somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কি নিজেদের নিরাপদ বলতে পারি ?

১৪ ই মে, ২০১৬ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুন-আতঙ্ক বিরাজ করছে সর্বত্র। ঘর থেকে শুরু করে হাটে-বাজারে প্রকাশ্যে খুন করা হচ্ছে মানুষকে। নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায়ও চলছে খুন। নারী-শিশু থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ছাত্র-শিক্ষক সর্বস্তরের মানুষ আজ নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে যেমন খুন হচ্ছে তেমনি দেশীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্য দেশের বাহিনীর হাতেও খুন হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। কেবল বাংলাদেশের মানুষই নয় খুন হচ্ছে বিদেশিরাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার কেবল তার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জেল, জুলুম, নির্যাতন আর হয়রানিতে ব্যস্ত হয়ে আছে। প্রকৃত অপরাধীরা এই সুযোগে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে খুন-আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রকাশ্যে লোমহর্ষক ঘটনায় জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও চরম উৎকণ্ঠা। পুলিশের হিসেবে প্রতি মাসে গড়ে খুন হচ্ছে ২৮৬ জন। পুলিশ সদর দফতরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারাদেশে ২৬৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৯১টি, আর মার্চে ৩০৭টি খুনের ঘটনা ঘটে। দেশে গত ১৪ মাসে ৩৪টি সাড়া জাগানো হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিন খুন হচ্ছে। প্রকাশক, লেখক, শিক্ষক, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ভিন্নমতের ইসলামী ভাবধারার অনুসারী ও বিদেশির পর এবার দুর্বৃত্তের চাপাতির আঘাতে মারা গেলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক খুনের দুদিনের মাথায় সোমবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুরের কারাফটকের কাছে এক সাবেক কারারক্ষী খুন হন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাসে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে খুন করা হয় জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু এক নাট্যকর্মীকে। যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কর্মসূচি কর্মকর্তা জুলহাজ (৩৫)। খুনে করায় পিছিয়ে নেই সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজের বিজয় সুনিশ্চিত করতে খুনের উৎসবে মেতে উঠেছে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা। দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে মৃত্যুর মিছিল দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংসতা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চার ধাপে সহিংসতায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৮১ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিকের তথ্যমতে, তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচন পর্যন্তই নিহতের সংখ্যা ছিল ৭১ জন। সদ্য শেষ হওয়া চতুর্থ দফা নির্বাচনেও প্রাণহানি হয়েছে কমপক্ষে ১০ ব্যক্তির। খুন হচ্ছেন নারীরা। এপ্রিল মাসে মোট ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৪ জন নারী ও শিশু। এদের মধ্যে ১৪ নারী, ১১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ৬ নারী গণধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের পর খুন করা হয় ৩ জনকে। খুনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শিশুরাও। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সারাদেশে ২২ শিশু খুন হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭৮ শিশু। আর ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৪ নারী ও শিশু। যাদের কাজ মানুষের নিরাপত্তা দেয়া তাদের হাতেও নিহত হচ্ছে মানুষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অপহরণের পর খুন করা হচ্ছে। কথিত ক্রসফায়ারের নামেও নিহত হচ্ছে মানুষ। এমনকি কারাগারের মধ্যে নিহত হচ্ছে মানুষ।মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, অপহরণ এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার প্রশাসন যে হিসাব দিচ্ছে প্রকৃত হিসাব তার চেয়েও অনেক বেশি। বছরে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হচ্ছে, যাদের অনেকেই পরে আর উদ্ধার হয়নি। বছরের পর বছর নিখোঁজ তারা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে (২০১৩-১৫) সারাদেশে ১৮৮ জন অপহরণের পর নিখোঁজ হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩২ জনের লাশ পাওয়া গেছে। বাকি ১১৫ জনের হদিস নেই। সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে; যাদের কাউকে আটকের কথাই স্বীকার করেনি প্রশাসন। সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ১৬ জনকে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের লাশ পাওয়া যায়। গত তিন মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ক্রসফায়ারের ৩২ জন নিহত হয়। তাছাড়া কারাগারে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বিএসএফের হাতে ২০১৫ সালে ৪৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়। চলতি মাসের মার্চ পর্যন্ত বিএসএফ ৫ জন বাংলাদেশিকে খুন করেছে। তাছাড়া গণপিটুনিতে খুন হচ্ছে মানুষ। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১৮ জনকে খুন করা হয় গণপিটুনিতে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১৬ সকাল ৯:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×