somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রেইনবো প্রোফাইল পিকচার আমিও ব্যবহার করতে চাই.... কিন্তু.....

২৮ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিন্দু বন্ধুটার সামনে মুসলমানদের নিয়ে গালাগালি করলে সে খূব সুন্দর পার্টিসিপেশন করে। কিন্তু যেই হিন্দুধর্ম নিয়ে শুরু করি তখনই মুখ বাকাইয়া ফালায়। মুসলমান বন্ধুটা ঠিকই নামাজ কালাম পড়ে কিন্তু রমজানের ৪০ দিন আগে মদ খাইয়া শরীর নাপাক করতে তার সমস্যা নাই। এরা সবাই প্রগতিশীল। সবচেয়ে বড় প্রগতিশীলতার পরিচয় দেয় আমার নারী বন্ধুরা। যখন এক নারী বন্ধূকে ফোন দিয়ে ভাতৃতুল্য ছোট্ট একটা মেয়ের সমস্যার কথা বলি তখন সংকট সমাধানে বান্ধবির কোন উচ্ছাস বা আগ্রহ দেখি না। উল্টো ভিকটিম মেয়েটার প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করতে দেখা যায়। অথচ এই ধরনের প্রগতিবাদী নারীরা সিগারেট খাওয়া, তার পোশাকের উপর তার নিজস্ব চয়েজকে প্রাধান্য দেয়া, রাত বারোটারপর দশটা ছেলের মতো কেনো বাইরে থাকতে পরছে না এমন যৌক্তিক দাবি নিয়ে যতটা স্বোচ্চার ততটা দেখা যায় না প্রগতির আরো বেসিক কিছু লড়াইয়ে অংশ নিতে। যেগুলো আদায় করতে পারলে বাকিগুলো এমনিতেই আদায় হয়ে যাবার কথা। মুল সমস্যা পুরুষতা্ন্ত্রিকতা, যা এদেরও গিলে খেয়েছে। আবার 'আসল পুরুষগুলো', যারা প্রগতির কথা বলে তারা পরস্ত্রীর প্রগতিতে বিশ্বাসী কিন্তু নিজ স্ত্রীকে বলে "এভাবে না, ওভাবে"। নিজে যা ইচ্ছে তা করলেও বউ, বোন, প্রেমিকা ইত্যাদির উপর দিতে থাকেন নানান ফতোয়া।

মজার বিষয় এসব প্রগতির মাঝে হিজড়াদের মাস্তানের মতো চাঁদাবাজি করে বাঁচতে হয়। আমরা খুব কম মানুষ আছি হিজড়া দেখে তাদের সাথে খুব নরমালি কথা বলতে পেরেছি। গে লেসবিয়ান আমাদের মধ্যে কারা তা আমরা জানি না। এটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এটা সবাই করবেও না। কারণ এটি একটি বায়োলজিকাল বিষয় যা সবার মধ্যে কাজ করে না। এখানে বলে রাখা ভালো গে লেসবিয়ান বলতে আমরা শুধুমাত্র তাদের মধ্যকার যৌন সঙ্গমকেই বুঝি। কিন্তু এটা শুধুই যৌন মিলন নয়, এখানে প্রেম আছে। আর দশটা নারী পুরষের প্রেমের মতো তারা একজন একজনকে না পেলে মনে ব্যাথা পায়, বিষন্ন বোধ করে। তবুও এটা আমার উপরি তলের ভাবনা। কেননা তাদের বিষয়গুলো তারাই বেশি ভালো বলতে পারবেন। তবে আবারও নিশ্চিত করে অন্তত এতোটুকু বলতে পারি এসব সম্পর্ক শুধুমাত্র যৌন সম্পর্কের বিচারে বিশ্লেষণ খুই বোকার কাজ।

বাইরের দেশে যারা গে লেসবিয়ান তারা নিজেরাই নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলে তা আদায় করেছে। এবং এতে সাধারনের সমর্থন ছিলো। আমাদের দেশেও এমন যারা আছেন তারা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন এটাই আমি আশা করি এবং সাধারনের সমর্থনের তখন দরকার আছে। কিন্তু প্রশ্ন রাখি যদি তারা রাস্তায় নামে আপনারা কি তাদের পাশে দাঁড়াবেন? দিন দিন কট্টোর হতে যাওয়া এই মুসলমানের দেশে তাদের উপর হামলা হলে কি আপনারা নিজের পিঠ পেতে দিবেন? আপনারা অভিজিতদের হত্যার প্রতিবাদে কি কি করেছেন, নাকি অভিজিতদের আপনারা ধারণ করেন না? আদমজি কারখানা বন্ধের পর রাস্তায় নেমেছিলেন? রানা প্লাজা ধসের পর আমরা কেনো চুপ ছিলাম? সেখানকার শ্রমিকরা এখনো কেনো তাদের পাওনা বুঝে পায় না। তাজরিনের শ্রমিকদের কি অবস্থা? বুড়িগঙ্গা আর কতো কালো হলে আমার ঢাকাকে সৌন্দর্য মন্ডিত করতে পারবো? জামাত শিবিরসহ ইসলামি মৌলবাদী গোষ্ঠির তান্ডব যখন চলে তখন কি প্রতিবাদ করেছিলেন? একেরপর এক একতরফা নির্বাচন হয়েছে তার প্রতিবাদ করেছেন আপনারা? মানে প্রতিবাদ করার অভ্যাস আছে আপনাদের? পুলিশের রাবার বুলেট, মৌলবাদী গোষ্ঠির চাপাতি, র্যাবের ক্রস ফারারের বিরুদ্ধে লড়ার সাহস আছে তো? আচ্ছা, আপনার রেইনবো প্রোফইল পিকচারের সাথে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ একমত তো? অথবা তাদের এই বিষয় নিয়ে মাথা ব্যাথা আছে কিনা? নাকি আপনি শহুরে মধ্যবিত্তের সংকট নিয়েই চিরকাল কথা বলে যাবেন। তাও আবার সে সব সংকট যা নিয়ে শুধু ফেসবুকেই কথা বলা যায়। কারণ দ্বায় সারার এ্টাই বোধ হয় সব থেকে আরাম দায়ক স্থান।

সমস্যা হলো এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা ছাত্র ব্যাংকে চাকরি করে আর পার্ট টাইম শ্রমিক পার্টি করে নিজেকে শ্রমিক নেতা দাবি করে। কথায় আছে, যার বিয়ে তার খবর নাই পাড়া পড়শির ঘুম নাই। এই দেশে আন্দোলন সব সময় বেহাত হয় এই কারনে যে, যার ক্ষুধা তাকে ঠিক মতো বলতে দেয়া হয় না। তার পক্ষ হয়ে কথা বলে তাবৎ মহা মানবরা। লেখার শুরুতে আমি কয়েক পদের প্রগতিবাদীর কথা বলেছি। বলার পেছনে একটাই কারণ। এসব প্রগতিবাদীদের জাতীয় বা সামাজিক কোন সংকটকালীন সময়ে রাস্তায় দেখা যায় না। এরা তাদের ভন্ডামিকে জায়েজ করতে প্রগতি টার্মটাকে জাস্ট ব্যবহার করে। মানুষের রুটি রুজি তো দুরের কথা নিজের রুটি রুজির আন্দোলনেও এদের দেখা যায় না। তো এরা হিজড়া, গে, লেসবিয়ান, বাইসেক্চুয়ালের পক্ষে দাঁড়াবে এটাতো অবিশ্বাস্য। আমি এটা বিশ্বাসই করি না।

(২৮ জুন ২০১৫, পল্টন)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ২:০৮
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×