somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ থেকে ১০০ বছর পর...

১২ ই এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ থেকে ১০০ বছর পর এক ডাক্তার আর রোগীর মধ্যে কথোপকথন,

বুঝলেন, একসময় এদেশের মানুষ ছিলো ভিষণ স্বার্থপর। মানুষ ছিলো এক প্রকারের মানুসিক বিকারগ্রস্থ। তাদের কোন কিছুতেই মন বসতো না। কিছুই করার ছিলো না তাদের। তারা ছিলো সুযোগ সন্ধানী। মানুসিক বিকারগ্রস্থতা, স্বার্থপরতা, সুযোগ সন্ধান রোগের পাশাপাশি তাদের ছিলো আরেকটি রোগ। তারা ছিলো বাক, শ্রবন ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। চোখের সামনে মানুষ খুন, ধর্ষন, লুটপাট সব চলতো তবু কেউ কিছু বলতো না। প্রত্যেকেই বিশাল দেশপ্রেমিক ছিলো শুধু কথায়। এখানেই শেষ নয় তাদের আরো একটা রোগ ছিলো, তা হলো সমালোচনা রোগ। তারা ভালো লোকদের সমালোচনা করতো। আর খারাপদের সঙ্গ দিতো। খারাপদের ডাকে সবসময় সাড়া দিতো। আঁতেল শব্দের অর্থ বুদ্ধিজীবি হলেও তারা ভালো লোকগুলোকে আঁতেল ডাকতো। কারণ, তখন আঁতেল ছিলো একটা গালি। ভালো মানুষগুলো যখন কিছু বলতে চাইতো তখন তাদের আঁতেল বলেই গালি দেয়া হতো। খারাপদের সাথে থাকতো কারণ, খারাপদের সাখে থাকা ছিলো সবচেয়ে নিরাপদ। ভালোরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলতো, কিন্তু তা ছিলো খুবই দুঃসাহসী কাজ। আর ভীতি রোগটা তো তাদের বিশাল রোগের তালিকায় উপরের সারিতে থাকতো। তাই তারা ভালোদের গালি দিতো আর খারাপদের সঙ্গ নিতো। মানুষ ছিলো ভিষণ পরশ্রী কাতর। তাই নিজ দেশকে খুব একটা পছন্দ করতো না। প্রতিবেশিদের প্রতিই তাদের টানটা বেশি ছিলো। সবচেয়ে নিকট প্রতিবেশির ডাক পেলেই উদাম গায়ে নৃত্য করতো। আর সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়। সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়; প্রতিবেশির যে প্রতিবেশি, তারা কিছু জারজ রেখে যাওয়াতে একঘর পরের প্রতিবেশির জন্যও তাদের একটা বিরাট অংশের টান কাজ করতো। এমনিভাবে, ‘প্রতিবেশির প্রতিবেশি-প্রতিবেশির প্রতিবেশি’ করতে করতে এই টান সুদুরে আনুমানিক চল্লিশ ঘর পর বসবাসরত পশ্চিম দিকের প্রতিবেশির জন্য্ বুকের মধ্যে অনেকে টান অনুভব করতেন। মানুষের ভিতর এই অংশটাই ছিলো সকল রোগের জীবানুর ধারক ও বাহক। এরাই রোগগুলো পুশ ইন করতো খেটে খাওয়া অশিক্ষিত মানুষগুলোর ভিতর। পশ্চিমের প্রতিবেশির প্রতি যাদের টান কাজ করতো তাদের কথা আরেকটু বলি, এরা প্রতিবেশির প্রেমে এতোই মশগুল ছিলো যে, পুরো দেশই তারা বিকিয়ে দিলো্। বন, সমুদ্র, মাটি, মাটির তলার ধন রত্ন সব। আর মানুষকে বানিয়ে রাখলো রোগী।

যেহেতু মানুষগলো নানা রোগে জর্জরিত ছিলো সেহেতু তাদের দিয়ে যা খুশি তা করানো যেতো। সেসময় তাদের বিভিন্ন সেকশনে ভাগ করা হতো। সেকশনগুলো ছিলো হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, শিয়া, সুন্নি, কাদিয়ানী, আহমদিয়া, ব্রাক্ষণ, আস্তিক, নাস্তিকসহ আরো অনেক। তারপর তাদের বলতো একে অন্যের রক্ত খা। তারা তাই করতো। রক্তই ছিলো তাদের একমাত্র খাবার। আমাদের জন্য ৩০১৪ সাল অনেক আধুনিক হলেও ২০১৪ সাল সেসময় অনুযায়ী সবচেয়ে আধুনিক ছিলো। সবচেয়ে বড় কথা পীর মুর্শিদ থাকার কথা ছিলো না তখন। কিন্তু পীর মুর্শিদ তখনো ছিলো। তখনকার পীররা দু ধরনের ছিলো। একধরনের পীর ছিলো আগে যে সেকশনের কথা বলা হয়েছে সে সেকশনের। অর্থাৎ হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, শিয়া, সুন্নি, কাদিয়ানী, আহমদিয়া, ব্রাক্ষণ, আস্তিক, নাস্তিকসহ আরো অনেক। আর আরেক ধরনের পীররা সেকশন ভুক্ত পীরদের চাইতে বেশি শক্তিশালী ছিলো। এরা ‘রাজনীতি’ নামক কি একটা যেনো করতো। তাদের ছিলো অসংখ্য মুরীদ। এরা সবাই অন্ধ ছিলো। ঐ যে বললাম দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা ছিলো তাদের। কানেও শুনতো না। দেখতো না কিছুই। আর মগজ তো একদম শুয়রের গোবর থেকেও আরো বাজে অবস্থায় ছিলো। তবে মজার বিষয় হলো অল্প কিছু লোক পীর ব্যবসাটা ভালো ভাবে ধরে ফেলে। যারা ছিলো সেকশন অনুযায়ী ভাগ করা আর রাজনীতিতেও ছিলো তাদের পীরদের আনাগোনা। মানে দুইটার মিশেল। এদের সবাই সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিবেশির যে প্রতিবেশি, তাদের রেখে যাওয়া জারজদের পরিবারের সদস্য ছিলো।

২০১৪ সালে রোগীরা এমনই অবস্থায় এসে দাঁড়ায় যে, তাদের রোগগুলো ক্রমেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। বুদ্ধিজীবি বলে যাদের কদর করা হতো তার সব বিভিন্ন রাজনৈতিক পীরের মুরীদ ছিলো। শিল্পীদের অবস্থাও তাই। শিক্ষকরাতো টাকা টাকা করতে করতে বিকারগ্রস্থতার শেষ পর্যায়ে নেমে গিয়েছিলো। উকিল, ডাক্তার, পুলিশ, সেনাবাহিনী সবাই শুরু করলো টাকা খাওয়া। টাকা খাওয়াতে এগিয়ে রইলো ব্যবসায়ীরা। তাদের যেনো পেটই ভরে না। ব্যাংকের সব টাকা খেয়ে ফেললো। তাতেও যেনো তাদের হলো না। তাই তারা টাকার সাথে মানুষের রক্ত, হাড় খাওয়া শুরু করলো। ২০১২ আর ১৩ সালের দিকে তাদের টাকা দিয়ে মানুষের রক্ত, মাংশ, হাড় মেখে মেখে খেতে মন চাইলো। আরো মন চাইলো এগুলোর ফ্রাই করে খেলেও মন্দ হয় না। একটা কারখানা পোড়ালো। আর একটা কারখানা গুড়োগুড়ো করলো। যে মানুষদের কথা বলছিলাম শুরুতে সে মানুষগুলো বোবার মত এইসব কিছূ চেয়ে চেয়ে দেখলো এবং কোন কিছুই বললো না। কারণ সবাই ছিলো অসুস্থ। মানুসিক বিকারগ্রস্থ, উন্মাদ, স্বার্থপর, ভীত, প্রতিবন্ধী। এছাড়া আরো আরো আরো অনেক রোগে আক্রান্ত। কাজেই ৩০১৪ সালে ক্যান্সার নিয়ে চিন্তা করার কোন কারণ নেই। এর ঔষধ এখন আমরাই তৈরি করি। ১ সপ্তার ঔষধ দিয়ে দিবো। খেলেই ভালো হয়ে যাবেন।

(২৬ মার্চ ২০১৪, বুধবার, পল্টন)
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×