বৃষ্টি ছাতায় মানবে না। ভেল্পুরি ওয়ালা একদৃষ্টে বৃষ্টি দেখছেন। তার চোখেও হয়তো ভেসে উঠছে প্রিয়তমার মুখ। দুটো চড়ুই পাখি ছাউনির উপরে বসে আছে। আচ্ছা!তাঁদেরও কি গল্প আছে? হয়তো আছে। কয়েকটা বাচ্ছা স্কুলব্যাগ নিয়ে মনের আনন্দে বৃষ্টিতে ভিজছে। আমারও খুব বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছা করলো। নেমে গেলাম। বৃষ্টির বেগ বাড়ছে। ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে খারাপ লাগছেনা। দুই তিন বার হাঁচি দিয়ে ফেলেছি। মুনা থাকলে এতক্ষণে হয়তো রেগে মেগে একাকার হতো। বৃষ্টি থেকে তুলে মাথা মুছতে অস্থির হতো। এই রাগ মাখা মমতা কিংবা ভালোবাসা কখনই উপেক্ষা করা যায়না।
আমার ফোনের চার্জ শেষ। নিশ্চয়ই মুনা অনেকবার ফোন দিয়েছে। না পেয়ে টেনশন করছে। মুনার অনেকদিনের শখ আমার সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজবে। তার এই শখ আমি কোনোদিন পুরণ করতে পারিনি।হয়তো পারবো, হয়তো পারবো না। আচ্ছা, মুনা কি জানে?প্রতিবার বৃষ্টিতে ভিজে ওর জন্য এই গানটা গাই,
"Can you hear my rainy day song
Calling from the street below
Baby, since I've been without you
Well, it's the only song I know"
না জানুক।কিছু কথা থাকুক গোপন।
বৃষ্টি থেমে গেছে। আমি থেমে নেই। আমার চলছে উদ্দেশ্যহীন হাঁটা।
আমার চারপাশে মানুষ। অনেক মানুষ। মানুষের সমুদ্র। আমি মানুষের সমুদ্রে মিশে গেছি। শুধু মিশে যেতে পারিনি তাঁদের গল্পে। একাকী নিঃসঙ্গ মানুষ কারো গল্পে মিশে না। তাঁরা থাকে গল্পের আড়ালে, অন্য গল্পে।
সে গল্প চলে দিগ থেকে দিগন্তে......।।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৭ রাত ২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


