
আমরা ব্লগে ব্লগে এবং পরর্তীতে ফেসবুকে চিঁড়ামুড়ি হয়ে যাওয়া রাসূল দ.'র অবমাননা দেখে টিকতে পারি না। পাগলের মত হয়ে যাই। দুপুরের কড়া রোদে বা মাঝরাতে যেনতেনভাবে বেরিয়ে যাই। আলুথালু চুল নিয়ে হাঁটাহাঁটি করে ফিরে আসি। কিন্তু কিছু বলতে পারি না, কিছু করতে পারি না।
আমরা হলাম ভদ্রমানুষ।
আমরা জানি, তারা জানে, কী বলছে, যারা বলছে।
আমরা বুঝি, তারা বোঝে, কত গভীর এই ক্ষত।
আমরা তাদের চিনি, তাদের পেছনের স্তরটাকে চিনি, তারও পেছনের উপাদান আমরা চিনতে ভুলি না। তবু আমরা ভদ্রলোক, অপেক্ষা করি।
তারা হাসিমুখে, বিজ্ঞানের দিকপাল সেজে, মানবতার ধ্বজ্বাবাহী হয়ে, পরিতৃপ্ত মনোভাব নিয়ে এই ক্ষত করেই যায়। অষ্টপ্রহর। তাদের কথাতে আটকায় না। তাদের আইনে আটকায় না।
জাতিভেদপ্রথা তাদের কাছে কিছু নয়।
তাদের কাছে রেইসিজমের আলাদা সংজ্ঞা আছে।
তাদের কাছে সাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রদায় বিদ্বেষের আলাদা সংজ্ঞা আছে।
কিন্তু ভদ্রলোকের অপেক্ষায় মাকাল ফল কি কখনো পাকে? আর যদিওবা পাকে, তা কি খাওয়া যায়?
যখন সেই অবমাননাকারীই, হাজার হাজার বার বলার পরও, না থেমে জবাই হয়ে যায় তখন আমরাই সেটাও নিতে পারি না।
আমরা ভদ্রলোক, আমাদের সামনে একটা এসেছিল ৫৭ ধারা। আমরা বলতে পারি, তুই আমার নবী দ. কে নিয়ে এমন করিস না, তোকে ৫৭ ধারায় ধরিয়ে দিব।
সেই ৫৭ ধারা এখন দোষী! আইনের অপপ্রয়োগের জন্য প্রয়োগযন্ত্র দুষ্ট, আইন দুষ্ট নয়।
৫৭ ধারায় প্রবীর শিকদারকে ধরা অপরাধ হতে পারে, ৫৭ ধারার অস্তিত্ব অপরাধ নয়।
বাংলাদশের বুকে রক্তক্ষরণ করেছে লক্ষ লক্ষ পোস্টে কমেন্টে মাত্র শ খানেক নবী দ.'র অবমাননাকারী।
বাংলাদেশের জন্ম নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছ্যাড়ছ্যাড় করে প্রোপাগান্ডা ছেড়েছে হাজার হাজার রাজাকারি অপশক্তির ভ্রুণ।
বাংলাদেশের সাইবার জগতে উগ্রতম জঙ্গিবাদকে প্রমোট করছে অনেক মানুষ।
কিশোরীকে ফাঁসিয়ে তার ছবি ছেড়ে দিচ্ছে ইন্টারনেটে।
তাদের জন্য এমন আইন প্রয়োজন, যে আইন অভিযুক্তকে ৭ বছরের জন্য সেঁধিয়ে দিবে। এর নিচে কোন অপশন নাই। কোনও একমাস, দুইমাস,ছয়মাস নাই। কোনও বেইল নাই।
ফাঁসির ভুল দন্ড দিলে সেটা ফাঁসির আইনের অপরাধ নয়। চুরির ভুল দন্ড দিলে বা ভুল গ্রেপ্তার করলে সেটা চুরির আইনের অপরাধ নয়।
দোষ রাষ্ট্রযন্ত্রের, রাষ্ট্রযন্ত্র প্রবীর সিকদারকে সেঁধোতে চায়। যদি রাষ্ট্রযন্ত্র প্রবীরবাবুকে সেঁধোতে চায়, তবে ৫৭ ধারার আগে আরো ৫৬ টি ধারা আছে এ কথা ভুললে কিন্তু চলবে না। ধারার বাইরে গুম আছে। ক্রসফায়ার আছে। এনকাউন্টার আছে।
আমাদের ৫৭ ধারার বড় প্রয়োজন। মানুষকে যখন আর অপশন দেয়া হয় না, তখন সে প্রকৃত হিংস্র হয়ে পড়ে। ৫৭ ধারা আমাদের অনলাইনে ভরসা, শেষ অপশন। আমরা ভদ্রলোক, এটাকে কেড়ে নেয়ার জোয়ারে গা ভাসানোর আগে যেন চিন্তা করি, রাসূল দ.'র বিবাহিত জীবন নিয়ে জঘন্যতম ভাষা ব্যবহার করার সময় আমার ঠিক কেমন লাগছিল?
যদি পুলক লেগে থাকে, ৫৭ ধারার বিলোপে পথে ও কাজে নামুন। যদি পুলক না লেগে থাকে, যদি কষ্ট হয়ে থাকে, নিজের ন্যায়সম্মত শেষ আশ্রয়টাকে নষ্ট করার কুড়াল সরান পায়ের উপর থেকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


