দেশ বিভাগ পরিস্থিতি উপমহাদেশের মুসলিম নেতৃবৃন্দেকে বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিম নেতৃবৃন্দকে অতিরিক্ত বিভ্রান্ত করেছিল । দেশ বিভাগ-পূর্ব পরিস্থিতিতে শের-ই-বাংলা আবুল কাসেম ফজলুলহক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দ্দী, আবুল হাসেম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ পথ-হারা হয়ে পড়েছিলেন । তখন স্যার খাজা নাজিমুদ্দিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ কোনো বলিষ্ঠ ভূমিকা নিতে পারেন নি । মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ প্রমুখ চিন্তাশীল নেতৃবৃন্দ তখন স্পষ্টত-ই অনেকখানি নিষ্ক্রিয় ।
সামগ্রিকভাবে তখন বাংলাভাষী মুসলমানদের দিশাহারা অবস্থা । মুসলিম নেতৃবৃন্দের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল ।---------------
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, মুসলিম নেতৃবৃন্দ নিজেদের মধ্যে যখন কাজিয়া, ব্যক্তিগত ঈর্ষা আর ক্ষমতার দ্বন্দে ব্যস্ত ও বিক্ষত, তখন-ই এই সর্বনাশা পরিস্থিতিতে উপমহাদেশ থেকে কিছু জমি নিয়ে পাকিস্তান কায়েম হয়ে গেল এবং মুসলমানদের দ্বারাই রাম রাজ্য কায়েম হয় । পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন জেনে চব্বিশ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদাহ, দিনাজপুর, নদীয়া প্রভৃতি যে সব জেলায় মুসলমানরা চাঁদ-তাঁরা লাঞ্ছিত পতাকা তুলেছিলেন, তাঁরা এক সময় তা শতেক লাঞ্ছনার মধ্যে নামিয়ে ফেলতে বাধ্য হলেন । কিসের ভিত্তিতে কী ভাগ হলো তা তাঁরা জানতে পারলেন না । ----------------------
সমস্ত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়ঃ- পাকিস্তান সৃষ্টি যেমন মুসলমাদের জন্য আনন্দদায়ক হয়নি তেমনিভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টিও আনন্দদায়ক হতে পারেনি ।
---- উপমহাদেশে সাতচল্লিশোত্তরকালে তাদের বঞ্চনার ইতিহাস কটা খন্ডে লিখলে শেষ হবে, সেটা আলাদা হিসাব করে দেখা দরকার । এখন থাক সে কথা । মুসলিম কওম ও প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়, উভয় তরফেরই উচিত দায়িত্ব অস্বীকার না করে এই উপেক্ষা বা অবিচারজনিত সমস্যাটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা ।
সূত্রঃ নবযুগ ও নজরুল জীবনের শেষ পর্যায়-৪১ ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




