somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ভরা মজলিশে শিক্ষকের আদেশ পালন...."

১৫ ই মে, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষক : কোনো এক মনিষী বলেছিলেন, যখন চারিদিকে অনাচার চলে, তখন শুধু সত্য কথা বলাটাই একটি বিপ্লবি কাজ।
পথিক : স্যার মিথ্যা বলছেন কেনো? আপনিই তো সেদিন আমাদের উপর লাঠি পেটা করার অনুমতি দিয়েছিলেন।

শিক্ষক : তোমরা বিশৃঙ্খলা করছিলে।
পথিক : স্যার, আপনারা ঘটনাটা ধামাচাপা দিতে চাচ্ছিলেন আর আমরা আপনার বলা মনিষীর কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছিলাম।

শিক্ষক : এখন কি চাও?
পথিক : কিছু না স্যার, কিছু কথা বলবো। মনে আছে স্যার, আপনাদের শিক্ষক আর অফিস কর্মকর্তা মিলে আমাদের এক বান্ধবিকে রেপ করেছিলো, আপনারা সেটা ধামা চাপা দিতে চাইলেন, মেয়েটাকে বললেন সেই নাকি নষ্টা। সব দোষ নাকি তার। ধর্ষক শিক্ষক আর সে অফিসার বেমালুম অস্বীকার করলেন এমন কিছুই নাকি ঘটেনি। আর আপনারা সেটাই ফলাও করলেন।

এখানেই কি শেষ? দু'বছর আগে আমরা যখন ডিপার্টমেন্টের কারিকুলাম পরিবর্তন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে কথা বললাম তখন আপনারা আমাদের আইন শেখালেন। বললেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বহির্ভুত কাজ করছি আমরা। স্যার আমরা সে 'মুক্ত ও স্বাধীন' বিষয় সমুহ পড়ে সময় নষ্ট করতে চাইনি, যে বিষয়গুলো পড়ানোর নাম করে আমাদের আসল বিষয়গুলো পড়ানো বাদ পড়ে যাচ্ছিলো। আমরা তো এ কথাগুলোই বলতে চেয়েছি। এটি প্রাইমারি স্কুলের মতো এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে আরো দশটা বিষয় পড়ানোর ফয়দা ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনারা বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ না করে মুনাফা বৃদ্ধির পায়তারায় ব্যস্ত ছিলো। আমরা সে কথাটাই বলেছিলাম। আমাদের উপর তখনও লাঠি পেটা হয়েছিলো। আপনি পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছিলেন।

আমরা তখন ছাত্র সংসদের দাবি তুলেছিলাম, বলেছিলেন রাজনীতি মুক্ত শিক্ষাঙ্গন। অথচ আপনারই গণতন্ত্র নিয়ে সবচেয়ে বেশি বকেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চার বছর। গণতন্ত্র কোথায় ছিলো আপনার প্রতিষ্ঠানে?

শিক্ষক : তুমি কি আমাদের চেয়ে বেশি বোঝ?
পথিক : না স্যার। তবে পেটে ভাত নাই তিনদিন। আপনার মিথ্যা অমিয়বানী আমাদের পেটে ভাত জুটা্চ্ছে না। তখনও না, এখনও না। বন্ধুর বাবা নিঃস্ব লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে। আমরা সবাই বেকার। রাস্তায় হাটি। আমরা সবাই পথিক।

শিক্ষক : তো এখানে এসব বলার কি আছে?
পথিক : আগেই বলেছি আমি পথিক, রাস্তা দিয়ে হাটার সময় আপনার মিথ্যাচার শুনছিলাম। ভাবলাম আপনি শিক্ষক, বলেছেন সত্য বলাটা বিপ্লব। তাই সত্য বললাম।

স্যার আপনি কি হাসানকে চেনেন?
শিক্ষক: কোন হাসান?

পথিক : কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষের কবি হাসান? যে কবি তার শিক্ষক জমিরালিকে চেনেন নি। যে শিক্ষক সুকান্তজয়ন্তীতে হাসানের মতোই একজন আলোচক হিসেবে ছিলেন। যে শিক্ষক জমিরালির কাছে হাসান কিছুই শিখেননি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। জমিরালি বারবার বলতে চেষ্টা করে, হাসান তুমি আমাকে চিনেছো? কিন্তু কবি হাসান রশিদ না চেনার ভান করে সে মজলিশে। মনে আছে স্যার?

শিক্ষক : তুমি কি বলতে চাও।
পথিক : আমি বলতে চাই, আমি হাসান রশিদ নই। আমি পথিক। আমি আপনাকে চিনলাম। আপনাকে চিনে রাখলাম। স্যার সুকান্তের 'চিল' কবিতাটা পড়েছেন কখনো? পড়লে আবার পড়েন…. আর না পড়লে এখন অল্প’কটা লাইন পড়েন….

"চিল…"

পথ চলতে চলতে হঠাৎ দেখলাম
ফুটপাতে এক মরা চিল।

চমকে উঠলাম ওর করুণ বীভৎস মূর্তি দেখে।
অনেক উঁচু থেকে যে এই পৃথিবীটাকে দেখেছে
লুন্ঠনের অবাধ উপনিবেশ;
যার শোন দৃষ্টিতে কেবল ছিল
তীব্র লোভ আর ছোঁ মারার দস্যু প্রবৃত্তি-
তাকে দেখলাম ফুটপাতে মুখ গুঁজে প’ড়ে।

দেইখেন স্যার চিলের মতো অবস্থা যেনো না হয়.... সুদিন আসবে…. এবং সেদিন আমরা এক একটা হাসান রশিদ হবো… আপনাদের কাউকে চিনবো না…. সালাম রইলো স্যার….
শিক্ষক : এই দাঁড়াও দাঁড়াও….পথিক… দাঁড়াও….

(১৫ মে ২০১৫, পল্টন)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×