somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিছিয়ে পড়ার গল্প

১৭ ই মে, ২০১৫ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিস যাবার পথে হঠাৎ আকিব একটি মিছিল দেখে রিকসা ছেড়ে দেয়। সে দেখে লাল পতাকাবাহী একটি মিছিল তার খানিক সামনে অগ্রসরমান। মিছিলের স্লোগান শুনে তার বুঝতে বাকি থাকে না শ্রমিকদের মিছিল এটি। মিছিলটা ধরতে চায় আকিব। মিছিলের কাছে যাবার জন্য দ্রুত হাটতে থাকে সে। এদিকে প্রচন্ড গরম। আর এই গরমে এমন দৌড়ঝাপ আকিবের জন্য খুবই বিরক্তির বিষয়। কিন্তু আজ কেনো যেনো তার গা বেয়ে যে ঘাম বেরুচ্ছে তাতে তার বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই, বিরক্তি নেই। তার মনে যেনো একটা কথাই বাজচ্ছিলো, মিছিলটা ধরতে হবে।

আকিব পেশায় একজন সংবাদকর্মী। তাই পূর্ব পরিচয়ের সুত্র ধরে মিছিলের পেছনে থাকা অন্য একটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক রাতুল, আকিবের ডান পাশের বাহু স্পর্শ করে এবং বলে, আকিব ভাই দেরি করলেন যে? ঘেরাও কর্মসূচিতো শেষ। আপনি চাইলে আমার কাছ থেকে ইনফরমেশনগুলো নিতে পারেন। আকিব ঘুরে উত্তরে জানায়, লাগবে না। আমার আজ অন্য এসাইনমেন্ট। তাহলে দৌড়াচ্ছেন যে, বলে রাতুল। আকিব জানায়, জ্যাম তাই রিকসা ছেড়ে দিয়েছি, হাটছি। এই বলে আকিব রাতুল থেকে বিদায় নেয়। এবং এগিয়ে চলে। কিন্তু মিছিল ধরতে পারেনা। তার মনে হয় মিছিল অনেক দ্রুত যাচ্ছে। শ্রমিকরা তার চেয়ে অনেক দ্রুতপায়ে হেঁটে যাচ্ছে এবং আকিব ক্রমশ পিছনে পড়ছে।

আকিবের মনে হতে থাকে, এই দুরত্ব এতো বৃদ্ধি পাচ্ছে কেনো, এই দুরত্ব কিসের আলামত। সে আরো ভাবতে থাকে, যেবার ছাত্র অবস্থায় শেষ শ্রমিকদের মিছিলে গিয়েছিলো, সে মিছিলতো এতো দূরে ছিলো না। আকিব মিশে ছিলো সে মিছিলে। নদীর জলে মাছ যেমন থাকে। সে খেয়াল করে, দূরে নারী শ্রমিকদের সস্তা প্রিন্টের কামিজ এবং পুরুষ শ্রমিকদের গুলিস্থানের দু’শ টাকার প্যান্ট অনেক জ্বলজ্বল করছে। রোদ, ঘাম আর তাদের পোশাকের বাহারী রঙে একধরনের রংধনু তৈরি হয়েছে। কিন্তু আকিব সে রংধনুর কাছে যেতে পারছে না। আকিবের আরো মনে হতে থাকে, সে নড়তে পারছে না অথচ দেড়’শ টাকার জুতো পরা মানুষগুলো আজ বেশ সচল। দ্রুত তাদের পদক্ষেপ। তারা যেদিক ইচ্ছে সেদিক ছুটতে পারছে। যেনো পদ্মার জাটকা মাছের দল। কিন্তু তার পায়ের ব্র্যান্ডেড জুতো উত্তপ্ত পিচে যেনো গলে গিয়ে আঠায় পরিনত হয়েছে। সে নড়তে পারে না, হাটতে পারেনা। দুরত্ব আরো বাড়ে, বাড়তেই থাকে।

(১৭ মে ২০১৫, কর্মস্থল)
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×