সেজুতি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি থেকে এল এল বি ও এল এল এম, করেছে।ন্যায় যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাস করে।অন্যায় তাকে পোড়ায়,ন্যায় তাকে জাগিয়ে তুলে।এই মেয়েকে মাঝে মাঝে বুঝা মুশকিল।অন্যায় দেখলে তার মাথায় কি যেনো ভর করে।আর এখন সে ঢাকা হাইকোর্ট বিভাগের লয়ার।
সায়াহ্ন একজন লেখক হিসেবে নাম করে ফেলেছে।এর মধ্যে দুইটি বই বের হয়েছে।সুপার ডুপার হিট।যে বাস করে হাজারো তরুণ তরুণী দের মনে।ডাক্তারি পড়েছে ঠিক কিন্তু জীবনটাকে সে অন্যভাবেই দেখেছে।সুদর্শন, যে হাজারো নারীর হৃদয়ে বসবাস করে।তার ব্যক্তিত্ব নারীদের আকর্ষণ করে চুম্বকের মত।আচ্ছা ওর একটা সমস্যা ছিল বোধহয় কোনো এক কারনে নারীদেরকে সম্মান করতে পারতো না।
আচ্ছা সেই কথা যাক......
সামিমা বেগম হচ্ছে সেজুতির মা,গৃহিণী ,খুব সহজ সরল,উদারমণা একজন মানুষ; যার কিছু চিন্তা সেজুতি মনে প্রাণে ধারণ করে।মাঝে মাঝে দুইজনের চিন্তার মিল দেখলে অবাক লাগে!!আর এই দুইটা মানুষ নিয়ে তাদের ছোট্ট একটি সংসার।
বৃহস্পতিবার,ঘড়িতে সন্ধ্যা ৭টা বাজে।
সেজুতি বারান্দায় একটু হেলান দিয়ে কফি হাতে দাড়িঁয়ে জাদুর শহরের দিকে তাকিয়ে আছে অপলক দৃষ্টিতে,আর কী এক ভাবনায় মগ্ন হওয়ার জন্য বোধহয় ওর আজ খুব ইচ্ছে হচ্ছে।রুমে বড় করে ইন্সট্রুমেন্টাল ছেড়ে দিয়েছে যেনো সে বারান্দায় দাড়িঁয়ে শুনতে পায়,আর শুনতে মনে হয় যেনো স্লো মোশন। সাদা একটা গাউন কফির মগ হাতে তাকে দেখতেই দারুণ লাগছে।কিভাবে জানি ওর চুলগুলো বেঁধে রেখেছে।ও এমন সময় চুলও বেঁধে রাখে,মাঝে মাঝে ও কেমন জানি উল্টোটাই করতে পছন্দ করে।ইসস!!কেমন সুন্দর দেখাচ্ছে,একদম দেবীর মত,গোছানো টিপটপ স্বভাবের মেয়ে।আচ্ছা,বেশ লাগছিল সেজুতিকে।ভাবনাকে আজ সে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আর তারা দল বেঁধে ভিড় করেছে ওর চোখপানে।ওর সেই মায়াবি দুটি চোখ কত না কথাই বলে।মায়াবী চেহারা, সুন্দরী রমণী। ওকে ভালোবাসার মানুষের অভাব নেই।কতজনের স্বপ্ন কন্যা।কিন্ত সে ভিন্ন একজগতেরই মানুষ।জীবনের কাছে চাওয়া পাওয়া কম।ও ভাবছে আর দেখছে এই জাদুর শহর টাতে কত জাদুই না আছে।আজ ওর মনটা ভালো।কারণ ও আজ পিংকী কে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়ে এসেছে।আর ও ওর বেতনের টাকা দিয়ে সব খরচ দিচ্ছে।পিংকী সেজুতিকে দেখলে উচ্ছ্বসিত হয়ে যায়।আনন্দে চোখে আলো ফুটে।আর সেই মায়াভরা চোখদুটি স্বপ্নে ছলছল করেন।তার চোখে রয়েছে স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার তীব্র ইচ্ছা।চোখের সেই স্বপ্নগুলোকে রোপণ করে দিয়েছে সেজুতি।
ইসস!!সেজুতি এমন কেন??এত মায়া আর ভালোবাসা কিভাবে আসে?? ও যেদিন ভালো কাজ করে সেদিন সায়াহ্নকে দাওয়াত করে।ফোন দিল সায়াহ্নকে........রিং পড়ে, রিং পড়ে।সায়াহ্ন ফোন ধরে কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর।
সেজুতি : কেমন আছ??
সায়াহ্ন : ভালো,তুমি ভালো আছ??
সেজুতি : হুম,আচ্ছা আজকে রাতে আমার সাথে ডিনার করো।
সায়াহ্ন : আচ্ছা।
সেজুতি : আচ্ছা রাখি।
সেজুতি আজ নিজ হাতে রান্না করেছে।সায়াহ্নের পছন্দনীয় আর ওর পছন্দনীয়, মোরগ পোলাউ,কাবাব,চিংড়িমাছ এর ফ্রাই,চিকেন চিলি আর ডেজার্ট হিসেবে পুডিং আর কাস্টার্ড।
ইন্সট্রুমেন্টাল শুনতে শুনতে অপেক্ষা করছে কফির মগে চুমুক দিচ্ছে আর সারি সারি বিল্ডিং দেখে কী জানি ভাবছে।ওর ভাবনাগুলো সবচেয়ে আলাদা।আচ্ছা ও কী ভাবছে??
ভাবনার মধ্যে স্তব্ধ এক নীরবতা,আর মনের কোনের সেই গহীনতা আর জীবনের সেই আলোকচ্ছটা একটু একটু করে পা পা করে প্রবেশ করছে।
ভাবনার সেই বিশালতায় তৈরি হচ্ছে ছোট্ট একটা ঘর।যে ঘরে রহস্যের জাল রয়েছে।রহস্যগুলো ধরা দিতে ওৎ পেতে আছে।আচ্ছা,রহস্য আবার ধরা কিভাবে দেয়??দেয় তো! রহস্য এসে যখন বাস্তব হয় তখন অন্যরকম এক পৃথিবীর দেখা মেলে।
ওর ভাবনার ছোট্ট ঘরটিতে আছে সায়াহ্ন ও সেজুতি'র জগত।এলোভাবনা ও সেই ভাবনা আর এই ভাবনা কী এক অদ্ভুত মিলন নাকি দ্বন্ধের বিচরণ!
আচ্ছা, ওর ভাবনাগুলোর মধ্যে একটি ভাবনা কেমন জানি!! ও পৃথিবীর কাউকে ঘৃণা করতে পারেনা শুধু একজনকে ছাড়া।ঐ একজন ও নিজেই! এই যেমন ও নিজেকে খুব ঘৃণা করা শুরু করে কিছুটা সময়ের জন্য; আর বলে ছিঃ! 'এমনটা করার তুই কিভাবে সুযোগ করে দিলি??কিরে নিজেকে বুঝি এই সম্মান করিস!?নিজের আত্মসম্মান এর বলী দিলি কী করে!!?নিজেকে বকতে বকতে,ভাবনার বিচরণে কোথায় যেনো হারিয়ে যায় তো হারিয়ে যায়।
ও এভাবে ভাবতে পারে কেন??ওর ভাবনাগুলো কেমন জানি মিলেনা।ও এক অন্যরকম কিছু দিয়ে গড়া।বিধাতা বোধহয় তাকে অন্যকিছু দিয়ে বানিয়েছিল।ওর মত মানুষ হয়না!ভাবনাগুলো অবাক করার মত।যদি কেউ ওর ভাবনাগুলোকে প্রশ্রয় দিত তাহলে ওর ভাবনার প্রেমে পড়ে আশ্রয় পাওয়ার ইচ্ছে জাগত।কখনো কারো ইচ্ছে জাগেনি তা কী বলা যায়?!জাগলেও ওর ভেতরের অন্য সেই মানুষটিকে কেউ দেখতে পেয়েছিল?? এমন কী আছে ওর মাঝে?? জানতে চাইলেও জানার বোধহয় শেষ হবেনা!
হেয়ালি এক মন আর মায়াময় চোখের আবেগী চাওয়ায় সমস্ত আবেদন ফুরিয়ে যাচ্ছিল।কোমলয়ী মনের চাওয়া পাওয়ার কপাটগুলো খোলা আর বন্ধের খেলায় মেতে ছিল।এক পাশ খুলে আরেক পাশ বন্ধ হওয়ার এই খেলা চলছিল;আর শব্দ হচ্ছিল।মনে হচ্ছিল তার দরজাটা আটকে দিয়ে এক শান্তির ঘুম দিতে হবে।যেখানে বাতাস তাকে ছুঁয়ে যাবে এমন এক আবেশে ঘুমের মধ্যে কিছু চুল উড়ে এসে কপালে পড়বে।আর নিষ্পাপ চেহারাটি ভেসে উঠবে আর সমস্ত পাপ যেনো এই চেহারাটির কাছে হার মানবে......
ভাবনায় ডুব দিতে দিতে সেই একমাস আগে ফিরে গেল সেজুতি।যেখানে দুটি মানুষের অবয়ব ও দেখতে পাচ্ছে।পরীর মত মেয়েটি ও সেই সুদর্শন যুবক।
পরীর মত মেয়েটি ভেবেছিল তার সেই স্বপ্নপুরুষ এসে তাকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে কপালে আর চোখে আলতো করে চুমু দিয়ে বুকের ভেতর এমনভাবে শক্ত করে আগলে রাখবে যেখানে ও পরম নির্ভরতা খুঁজে পাবে।কোথায় যেনো হারিয়ে গিয়ে ওরা সেই বন্ধনে জড়াবে যে বন্ধন অটুট রবে জনম জনম।
আর এই ভালোবাসায় রবে পরম পবিত্রতা আর পরম মায়া,যেখানে দুটি মনের মিলনের সাথে সাথে অর্থ খুঁজে পাবে তাদের ভালোবাসা। আর পূর্ণতার এক মিলন হবে যে মিলনে নীরবতাও আর নীরব রবেনা।
কিন্তু স্বপ্নপুরুষকে নিয়ে যা স্বপ্ন দেখেছিল তা যেনো মুহুর্ত্বের মধ্যে ধোঁয়াশায় আর কালো অন্ধকারে ছেঁয়ে গেল।সে দেখতে পাচ্ছিল কেউ একজন এগিয়ে এসে তার সমস্ত চাওয়াকে মাটি করে পৌরুষত্বের দাবী খাটিয়ে গেল।সেখানে না ছিল পবিত্রতার ছোঁয়া না ছিল সেই কোমলয়ী নারীর আবেদন! কোনটা সেদিন স্থান পেয়েছিল??ভালোবাসা নাকি জীবনের সেই পৈশাচিক ক্ষুধা!সেইদিন সবকিছুর মৃত্যু ঘটেছিল;স্বপ্নপুরুষ মুহুর্ত্বেই দানব পুরুষে রুপান্তরিত হয়েছিল!
হঠাৎ দেখল বেদনার এক ঝলক!যা অশ্রু হয়ে বেরিয়ে আসল!
আচ্ছা, পরী টা দেখতে একদম সেজুতির মত ছিল!!
হঠাৎ সেজুতি ভাবনার সেই জগত থেকে ফিরে আসে তার মায়ের ডাকে।সেজুতি,তোর ফোন,এই নে।কতক্ষণ ধরে বেজেই চলছে ধরিস না কেন??
তৃপ্তি : হ্যালো,আপু?
সেজুতি : হুম বল
তৃপ্তি: তুমি ভালো থেকো অনেক অনেক বেশি; জীবনের শেষ মুহুর্ত্বটাতে তোমাকেই ফোন দিতে ইচ্ছে করেছে,রাখি।
সেজুতি : কী সব পাগলের মত বকছ??কী হয়েছে??
তৃপ্তি : ফোনটা রেখে দিল।
সেজুতি : হ্যালো,হ্যালো করে...ওকে ফোন করার পর ফোন বন্ধ পেল।
কী করবে সেজুতি???
সেজুতি খুব হন্তদন্ত হয়ে বের হয়ে গেল আর যাওয়ার সময় তার মাকে বলে গেল তুমি সায়াহ্ন আসলে বলবে জরুরি কাজে বেরিয়েছি।কাজ শেষে ফিরে আসবো।বের হয়ে ট্যাক্সি নিল কাঁটাবনের উদ্দেশ্য।সেজুতি থাকে ধানমন্ডি।ট্যাক্সি তে উঠেই অস্থিরতা আর উদ্বিগ্নতা সাথে নিয়ে ফোন দিচ্ছিল তৃপ্তির বাসায়।দুইবার ফোন দেওয়ার পর তৃপ্তির মা ফোন ধরল,বলল আন্টি তৃপ্তির কী হয়েছে??একটু দেখেন,আন্টি কোনো প্রশ্ন করবেননা।আপনি যান ওকে দেখেন ও কোথায়??
তৃপ্তি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকোনমিক্স এ পড়ে সেকেন্ড ইয়ারে।আর তৃপ্তির বাবা জহির সাহেব বড় ব্যবসায়ী,বড় ভাই রায়হান ও এম. বি.এ শেষ করার পর বাবার সাথে বিজনেস দেখে।মা
জাবেদা হচ্ছেন গৃহিণী।
তৃপ্তির মা দৌড়ে গিয়ে তৃপ্তির রুমের সামনে গিয়ে দেখে দরজা বন্ধ।তৃপ্তি দরজা লক করেনি;এমনি বন্ধ ছিল।দেখে তৃপ্তি বিছানায় শোয়া আর পাশের ছোট্ট টেবিলে দুই পাতা Diazepam খালি পড়ে আছে।তৃপ্তির মা ডাকতে থাকলো ও রায়হান আয়,দেখ তৃপ্তি কী করেছে।তৃপ্তি আর রায়হান এরা দুইভাই।সবাই রুমে চলে আসছে।তৃপ্তি এমনদিন বেছে নিয়েছে যেদিন বাসায় সবাই থাকবে।তৃপ্তি কারো ডাকে সাড়া দেয়না। মনে হয় নিথর দেহ পড়ে আছে। রায়হান তাড়াতাড়ি গাড়ি বের করছে মেডিক্যালে নেওয়ার জন্য এর মধ্যে সেজুতি এসে পৌঁছাল।সবাই একসাথে তৃপ্তিকে নিয়ে রওনা দিল ঢাকা মেডিক্যাল এর উদ্দেশে।যাওয়ার সময় টা বোধহয় ফুরোয় না।কত শত ভাবনা আর প্রশ্ন বোধহয় সবার মনেই উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে।তাদের সেই আদরের দুলালী কেন এমনটা করল? কী এমন কষ্টের ভিড় তার ভেতরটাকে কুরে কুরে খেয়ছিল সবই তাদের জানার ইচ্ছে হচ্ছিল।ওরা ঢাকা মেডিক্যাল এ যখন পৌঁছাল তখন রাত ৯টা ৩০মিনিট।তৃপ্তিকে নিয়ে যাওয়ার পর সব জানার পর ওরা মেডিসিন বিভাগে নিয়ে গেলো স্টোমাক ওয়াশ করার জন্যে।আর কাগজপত্র যা যা সাইন করার সব আংকেল করল।সবার অপেক্ষার পালা শেষে ডাক্তার বলল স্টোমাক ওয়াশ শেষ।তৃপ্তি ভালো আছে।
সেজুতি এর মধ্যে বাসায় ফোন করে জানিয়ে দিলো তৃপ্তি অসুস্থ রাতে বাসায় যেতে দেরী হবে;তৃপ্তি কে ওরা মেডিক্যাল এ নিয়ে গেছে আর ঘুমের ওষুধ খেয়েছে এইসব সেজুতি তার মা ও সায়াহ্ন কাউকেই বলেনি।সায়াহ্ন কে বলেছে ওর ফ্রেন্ড অসুস্থ তাই ও ফ্রেন্ডের সাথে আছে;সায়াহ্ন কে বলেছে মার সাথে খেয়ে যেতে,ওর ফিরতে দেরী হবে।কিন্ত সেজুতি থাকবেনা দেখে সায়াহ্ন যায়নি।তৃপ্তিকে ডায়াজেপাম খাওয়ার ২ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে গেয়েছিল।৪ ঘন্টার মধ্যে রোগী কে নিয়ে গেলে স্টোমাক ওয়াশ দেয়।
যাই হোক স্টোমাক ওয়াশ অনেক কষ্ট;বলা হয়ে থাকে যাকে একবার স্টোমাক ওয়াশ করানো হয় সে আর জীবনেও আত্মহত্যা করার চেষ্টা করবেনা।
তৃপ্তির সাথে এক এক করে সবাই দেখা করতে গেলো।সেজুতি সবার পরে গেলো।তৃপ্তির সেই বেদনাভরা চোখ দুটির চাহনী সেজুতি মনে হয় পড়ে ফেলছিল আর ভাবছিল ঐ দুটি চোখের স্বপ্নগুলো নিভু নিভু হয়ে মনে হয় আবার বেঁচে উঠলো! সেজুতি তৃপ্তিকে তার সন্তানের মত জড়িয়ে ধরল আর এই জড়িয়ে ধরাতে ছিল ভালোবাসা আর অভিমানের দল যারা এক হয়ে প্রশ্ন করছিল আর বলছিল কেন তৃপ্তি এটা করলি??কান্নায় বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।তৃপ্তির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সেজুতি তার ভালোবাসার পরশে তাকে সাহস দিচ্ছিল।সেজুতি বের হয়ে আসলো,এর পর তৃপ্তির মা ঢুকলো।একটু পর বেরিয়ে এসে তৃপ্তির মা বলল তৃপ্তি আজ রাতে সেজুতিকেই পাশে থাকতে বলেছে।সেজুতি বিনা বাক্য ব্যয়ে বলে দিল আমি থাকবো ওর সাথে।
আপনারা চলে যান,বাসায় গিয়ে আরাম করেন।উনারা চলে গেলেন।তৃপ্তির পাশে সেজুতি এসে বসল।মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরাম করতে বলল।তৃপ্তির চোখে ঘুম নেই;কে জানি ওর চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে!
কয়েকঘন্টা গল্প করার পর,হঠাৎ চোখে দিয়ে অশ্রু জল বের হচ্ছিল,তখন সেজুতি জড়িয়ে ধরে বলে কী হয়েছে রে??আমি আছি কেন??আমি কী এতই পর হয়ে গেলাম;আমাকে বল কী হয়েছে??
তৃপ্তি বলল ও আমার সব শেষ করে দিল।ও কে?? আপু,আমার সব শেষ হয়ে গেছে! সেজুতি বলে কী যা তা বলছিস??কে কী করেছে?? তৃপ্তি নাম বলল......
এর পর সেজুতি মুহুর্তের মধ্যে বোধহয় নামটি চিনে নিল নাকি ও ঠিক শুনে নি??কোনটা?? ও কার নাম শুনেছিল??
রহস্যের কপাটগুলো এক এক করে খুলে গেলো।চাঁদর মুড়ি দিয়ে থাকা লুকোনো সেই গল্পগলো সত্যি হয়ে ধরা দিল।ভেবেছিল এমনটা হবে কেন!না এমনটা হওয়ার কথা ছিল কী??সমস্ত কপটতা, আর মিথ্যের জ্বালে সেজুতি আটকা পড়ে গেল।রুপ তখন আগুন,ভালোবাসার ছলনা তখন ধোঁকা, আর হাত বাড়িয়ে দেওয়াটা প্রতারণা।সমস্ত অবিশ্বাসের ঝড় বইছে,আর সেই অবিশ্বাসের দলগুলো গুমট অন্ধকারে হাতছানি দিচ্ছে।জীবনের এই চরমরূপ কি কভু ভেবেছিল??হয়তো,ভাবতে গিয়েও ভাবনাগুলোকে একপাশে রেখে অন্য বিশ্বাসকে প্রশ্রয় দিয়েছিল।এই বুঝি অমিলের মিলন,চরমের চরমতা!
সেজুতি কী করবে??ও তৃপ্তির কষ্টের ভার নেবে,নাকি নিজেরটা?ও দুইটার ভার নিয়ে দিব্যি দাঁড়িয়ে রইল।ও পারে,নাকি আজ পারতে হবে তাই।আজ কী সে তৃপ্তির পাশে দাঁড়াবে নাকি নিজের পাশে??
সেজুতি তৃপ্তির পাশে দাঁড়ালো। ও পারলো না সেই ছোট্ট মনটিকে কষ্ট দিতে;অবুঝ মন যে অন্ধকারের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল।সেজুতির সমস্ত চাওয়া পাওয়ার উর্ধ্বে তৃপ্তি স্থান পেলো।ও ঠিক করল ও তৃপ্তিকে এইখান থেকে বের করে আনবে।ওকে নতুন করে বাচঁতে শেখাবে.....
সকাল হয়ে গেল;তৃপ্তি ভালো আছে,ওর বাসার সবাই আসলো।আর দুপুর ১২টার দিকে তৃপ্তিকে রিলিজ করে দিল।সেজুতিও ওদের সাথে তৃপ্তির বাসায় গেলো।তৃপ্তির মা সেজুতিকে দুপুরে খেয়ে যেতে বলল।কিন্ত সেজুতি থাকলো না।রায়হানকে বলল সেজুতিকে বাসায় গাড়ি দিয়ে পৌঁছে দিতে ;সেজুতি গাড়িতে ভাবছে...
আর কানে বার বার বাজচ্ছে আপু,ও সা......সায়াহ্ন, সায়াহ্ন।উফফ!দম বন্ধ হয়ে আসছে;পারছে না এই নামটি শুনতে।দেখলো ও কখন বাসায় পৌঁছে গিয়েছে ও বুঝেই নি।রায়হান,বলল আপু আমরা পৌঁছে গেছি।
সেজুতি,ও বলে নেমে পড়ল।আজকে ও রায়হানকে বাসায়ও আসতে বলল না।
একটু পর ফোন বেজে উঠলো তখন ও ওর রুমে ঢুকেছে মাত্র;সায়াহ্ন ফোন দিয়েছে।কী খবর তোমার??কী অবস্থা??
সেজুতি,বলল ভালো।রাগ হলো না,মান অভিমান হলো না;সব কিছুর উর্ধ্বে আজ তার সবকিছু।ওকে কোনো কিছুই বলল না!! হয়তো ভাবলো ও পেরেছে এভাবে করতে??
কঠিন সত্য টা মেনে নিল;নিতে হয় তাই।মনের জানালা সায়াহ্ন এর জন্য চিরতরে বন্ধ করতে পেরেছিল কী সেজুতি????হয়তো পেরেছিল;ঐ যে বলেছিলাম ও অন্যজগতেরই একজন!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




