somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাগ্য ও কর্ম: গভীরে-১

১৩ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশান্তচিত্ত ওই পর্যন্ত আসবে না, যে পর্যন্ত আমাদের অন্তরাত্মা প্রশ্নের পূর্ণতা না পায়। ভুল বললাম, প্রশ্নের উত্তরে পূর্ণতা পেলে কিছুই হয় না। সত্যদর্শনই একমাত্র প্রশান্তির উপায়। তখন প্রশ্ন আর থাকে না।

অনেক অনেক দিনের আশার একটা লেখা। তাই ইচ্ছামত, বিস্তৃত করব।

প্রশান্তচিত্ত বা ক্বালবুস সালিম কি এম্নি এম্নি আসে?
আমরা স্বয়ং ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ আ.'র কথাতেই যাই। তিনি বলছেন, প্রভু, তাক্বওয়া তো আছেই। তাক্বওয়া তো তোমার সচেতনতা। সর্বতো তুমি। সেটাই পূর্ণ ঈমান। আছে। কিন্তু মন শান্ত হতে চায়। দেখতে চায়। তিনি মৃতকে জীবিত করে দেখালেন। মহান ইব্রাহিম আ.'র হৃদয় প্রশান্ত হলো।

মূসা কালিমুল্লাহ আ. বললেন, প্রভু, তোমাকে না দেখে তো শান্তি পাই না। তিনি আলো দেখালেন। তৃষিত মূসা আ.'র হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ল আমরণ প্রশান্তি।

সাইয়্যিদুনা ঈসা আ.'র জাতি বলল, আরো নিদর্শন চাই। আপনি সত্য নবী। তিনি মৃতকে জীবিত করলেন। বিইজনিল্লাহ্ ।

রাসূল সাল্লিআলা'র সমকালীনরা আরো স্পষ্ট প্রমাণ চাইলেন। তিনি দ. আঙুলের ইশারায় চন্দ্রবিভাজন করলেন। শাক্কাল ক্বামারু বি ইশারাতিহি। বিশ্বাসীদের মন পরিতৃপ্ত হল।

তেমনি, নবীরা আর খালিপায়ে উষর ভূমি হাঁটেন না। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর না পেলে আমাদের মন প্রশান্ত হয় না। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া নাকি গাছের পাতাও নড়ে না, আবার আল্লাহ নাকি আমাদের কর্মফল দিবেন?

ঈমানের মাত্র সাতটা প্রধান অঙ্গ। আরো বহু বহু আছে। তো, সেই সাত প্রধান অঙ্গের দুটা হল,

১. আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্য/ তাক্বদীর।
২. পুনরুত্থান দিবস/বিচার দিবসে বিশ্বাস। ইয়াওমাল আখিরা। বা'সি বা'দাল মাউত।

অথচ আপাতদৃষ্টিতে এই দুটা বিষয় পরস্পর বিপরীত তো বিপরীত, সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। একজন শান্তিপ্রাপ্ত ও সমর্পিতের- অর্থাৎ মুসলিমের জন্য আবশ্যক এই সাতটা বিষয় পরিপূর্ণভাবে জানা।

কিন্তু গাঠনিক মূল বিষয়েই আমাদের অস্পষ্টতা।

ভাগ্য ও কর্মফলের বিষয়টাকে অর্থাৎ আল্লাহ করান ও আমরা করি'র বিস্তৃতিটাকে সংক্ষেপে আনা সম্ভব নয়। আর যত পর্বই লাগুক, সমাপ্তির আগ পর্যন্ত কোন অনুসিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে না। আপাত কথায় বৈপরীত্যও থাকবে।


* প্রশান্তিযাত্রার প্রথম পর্যায়ে আমরা আলোচনা করব আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যের সুকঠিন গ্রিপ সম্পর্কে। অবশ্যই এটা সুকঠিনভাবে কুরআন ও হাদিস নির্ভর। কিন্তু ইচ্ছা করে একপেশে।

* হয়ত দ্বিতীয় পর্যায়ে এর উপর নির্ভর করে মারাত্নক সব অনুসিদ্ধান্ত। কিন্তু চূড়ান্ত নয়।

* তৃতীয় পর্যায়ে একজন সাহাবী, যাঁকে তাবেয়ী বলা হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তাঁর সম্পর্কিত হাদীসের আলোচনায়।

* সম্ভবত চতুর্থ পর্যায়ে একজন মহানতম আধাত্ম্যবিদ ও আরো অনেক মহামহিম সূফি কী বলছেন সেই গভীরতায় প্রবেশ করব। পরিচয় পাব সেই দুটা কথিত পথভ্রষ্ট মত বা ফির্কার, যাদের একপক্ষ বলছে, সবই আল্লাহ ঘটায়। অন্যপক্ষ বলছে, আল্লাহ ছেড়ে দিয়েছেন, তাই সবই বান্দা ঘটায়।

*পঞ্চম পর্যায়ে এই বোধের পূর্ণতা আনার চেষ্টা করব স্পেস ও টাইমের সমন্বয়ে। এখানে অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে ধরা দিতে পারে। আগমন ঘটতে পারে ত্রিকাল তথা অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত এবং চতুর্মাত্রা তথা প্রথম-দ্বিতীয়-ত্রিমাত্রা আর স্থানকালমাত্রা তথা ফোর্থ ডাইমেনশনের।

প্রতি পর্বে আমরা আলোচনা করব শুধু চলমান পর্বের বিষয় নিয়ে। যাত্রাটা হোক শুরু?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:৫৭
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই হাজার বছরের এক খেলা কীভাবে জমিদারি হয়ে উঠল

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯



১৮৮৩ সালের ৩১ মার্চ, লন্ডনের কেনিংটন ওভাল। এফএ কাপের ফাইনাল।

এক দলের নাম ওল্ড এটোনিয়ানস। ইটন কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের দল। ওইদিন মাঠে নামা এগারোজনের ভেতর ছিলেন একজন ব্যারনেট, একজন ল্যাটিন ভাষার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×