somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

পাবনার তাঁরছেড়া বালক
মনের আবোলতাবোল চিন্তাগুলো সাজিয়ে গল্পে পরিনত করতে চাই। কখোনও গল্প হয়। আবার কখোনও হয় না। ভাল লিখতে জানি না।তবুও লিখি। কারন এটা শখ হয়ে গেছে। আরর এই শখ জেকে বসেছে।

অপেক্ষিত ভালবাসা

১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রুবেলকে আসতে দেখেই রুমির মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেল। রুমির কাছে রুবেল ঘৃনার আরেক নাম। রুমি ওর বান্ধবিকে বলল
-চল এদিক থেকে।
-কেন কি হয়েছে?
-ওই দেখ ওই লম্পট টা আসছে।
.
রুবেল রুমির কাছে এসে বলল
-কি খবর কেমন আছো?
-....
-ভাল থাকো আর না থাকো। একটা ব্যাপার তো বোঝ?
-কি ব্যাপার?
-আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি।
-কিন্তু আমি তো বাসি না।
-তুমি না বাসলে কি!! আমি একাই ভালবাসবো।
.
রুমি রেগে গিয়ে তার মত চলে যাচ্ছে। রাগে রুমির চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। আর সুন্দরি মেয়েদের রাগলেও ভাল লাগে।সেটা রমিকে দেখলেই রুবেল বুঝতে পারে।তাই সেই মুখটির দিকে তাকিয়ে রুমির চলে যাওয়া দেখে।
.
রুমি কলেজ থেকে ভাল মনেই বের হল।কলেজ থেকে রুবেলের কথা ভুলেই গিয়েছে প্রায়।কলেজ থেকে বের হয়ে আবারও রুবেলকে দেখেই দাড়িয়ে গেল।রুবেল প্রতিদিন এসে কথা বলে কিন্তু আজ রুমি কাছে গিয়ে কথা বলল
-আপনার সমস্যা কি?
-আমার তো কোন সমস্যা নাই।
-তাহলে প্রতিদিন আমাকে ডিস্টার্ব করেন কেন??
-আমি তো তোমাকে ডিস্টার্ব করি নাতো।
-তাহলে আর আমার সামনে আসবেন না।আপনি যদি আর আমার সামনে আসেন তাহলে আমি কাল থেকে আর কলেজে আসবো না।আর তাতেও না মানলে আমি গলায় দড়ি দেব।
-আজ থেকে আর আমি আর তোমার সামনে আসবো না।
কথা বলেই রুবেল চলে গেল।
.
রুমি আজ কলেজে ভালভাবেই ক্লাস করলো। ক্লাস থেকে বের হওয়ার আগে মনে হল রুবেল দাড়িয়ে আছে। তাই সতর্ক হয়ে যেতে হবে।
.
বাইরে এসে দেখলো রুবেল নেই।রুমি ওর বান্ধবিকে বলল
-কিরে রুবেল আজকে এখানে দাড়িয়ে নেই কেন??
-তুই ই তো কালকে আসতে নিষেধ করলি।
-ও।
.
রুমি যাচ্ছে আর পথে শুধু রুবেলকে খুঁজছে। রুবেল না আসলে তো রুমির জন্য ভালঈ।কিন্তু কেন যেন কিছুর অভাব অনুভব করছে।প্রতিদিন রুবেল এসে রুমির খোঁজখবর নিত।সামনে এসে কথা বলতো। তার কাছের লোকগুলোও করে নি এমন। আর সেই রুবেল ছিল রুমির সবচেয়ে ঘৃনার বস্তু।
.
বাসায় এসে রুমি একবার রুবেলের সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েও করলো না। বলল
-যাক ভালই হয়েছে। আপদ গেছে। এখন রাস্তাঘাটে শান্তিতে চলতে পারবো।
.
রুমি আজও কলেজে এসে রুবেলকে খুঁজছে। পাচ্ছে না। কেন খুঁজছে সেটা রুমি নিজেও বুঝতে পারছে না।
.
কলেজ থেকে রিক্সায় ফিরতে হঠাৎ রিক্সাওয়ালাকে থামতে বলল।থামার কারন রুবেলকে দেখে। রুবেল টং দোকানে বসে সিগারেট ফুঁকছিল।

রুমি রিক্সা থেকে নেমেই রুবেলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। রুমিকে দেখে রুবেল উঠে চলে যাচ্ছে। রুবেলের পিছু পিছু রুমিও যাচ্ছে....
.
রুমি রুবেলকে ডাক দিয়ে বলল
-দাড়াও।
-....
-চলে যাচ্ছ কেন?আজ তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে।আমি প্রতিদিন ঘৃনাভরে তোমাকে মনে করেছি। প্রতিদিন ঘৃনা ভরে মনে করলেও তোমার কথা ঠিকই ভেবেছি।
-তো
-তোমাকে যখন দুরে থাকতে বলেছি। তখন বুঝেছি তোমার গুরুত্ব।আসলে তোমাকে ঘৃনা করতে করতেই তোমাকে ভালবেসেছি। আর তুমি আমার থেকে দুরে চলে যাচ্ছ!!
-দুরে আমি কখনও যেতে চাই নি। যাকে ভালবাসা যায় তার থেকে দুরে থাকা যায় না।আমিও দুরে থাকতে চাই নি।কিন্তু তুমি যখন শর্ত দিলে তোমার সামনে গেলে তুমি নিজেকে শেষ করে দেবে।তখন আর সামনে যাই নি।
-বললাম বলেই গেলে না?
-হ্যা। ভালবাসলে অনেক কিছুই মানা যায়।তোমাকে না দেখে থাকতে হবে এটা।মানতে পারি নি।কিন্তু যখন দেখলাম তোমার ভাল হবে এতে তখন মেনে নিলাম।
-যদি এই শর্ত আমি তুলে নেই?
-মানে!!
-যদি তোমাকে আমি সবসময় আমার সাথে থাকতে বলি?আর যদি তোমাকে সারাজিবন আমার সাথে থাকতে বলি। তাহলে কি থাকবে তুমি?
-এটা তো সবসময় মানতে রাজি।আর এর জন্য অপেক্ষা করে এতদিন পথ চেয়ে ছিলাম।
-আর আমি?
-তুমি আর পথ চাইবে না।আমি তো এখন তোমার পাশে........
.
ভালবাসার জন্য লাগে অপেক্ষা, ধৈর্য আর বিশ্যাস। তাহলে ভালবাসা কে নিজের করে পাওয়া যায়।আর তবেই ভালবাসা যায়।
.
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

**চিঠি ০৩ : ক্যাফের চিঠি** ☕️

লিখেছেন চারাগাছ, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০৫




বহু বছর পর আজ তোমাকে দেখলাম।

একটা ক্যাফেতে।

জানালার পাশের টেবিলে বসে ছিলে তুমি। সামনে একটা বই, পাশে একটা Affogato। মাঝে মাঝে কফিতে চুমুক দিচ্ছিলে, আবার বইয়ের পাতায় চোখ রাখছিলে।

আমি ক্যাফেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×