somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নূর আলম হিরণ
ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন! [email protected]

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়, তার প্রধান নেতৃত্বে ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এবং এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্র থেকে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, তা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সময়ই পেয়েছে। একটা সময় এসে এই দলটি মুক্তিযুদ্ধকে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি, যার দরুন মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব হ্রাস পেতে থাকে। তার ওপর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলো মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব কমাতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালায়। একটা সময় এসে এই দলটি মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের রাজনীতিতে খুঁটি হিসেবে আর ব্যবহার করতে পারছিল না।
দ্বিতীয়ত, এই দলটি ক্ষমতায় অথবা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে বাঙালি সাংস্কৃতিক চর্চাকারী লোকজন নিরাপদ বোধ করে।
এ বিষয়টি কিছুটা সঠিক হলেও যখন আওয়ামী লীগ থাকে, তখন এটা সেভাবে অনুভব করা যায় না। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে সরে গেলে বিষয়টি বেশ দৃষ্টিগোচর হয়। আওয়ামী লীগের সময়ে বাঙালি সাংস্কৃতিক চর্চাকারী লোকজন নির্ভয়ে তাদের সংস্কৃতি চর্চা করতে পারে বলেই মনে হয়।
তৃতীয়ত, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই দলটির সরব ভূমিকা থাকে।
এ দেশের সংখ্যালঘুরা পাকিস্তান আমল থেকেই সময়ে অসময়ে নির্যাতিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ যতটুকু সময় ক্ষমতায় থাকে, এ সময় তারা অনেকটাই নিরাপদ বোধ করে। আওয়ামী লীগের সময় যে তাদের উপর নির্যাতন হয় না, তা কিন্তু নয়। তবে এ নিরাপদ বোধ করাটা অনেকটা আওয়ামী লীগের সাথে তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চতুর্থত, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে তাদের ভালো সম্পর্ক। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই বিষয়টিই আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য বেশ বিব্রতকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তিরা এই আওয়ামী লীগ-ভারত সম্পর্ককে এমনভাবে রিভার্স খেলেছে, যা আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি। কিছু অযাচিত মন্তব্য ও কার্যকলাপের কারণে তাদের এই শক্তির জায়গা শেষ দিকে এসে খুব দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়।
এবার আমি পঞ্চম বিষয়টি বলি, যেটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত উন্নয়নের মডেল শক্তি। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশে যত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বড় অবকাঠামোগত অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, তার বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। এটা ঠিক, বিশ্ব যেভাবে এগিয়েছে, আমাদের অর্থনীতি সেভাবে এগোয়নি; তবে যতটুকুই এগিয়েছে, সেটা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বেশি টুকু এগিয়ে গিয়েছে।
জাতিকে আওয়ামী লীগ যতটুকু এগিয়ে নিয়েছে, সেটা তাদের কাছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। কিন্তু এটি চোখে লাগে বা বেশি মনে হয়, যখন বাকিরা জাতিকে এতটুকুও এগিয়ে নিতে না পারে।
বাকি চারটি বিষয় উপরে যেভাবে বলেছি, সেগুলো আওয়ামী লীগের ফেভারে আবার নতুন করে ফিরে আসতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে। তবে পঞ্চম যে বিষয়টি বলেছি, সেটা খুব দ্রুতই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে এবং মানুষ সেটা বোঝার চেষ্টা করছে। যারা ক্ষমতায় আছে, তারা যদি এটাকে ছাড়িয়ে যেতে না পারে, তাহলে মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে এই পঞ্চম বিষয়টিও গেঁথে নেবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ব্লাইন্ড স্পট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৭



ঘন কুয়াশার চাদর আর আঁকাবাঁকা সড়কের আড়ালে ‘পদ্মাডাঙা’ গ্রামটা দেখতে আর দশটা নীরব, নিরুপদ্রব পল্লীর মতোই। কিন্তু সাইবার অপরাধের মানচিত্রে এই জায়গার পরিচয় ভিন্ন। ফিশিং, ব্যাংক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×