somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রিয় শিক্ষক -মুহাম্মাদ আলী স্যার(ই.ই.ই. বুয়েট)

১৪ ই মে, ২০১০ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ক্লান্ত বিকাল।পলাশী থেকে নীলক্ষেতের মধ্যবর্তী ফুটপাথ। একজন বয়স্ক লোক হেটে চলেছেন মন্থর গতিতে। দুটি হাতই পিছনে, সে দুই হাতে ধরা আছে ম্যাগাজিন বা কাগজ কিছু একটা । গন্তব্য নীলক্ষেত।খুব সম্ভবত: মডার্ণ বুক সেন্টার।অন্য মনষ্ক বা কোন গভীর চিন্তায় মগ্ন।মডার্ণ বুক সেন্টারের ভাষ্যমতে এই ব্যক্তিটিই সবচেয়ে বেশী বই কেনেন।এই আজীবন শিক্ষক (এবং অবশ্যই আজীবন ছাত্র)আর কেউ নন, তিনি বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড: মুহাম্মাদ আলী চৌধুরী।যারা স্যারের ক্লাস করেছেন তারা জানেন মুহাম্মাদ আলী স্যার কি?আমি সেই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে একজন।সেটা অবশ্য অনেক বছর আগের কথা। স্যার তখন বসতেন ই.এম.ই বিল্ডিং এর নীচ তলায়(এখন যেখানে লিফ্ট হয়েছে)।এখন অবশ্য বসেন ও.এ.বি বিল্ডিং এর নীচ তলায়।সবাই বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেও স্যার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় যেতেন হয়তো শুধু ঘুমানোর জন্য।মানে বুঝতেই পরছেন বুয়েট ক্যাম্পাসই স্যারের ঘরবাড়ি।স্যারের রুমে সবসময় থাকত সেভেন আপ আর চানাচুর।এই পৃথিবীতে সবাই কোন না কোন দায়িত্ব নিয়ে আসে। স্যার বুঝি এসেছিলেন শুধু নিজেকে বিলিয়ে দেবার জন্যই।মেশিন বা পাওযার ইলেকট্রনিকস্ এর মত দাপুটে সাবজেক্ট তিনি পড়াতেন অত্যন্ত সাবলীলভাবে। যখন যেটি পড়াতেন মনে হত সেটি চোখের সামনে উঠে এসেছে,এবং এর মত সহজ বিষয় বুঝি আর কিছুই নেই।আমি জানি এখনও স্যার একইভাবে পড়ান।বয়সের ভার বাড়লেও তা হার মেনেছে ভিতরে লুকিয়ে থাকা চির সবুজ তারুণ্যের কাছে।
একটি উদাহরণ দিই। মাষ্টার্স লেভেলে পাওযার সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস পড়ানোর সময় স্যার ক্লাশ শেষে একটি বই এর রেফারেন্স দিলেন।স্যার কখনো পড়ানোর সময় বই বা লেকচার সীট দেখতেন না। যা পড়ানোর সব মুখস্থ করে আসতেন।তো ক্লাস শেষে আমরা নীলক্ষেতে গেলাম বইটি খুজতে । দোকানী বই এর একটি মাত্র কপি দিয়ে বলল আর একটি কপি মুহাম্মাদ আলী স্যার দুপুরে নিয়ে গিয়েছেন। বুঝুন অবস্থা। সারা বিকাল স্যার পড়াশুনা করে সন্ধ্যায় তিনি লেকচার দিয়েছেন কোন ডকুমেন্ট ছাড়া ।এই বয়সে এত উদ্যম এর উৎস কি তা এখনো আমার কছে রহস্যময়।নিবেদিত এই শিক্ষক বুয়েটের পাশাপাশি ইউ.আই.ইউ তে পার্ট টাইম ক্লাশ নিয়ে তাদেরকে ধন্য করেছেন।
স্যার ক্লাশে বলতেন “আপনারা ক্লাসে চিল্লাচিল্লি করিয়েন না। তাহলে কিন্তু জাভেদ মিয়াদাদের মত লাফায়ে লাফায়ে সিলেবাস শেষ করে দেব টেরও পাবেন না”।
চিরকুমার এই শিক্ষকের সংসার বা সন্তান সন্ততির মোহ নেই। আমরা হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর তার হাজার হাজার সন্তান। এখনও পেশাগত কারণে স্যারের সাথে মাঝে মাঝেই দেখা হয়। সালাম দেওয়ার আগেই স্যার বলে উঠেন “কি খবর আপনার ?” আর আমি পিতৃ স্নেহের ঘ্রাণ পাই। আপনারা কখনও পেয়েছেন কি?


স্যারের ফেসবুক ফ্যান পেইজ দেখুন।
Click This Link


অ.ট. স্যার এখন অসুস্থ। জিন্ডেস ভুগেছন। যদিও অবস্থা উন্নিতর দিকে, সবাই স্যারের জন্য দোয়া করেবন।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×