‘আমি আসলে প্রচুর বাংলা সিনেমা দেখি। ভারতীয় বাংলা সিনেমা আমার একটু বেশি ভালো লাগে। সেখানে নায়কদের ফাইটিং দেখতে দেখতে আমি অনেকগুলো মস্তানকে এক সাথে হ্যান্ডেল করা শিখে ফেলেছি। প্রতি রাতে আমি একটা বাংলাদেশের আর একটা কোলকাতার সিনেমা দেখি। আমার সব সময় মনে হতো নায়ক একা সবাইকে এভাবে চ্যাঙধোলা করতে পারলে আমি কেনো নয়? সে লক্ষেই সিনেমা দেখা শেষে ফ্যানের সাথে দড়ি বেঁধে বালিশ ঝুলিয়ে দেই, তারপর প্রচুর ঘুসাই। এছাড়া, আমার পেট অনেক বেড়ে গেছে, পৌরসভার পানির ট্যাংকিটার মতো। তাই পেট কমাতে প্রতিদিন নিজে নিজে ব্যায়াম করি, বেলি মারি পুশ আপ মারি। সে সুত্রে আমার মাসেলও একটু শক্ত হয়েছে, যা আমার সফলতার রহস্য’। নিজের বীরত্বের কথা টিভি চ্যানেলকে বলছিলো মিয়া ইখতিয়ার উদ্দিন ঠিক এভাবেই এবং সে সব কিছু স্পষ্ট দেখছিলো। তার মুখে ছিলো উঁচু পবর্ত জয়ের হাসি।
ছোট্ট এ গল্পের এ পর্যন্ত ঠিক ছিলো, কিন্তু মায়ের চড় খেয়ে ঘুম ভাঙলে ইখতিয়ার উদ্দিন আফসোস করে এই ভেবে, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে সোনলী জুট মিলের পাশে মিশন পাড়া হাই স্কুলের রাস্তার তাল গাছের নিচে যে ইতরগুলোকে প্রতিদিন দেখে পাড়ার সকলে এবং সে, তাদের কেবল স্বপ্নেই মারা সম্ভব অথবা সিনেমায়। এছাড়া এটি একেবারেই অবাস্তব রুপ কথার মতোই অসম্ভব একটি বিষয়, যা তার পক্ষে কোনভাবেই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই আজ আবারো মাথা নিচু করে যাওয়া ছাড়া তার আর উপায় নাই। কিন্তু এই মাথা নিচু করে চলা তার আর ভালো লাগে না, একেবারেই না। তবু কিচ্ছু করার নাই। সে ওভাবেই স্কুলে যায়।
তারপর আর কি, ওই রাত হয়। রাত হলে ভাবতে ভাবতে সে আবার ঘুমায়, স্বপ্ন দেখে, একই স্বপ্ন, প্রতিরাতে। সকালে আবার চড় খায়। আবার মাথা নিচু করে স্কুলে যায়। আর রুটিন মাফিক সকাল সাড়ে এগারোটা বাজলে, মস্তানগুলো মিয়া ইখতিয়ার উদ্দিনের চাইতে দুই ক্লাস বড় শ্যামা চক্রবর্তী- যার ছিলো কোমর ছাড়িয়ে যাওয়া চুল, গায়ে ফেয়ার এন্ড লাভলির গন্ধ আর চোখের নিচে গাঢ় করে দেয়া দেড় ইঞ্চি কাজল, তাকে অনবরত শিষ মেরে যায়। মিয়া ইখতিয়ার উদ্দিন মেয়েটির জন্য কিছুই করতে পারে না। শুধু মনে মনে বলে, ‘একবার খালি দেব হইয়া লই’। মিয়া ইখতিয়ার উদ্দিন হিরো হইতে পারে না। রাত হলে সে আবার ঘুমায়. স্বপ্ন দেখে, একই স্বপ্ন, প্রতিরাতে। সকালে আবার চড় খায়। আবার মাথা নিচু করে স্কুলে যায়।
(২৮ নভেম্বর ২০১৫, পল্টন)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




