মওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কুফার মসজিদে নামাজরত অবস্থায় আবদুর রহমান ইবনে মোলজেম শহীদ করে । ইমাম হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে খাদ্যের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে শহীদ করা হয় । ঐতিহাসিকরা বলেন যে, সেই বিষ এত ভয়ংকর বিষ ছিলো যে, রক্ত বমির সঙ্গে কলিজার টুকরো অংশগুলো বেরিয়ে গেছে । সম্মানিত পাঠক মন্ডলী শুনতে কেমন লাগছে ???.....
শহীদে আজম ইমামে আকবর হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কারবালার তৃষ্ণার্ত রক্তাক্ত প্রান্তরে এজিদের হুকুমে ইবনে জিয়াদের নির্দেশে আনাস ইবনে নাখই ওরফে সীমার শহীদ করেছে । কেবল কি ইমামে আকবর ? না, অনেক আপন জনও শহীদ হয়েছেন । তার মধ্যে ইমামে আকবরের বড় ছেলে ইমাম আলী আকবর, ছয় মাসের দুধের শিশু ইমাম আলী আসগর, ইমাম হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ছেলে ইমাম কাশেম এবং ইমামে আকবের ভাই ইমাম আব্বাস এবং ইমাম আউন ও আরো অনেকে । ইমামে আকবরকে যে মহান প্রিয়নবী কতখানি ভালোবাসতেন সে কথাগুলোর সামান্য কিছু সম্মানিত পাঠক মন্ডলীর কাছে তুলে ধরবো, যা পড়লে চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না ।
মহান প্রিয়নবী মসজিদে নামাজের ইমামতি করছেন । নামাজে সেজদায় যাবার সময় ইমামে আকবর প্রিয়নবীর পিঠ মোবারকে বসে পড়লেন । সুবহানা রাব্বিল আলা যেখানে তিনবার পড়া হয়, সেখানে সত্তরবার পড়ার পর ইমামে আকবর পিঠ মোবারক হতে নেমে যাবার পর পবিত্র মস্তক মোবারক উঠালেন । একজন সাহাবায়ে কেরামও প্রশ্ন করলেন না যে, ইয়া রাসুল্লাহ নামাজ কেন দীর্ঘায়িত করলেন । এই ঘটনার দ্বারা বুঝা যায় ইমামে আকবরের প্রেমটাই মূলত নামাজ ।
ইমামে আকবর দুনিয়াতে শুভাগমন করার পর চোখ বন্ধ ছিলো এবং মায়ের দুধ পান করছেন না দেখে সালমান ফার্সী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দিয়ে প্রিয়নবীকে এই খবর পাঠানোর পর প্রিয়নবী এসে শিশু ইমামে আকবরকে কোল মোবারকে তুলে নিলেন এবং শিশু ইমামে আকবর চোখ খুলে সর্ব প্রথম প্রিয়নবীকে দেখলেন এবং প্রিয়নবীর পবিত্র জিহ্বা মোবারক সর্বপ্রথম চুষে লালা মোবারক পান করলেন ।
ইমামে আকবরের বেচেঁ যাওয়া সন্তান ইমাম জয়নুল আবেদীন যিনি চার নম্বর ইমাম বলে পরিচিত তিনিও বিষ মেশানো খাদ্য খেয়ে শহীদ হন । তাঁকে বিষ মেশানো খাদ্য দিয়ে শহীদ করে অভিশপ্ত উমাইয়া রাজবংশের খলিফা ওয়ালিদ, যে ছিলো খলিফা আব্দুল মালেকের পুত্র । এই খলিফা আব্দুল মালেকই ছিলো কুখ্যাত এবং ধিকৃত, এবং উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে শহীদ করার জঘন্য চক্রান্তকারী, ইবনে হেকাম । যেমন গাছ তেমনি ফল । ইমাম জয়নুল আবেদীনের একমাত্র সন্তান ইমাম বাকের যিনি পাঁচ নম্বর ইমাম বলে পরিচিত তাঁকে শহীদ করে উমাইয়া রাজবংশের খলিফা হিশাম । ঐ কুখ্যাত খলিফা আব্দুল মালেকের আরেক কুখ্যাত পুত্র ছিলো ।
ইমাম বাকেরের সন্তান এবং ছয় নম্বর ইমাম এবং অলীদের ইমাম বলে মুসলিম সমাজে যিনি সুপরিচিত সেই ইমাম বায়োজিদ বোস্তামীর মুরশিদ ইমাম জাফর সাদেককে শহীদ করে কুখ্যাত এবং অভিশপ্ত তথা ধিকৃত খলিফা মানসুর । এই সেই খলিফা মানসুর যে ইসলামের ইতিহাসে রক্তপিপাসু বলে পরিচিত ।
ইমাম জাফর সাদেকের সন্তান এবং সাত নম্বর ইমাম মুসা কাজেমকে শহীদ করে আব্বাসীয় রাজবংশের খলিফা হরুন অর রশীদ ।
ইমাম মুসা কাজিমের সন্তান এবং আট নম্বর ইমাম আলী রেজাকে বিষ প্রয়োগে শহীদ করেছে আব্বাসীয় রাজবংশের খলিফা মামুনার রশীদ । সে খলিফা হারুন অর রশীদের ছোট ভাই । খলিফা হারুন অর রশীদের বাবার একটি খুবই সুন্দরী এবং যুবতী বাঁদী ছিলো এবং পিতার মৃত্যুর পর তৎকালীন বেতনভুক্ত আলেমেরা ফতোয়া দিয়ে বাবার যৌন সঙ্গীকে ছেলের জন্য হালাল করেছিল ।................
সম্মানিত পাঠক মন্ডলী, শাহাদাতে কারবালার করুণ দৃশ্যের আলোচনায়, আমরা অবাক হই । আমরা থতমত খাই । আমরা অজানা প্রশ্নের ধারালো তরবারী দিয়ে ছিন্নভিন্ন হই । কারণ, কেন তারা ? ধারালো তরবারীর অহংকারী আঘাতের নিচে মাথা মোবারক পেতে দিয়ে কেন কারবালা তৈরি করলেন ?
কেন বদর-ওহোদ-কাবালা সংঘটিত হয়েছিল ? কিসের পক্ষে ? কিসের বিপক্ষে ? কি কায়েমের জন্যে ? বদর-ওহোদ-কাবালার প্রকৃত শিক্ষা চেতনা ভিত্তিক, আজকের সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্ব পরিচালিত হচ্ছে কি ? নাকি তার বিপরীত ধারায় পরিচালিত হচ্ছে ?
বদর-ওহোদ-কারবালার চেতনা ভিত্তিক জীবনই সত্য ভিত্তিক জীবন এবং বিপরীত চেতনা ভিত্তিক জীবনই মিথ্যা ভিত্তিক জীবন । বদর-ওহোদ-কারবালার চেতনা আত্মায় ধারণ করে তাওহীদরেছালাত ভিত্তিক তথা সত্য ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্ব গড়তে পারলেই খাজা বাবার এই হিন্দ আবার পুনরুদ্ধার হবে, পুনরুদ্ধার হবে বিশ্ব মুসলিমের প্রাণ কেন্দ্র, বিশ্ব মন্ডলী পাবে মুক্তি, প্রত্যেক জাতি পাবে মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




