somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৯৯

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সিরাজ ভাই বললেন, টেংরা মাছের ডিম আপনার কাছে কেমন লাগে?
আমি বললাম, ভালোই লাগে। শুধু রুই মাছের ডিম আমার ভালো লাগে না। সিরাজ ভাই বললেন, রুই মাছের ডিম সঠিক নিয়মে রান্না করতে পারলে অতি উত্তম খানা। আহা! সিরাজ সাহেবকে একেক দিন একেকটা বিষয় পায়। আজ পেয়েছে মাছের ডিম। রুই মাছের ডিম কিভাবে রান্না করতে হয় সেটা বলি। আমি বললাম, ভাই আজ আমার বিশেষ তাড়া আছে। সিরাজ ভাই বললেন, শোনো শিং মাছের ডিম কি তোমার পছন্দ? আমি বললাম, না আমার দেশি পাবদা মাছের ডিম পছন্দ। সিরাজ ভাই বললেন, তোমার হাতে সময় আছে? তাহলে চলো মাওয়া যাই। সেখানে দেশি পাবদা পাওয়া যেতে পারে। পেট ভরতি থাকবে ডিম। আহ! আমার সাথে গাড়ি আছে, যেতে এক ঘন্টা সময় লাগবে। আমি বললাম, না যাবো না। সিরাজ ভাই বললেন, এখন তো বাজারে ইলিশ মাছের ডিম আলাদা কিনতে পাওয়া যায়। বেহেশতে কি ইলিশ মাছের ডিম পাওয়া যাবে? আমি বললাম, অবশ্যই পাওয়া যাবে।

সিরাজ ভাই আমার বাবার বয়সী।
কিন্তু উনি আমার সাথে বন্ধুর মতো চলতে চান। সেদিন ভিড়ের মধ্যে মহাখালি দেখা। উনি যে সিগারেট খান, সেটা নাকি মহাখালি ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তার বাসা বনানী। বনানী থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মহাখালি আসেন শুধু মাত্র এক প্যাকেট সিগারেট কিনতে। উনার একটা মেরুন রঙের গাড়ি আছে। সিরাজ ভাইয়ের হাতে অনেক সময়। উনি আগে পাট মন্ত্রনালয়ের সচিব ছিলেন। অবসরে গেছেন অনেক বছর হয়ে গেছে। উনি এক প্যাকেট সিগারেট কিনলেন। ব্যস্ত রাস্তা। ব্যস্ত ফুটপাত। ভিড়ের মধ্যে উনি আমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছেন, যেন আমি না চলে যেতে পারি। উনি একটা সিগারেট ধরালেন। আমাকে একটা দিলেন। আমি হাসি মুখে ফিরিয়ে দিলাম। বাপের বয়সী একটা মানুষের সামনে সিগারেট খাবো, এত বড় বেয়াদব আমি না। আমি শুধু মনে মনে ভাবি- সিরাজ ভাই চাকরি জীবনে সৎ ছিলেন কিনা! উনি যে রকম জীবনযাপন করেন- তাতে বুঝা যায় উনি বিরাট ধনী মানুষ।

সিরাজ ভাইয়ের বয়স ৬৫ তো হবেই।
কোনো অসুখ বিসুখ নেই। ডায়বেটিস নেই। চোখে সমস্যা নেই। কোনো চিন্তা ভাবনা নেই। তবু সে মাসে দুবার ডায়বেটিস টেস্ট করাবেন এবং প্রতিদিন প্রেসার মাপবেন। নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যান। গাড়ি নিয়ে একেকদিন একেক রেস্টুরেন্টে যাবেন। পছন্দের খাবার গুলোর অর্ডার দিবেন। বেঁচে যাওয়া খাবার ড্রাইভারকে দিয়ে দিবেন। উনি সরকারের উচ্চপদে ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। উনি ক্লাবে যান না। মদ খান না। মন্দ লোকদের সাথে মিশেন না। উনার দুই ছেলে। দুজন'ই বিয়ে করেছে। দুজনেরই ছেলেমেয়ে আছে। ঢাকা শহরটা খুব ছোট। ঘুরে ফিরে সিরাজ ভাইয়ের সাথেই আমার বারবার দেখা হয়। এখন রাস্তায় আমি মেরুন রঙের কোনো গাড়ি দেখলেই পালিয়ে যেতে চেষ্টা করি। লোকটা রাজনীতি সম্পর্কে অনেক জানেন। সবাইকে চিনেন। তার কাছে তথ্যের অভাব নেই। অথচ সাধারন মানুষের মতো তার চলাফেরা।

আমার এক বন্ধু মিজান নাম।
রায়েন্দা বাড়ি। ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করে। পোষ্টিং হচ্ছে গোপালগঞ্জ। ঢাকা তার স্ত্রী ও ছেলে থাকে। ছেলে ক্লাশ ফোরে পড়ে। মিজান সারাদিন ডিউটি করে গোপালগঞ্জ থেকে রাতে ঢাকা ফিরছিলো। মিজানের নিজের বাইক। সে বাইক ভালো চালায়। রাত ১১ টায় ভাটিয়াপাড়া এক রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেয়ে বাইক চালিয়ে ঢাকা ফিরছিলো। শুক্রবার সে সারাদিন তার পরিবারের সাথে থাকিবে। একটা ছোট ব্রীজ পার হওয়ার সময় মিজান বাইক একসিডেন্ট করে। সে ব্রীজ থেকে ছিটকে পড়ে যায় খালে। খালে গলা সমান পানি। গ্রাম দেশে রাত ১২ টা মানে অনেক রাত। মিজানের পা ভেঙ্গে গেছে। মাথায় বেশ ভালো চোট পেয়েছে। মিজান চিৎকার করে সাহায্য চাইছে। কিন্তু তার গলার আওয়াজ বেসি দূর পৌছায় না। সে নিজে খাল থেকে উঠে আসবে, সে উপায় নেই। তার পা ভেঙ্গে থেতলে গেছে। ভাঙ্গা পা নিয়ে মিজান সারারাত খালে থাকলো।

পরের দিন এলাকাবাসী মিজানকে দেখতে পায়।
মিজান তখন প্রায় অচেতন। তাকে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ঢাকা আসে। এখন সে পঙ্গু হাসপাতালে ভরতি। আমি খবর পেয়ে মিজানকে দেখতে গেলাম। মিজানের করুন অবস্থা। পা-টা সম্ভবত কেটে ফেলে দিতে হবে। মিজানের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা লাগবে। অলরেডি দুই লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। মিজানের অফিস থেকে কোনো টাকা দিবে না। কারণ মিজান অফিসকে না জানিয়ে কেন ঢাকা আসিবে? এখন দায়ভার অফিস নেবে না। অফিস বড়জোর প্রভিডেন্ট ফান্ড আর গ্র্যাচুইটি থেকে সামান্য কিছু দিতে রাজী আছে। পরিশ্রমী ছেলে মিজান। একটা দূর্ঘটনায় পুরো পরিবার ভেঙ্গে গেছে। উন্নত চিকিৎসা পেলে মিজানের পা-টা বেঁচে যাবে। নইলে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারেরা পা কেটে ফেলবে। হা- পা ছাড়া বেঁচে থাকাও কষ্টের।

সেদিন উত্তরা মাসকট প্লাজার সামনে সিরাজ ভাইয়ের সাথে দেখা।
উনি বললেন, আজ তার সাথে রাত ৯ টা পর্যন্ত থাকতে হবে। আমি বললাম, আমি থাকিতে পারিব না। আমার বন্ধু হাসপাতালে ভরতি তাকে দেখতে যেতে হবে। সিরাজ সাহেব বললেন, আমিও যাবো তোমার সাথে। নিয়ে গেলাম সিরাজ সাহেবকে। মিজানকে দেখে উনার ভীষন মন খারাপ হলো। উনি মিজানের অফিসের সিইও'কে ফোন দিলেন। কি কথা হলো আমি জানি না। এখন মিজানের অফিস মিজানের চিকিৎসার সমস্ত খরচ দিবে। এমনকি প্রয়োজনে বিদেশও চিকিৎসা করাবে। সাবেক সচিবের পাওয়ার দেখে আমি মুগ্ধ! সিরাজ ভাইকে ধন্যবাদ জানালাম। উনি বললেন, মিজানের অফিস না মানলে আমি সরাসরি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দিতাম। আমি জানি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে উনার নিয়মিত যোগাযোগ আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×