somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গায়েন রইসউদ্দিন
আমি রইসউদ্দিন গায়েন। পুরনো দুটি অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে না পারার জন্য আমি একই ব্লগার গায়েন রইসউদ্দিন নামে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি এবং আগের লেখাগুলি এখানে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আবার প্রকাশ করছি।

এক ভয়ঙ্কর ষড়য্ন্ত্র'র ময়নাতদন্ত (গুজরাত ফাইলস)...ক্রমশঃ (২)

১১ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনে হ'ল দুষ্কৃতিটি ধরা পড়েছে কিনা তার খোঁজ নেওয়ার জন্য ওই মাঝরাতেই তদন্তকারী অফিসারকে মেসেজ পাঠানো দরকার। মেয়েটি সুস্থ হ'ল কিনা জানার জন্য পরের দিন হাসপাতালে গেলাম। নানারকম সংক্রমণ ঘটেছে তার শরীরে, ক্ষতস্থানে মাছি বসছে, ছোট্ট কবজিতে ছুঁচ ফোটানো রয়েছে। তার মা-বাবাকে চোখে পড়ছে না। অফিসে পৌঁছে আমার উর্ধ্বতনকে বললাম বিষয়টায় বিশেষ গুরূত্ব দেওয়া দরকার, যাতে অপরাধী ধরা পড়ে এবং তার বিচার হয়। একটু হেসে নিজের ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে রইলেন তিনি। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। আমার বস্ বললেন, এর বদলে আমি যেন মিলান সাবওয়ে আর বৃষ্টির দিকে মন দিই এবং বন্যার কিছু ভাল ছবি জোগাড় করি।
'এ-সব করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়', মিলান সাবওয়ের দিকে যাওয়ার পথে মাকে ফোন করে চেঁচিয়ে বললাম আমি। মুম্বাইয়ের বিখ্যাত বর্ষার মরশুমে এই জায়গাটা আলোকচিত্রীদের খুব প্রিয় হয়ে ওঠে। বুকের মধ্যে যেন ঢেঁকির পাড় পড়ছে। সারাদিন কিছু খেতে পারলাম না। ঘটনার তিনদিন পর পারিবারিক চিকিৎসক আমাকে ঘুমের ওষুধ দিলেন। সম্পাদককে ফোন করে বললাম, আমার এক সপ্তাহ ছুটি চাই। ছোট্ট মেয়েটির ঘটনার আগে স্টুডেন্টস্ ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া (সিমি) সম্বন্ধে একটা অন্তর্তদন্তমূলক কাজ করছিলাম আমি। কাজটা করার সময় সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নীতিবোধ নিয়ে সম্পাদকের সঙ্গে জোরদার তর্ক হয়েছিল আমার। আমার কথাগুলো মন দিয়ে শুনে তিনি এমন কিছু বলেছিলেন, যা আমি আজও ভুলতে পারিনি।
যে বিষয় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে তা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়ার কৌশল আয়ত্ত করা দরকার একজন ভাল সাংবাদিকের এবং তাকে বাস্তববাদী হতে হবে। এই কৌশল আয়ত্ত করে উঠতে না পারার জন্য আজও দুঃখ হয় আমার। সেটা আরও এই কারণে যে এই কৌশল প্রায়শই ব্যবহৃত হয় বানিজ্যিক ও রাজনৈতিক শক্তিগুলির নির্দেশে কোনও ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অজুহাত হিসেবে।...(ক্রমশঃ)
২০১০এর গ্রীষ্মকালটা সাংবাদিকতার নতুন সংজ্ঞা ঠিক করে দিল আমার জন্য। নিজেকে একজন পরিশ্রমী, মধ্যমেধার সাংবাদিকই মনে করতাম আমি, যে তার পুরোনো ঘরানার সাংবাদিক পিতার কাছ থেকে কিছু আদর্শ পেয়েছে। কিন্তু ওই সময়ে নিজেকে এমন এক সংকটের মুখোমুখি দেখতে পেলাম, তেমন সংকটে যেন কোনো সাংবাদিককে পড়তে না হয়।
অসুস্থতাজনিত দীর্ঘ ছুটির পর ২০১০ সালের কোনো এক সময়ে আবার 'তেহেলকা'-র কাজে যোগ দিয়েছি। সারা দেশের চিকিৎসকরা সঠিকভাবে আমার রোগ নির্ণয় করতে পারেননি। কিছুদিন আগে গড়চিরোলির নকশালপন্থী কার্যকলাপের কেন্দ্রভূমিতে একটা রিপোর্টিং-য়ের কাজ সেরে ফিরেছি। তার ঠিক পরেই ঘটল আমার জীবনের সবথেকে মর্মান্তিক একটা ঘটনা। খুন হয়ে গেল আমার অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু শাহিদ আজমি। ফৌজদারি আইনে দেশের সবথেকে বিচক্ষণদের একজন আজমি-র খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল আমার জীবনে। যেদিন সন্ধ্যায় ও খুন হয়, সেদিনই ওর সঙ্গে আমার দেখা করার কথা ছিল সেইসব আদিবাসী ও বুদ্ধিজীবীদের মামলা নিয়ে আলোচনা করার জন্য, যাদের নকশাল নামে চিহ্নিত করেছে সরকার এবং মিথ্যে মামলায় যারা জেলে পচছে।
কিন্তু ভবিতব্য অন্য কিছু ভেবে রেখেছিল। ভাইঝির আবদারে বাড়িতেই থেকে যেতে হল আমাকে। সেদিন ওর সতেরতম জন্মদিন। এদিকে আমার ফোনে কয়েক ডজন মিসড কল্ এসেছে, মেসেজ পাঠিয়ে অনেকেই জানতে চেয়েছে 'শাহিদের ব্যাপারে শেষ কোনো খবর' আমি জানি কিনা। এগুলো আমি পরে দেখেছিলাম। বাকিটুকু জানলাম বন্ধুদের লাগাতার ফোনে এবং নিউজ চ্যানেলগুলোর ব্রেকিং নিউজ থেকে। 'জাতীয়তাবিরোধী' ব্যক্তিদের মামলা হাতে নেওয়ার জন্য শাহিদকে তার অফিসেই গুলি করে মেরেছে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা। কিছুদিন আগেই শাহিদের সওয়ালের জোরে ৭/১১-র মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণের নিরপরাধ অভিযুক্তরা মুক্তি পেয়েছিল। ওর মৃত্যুর পর ২৬/১১-র মুম্বই হামলায় দু'জন অভিযুক্তকে মুক্তি দেয় মুম্বই কোর্ট। শাহিদের হত্যার পিছনে মূল ষড়যন্ত্রী কে (?) তা আজও রহস্য রয়ে গেছে, অন্তত সাধারণ মানুষের কাছে।...(ক্রমশঃ)

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:০২
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুবোধকে আমরা কি খুব দ্রুত ‘ব্র্যান্ড’ বানিয়ে ফেলছি?

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০১




ঢাকার দেয়ালে একসময় হঠাৎ করেই দেখা দিত একজন মানুষ। নাম তার সুবোধ। পাশে লেখা থাকত ‘হবেকি?’

কে এঁকেছে, কেন এঁকেছে, আবার কোথায় আঁকবে—কেউ জানত না। ওই না-জানাটাই ছিল শিল্পের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি শোক সংবাদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:০৯



পেটের দায়ে সপরিবার নীলফামারি থেকে কুমিল্লা শহরে এসে,
ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মোঃ শরিফুল ইসলাম;
তিনি এখন মরহুম! স্ত্রী ও ২ কন্যা নিয়ে ছিলেন কোনোরকমে বেঁচেবর্তে।

গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুনাফেকি নাকি Diplomatic situationship?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০


গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×