somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গায়েন রইসউদ্দিন
আমি রইসউদ্দিন গায়েন। পুরনো দুটি অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে না পারার জন্য আমি একই ব্লগার গায়েন রইসউদ্দিন নামে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি এবং আগের লেখাগুলি এখানে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আবার প্রকাশ করছি।

এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের ময়নাতদন্ত (গুজরাত ফাইলস) ৪র্থ পর্ব

১৬ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোরাবুদ্দিনের ঘটনা অবশ্যই প্রকাশ্যে আসা উচিত । মায়ের ইনকলাব পড়ার সূত্রে সুযোগটা এসে গেল আমার কাছে । কী এক তাড়নায় চলে গেলাম স্থানীয় সাইবার শপে । সোরাবুদ্দিন সংক্রান্ত যাবতীয় লিঙ্ক থেকে জানা গেল, সিবিআই এ-ব্যাপারে তদন্ত করেছে এবং গুজরাতের একজন শীর্ষস্থানীয় আই.পি.এস অফিসার অভয় চুদাসামা গ্রেপ্তার হয়েছেন । চুদাসামাকে আমি চিনতাম । মাত্র এক বছর আগেই গুজরাত বিস্ফোরণ মামলায় তাঁর এক প্রধান সাক্ষীর স্বীকারোক্তি আমি প্রকাশ করার পর টেলিফোনে আমাকে হুমকী দিয়েছিলেন তিনি । গুজরাত বিস্ফোরণের তদন্তের মূল দায়িত্বে ছিলেন চুদাসামা, যে বিস্ফোরণের সঙ্গে ‘ইন্ডিয়ান মজাহিদিন’ নামক গ্রুপটি যুক্ত ছিল ।রাজ্যের সব থেকে স্পষ্টবাদী ও মিডিয়াঘনিষ্ঠ অফিসারদের একজন ছিলেন চুদাসামা । শোনা যেত, তিনি নাকি গুজরাতের গৃহমন্ত্রী অমিত শাহের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন । তবে খ্যাতিমান হয়ে ওঠা অন্যদের থেকে আলাদা ছিলেন চুদাসামা । আমরা পরে দেখব, চোর-জোচ্চোর ও হাওলা সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন তিনি । এবং সোরাবুদ্দিন তাঁর সহায়ক হয়ে উঠেছিল ।
যাবতীয় প্রিন্ট আউট আর নোট তৈরি করে, এই ঘটনা এবং এটি নিয়ে লেখালেখির প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে দিল্লিতে আমার দুই সম্পাদক সোমা চৌধুরী ও তরুণ তেজপালের কাছে একটা চিঠি পাঠালাম । মনে মনে জানতাম, আমার স্ব-আরোপিত বিচ্ছিন্নতা ও অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসার এটাই একমাত্র উপায় । দুই সম্পাদকই প্রচুর উৎসাহ দিলেন । আবার আমেদাবাদ রওনা দিলাম আমি । এই আমেদাবাদ যাত্রা আমার জীবন পাল্টে দিয়েছিল ।
ওখানে যাওয়ার একমাসের মধ্যেই দুটো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনি আমি । কয়েকজন অফিসারের সাহায্যে কলরেকর্ড আর বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নোট ঘেঁটেই কাজটা করতে পেরেছিলাম । এই অফিসারদের নাম আমি উল্লেখ করব না । খুব সতর্কভাবে তাঁদের সাহায্য চাই, জানতাম তাঁরাই আমার একমাত্র আশা । কিন্তু গুজরাতের মতো একটা রাজ্যে বিশ্বাস অর্জন করা আদৌ সহজ নয়, যেখানে কর্তব্যনিষ্ঠ অফিসারদের সরকারের রোষের শিকার হতে হয় । তাছাড়া এঁদের মধ্যে বেশিরভাগ সেই প্রথম দেখলেন আমাকে । বিষয়টা আরও জটিল ছিল এই কারণে যে, আমি হচ্ছি তেহেলকা সাংবাদিক, অর্থাৎ ধরেই নেওয়া যায় যে-কোনো সময় আমার কাছে একটা স্টিং ক্যামেরা থাকতেই পারে ।
গুজরাতে আমি যে বিষয়টার মুখোমুখি হয়েছিলাম, তা অবশ্য শুধু গুজরাতকেন্দ্রিক বিষয় ছিল না । সৎ পুলিশ অফিসারদের নামে মামলা রুজু করে হেনস্তা করাটা উত্তরপ্রদেশ আর মণিপুরেও একেবারে জলভাত হয়ে উঠেছে—এই দুটি রাজ্য সম্বন্ধে বিস্তৃত রিপোর্টিং করেছি আমি । এ-ও বুঝেছিলাম যে এই হেনস্তা করার ব্যাপারটাই আমার রক্ষাকর্তা হয়ে উঠবে । সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যে-অফিসার জানিয়েছেন, দেখা গেল তিনি আসলে এমন কোনো অফিসারের সহপাঠী ছিলেন, যাঁর সম্বন্ধে কিছু রিপোর্ট করেছি আমি । এভাবেই বরফ গললো । মানবাধিকার কর্মী ও তথ্য-যোগানো অফিসারদের সহায়তায় বছরের সবথেকে চাঞ্চল্যকর একটা ঘটনা ফাঁস করতে সক্ষম হলাম আমি । এটা ছিল সংঘর্ষ চলাকালীন তৎকালীন গৃহমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে উচ্চপদস্থ অফিসারদের ফোনে কথাবার্তার কলরেকর্ড । কলরেকর্ডের সঙ্গে ছিল অভ্যন্তরীণ ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ সংক্রান্ত একটা অত্যন্ত নিন্দাজনক নোট । মন্ত্রীর কার্যকলাপের দিকে নজর রেখেছিল সিআইডি এবং ওই নোটে বলা হয়েছিল, সংঘর্ষ হচ্ছে নিরাপরাধ মানুষদের হত্যা করার ও তাদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার এক কুৎসিত চক্রান্ত ।
এই রিপোর্ট রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলল । সিবিআই থেকে ‘তেহেলকা’র দপ্তরে বাবার বার ফোন করে বলা হতে লাগল কলরেকর্ডগুলো তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক—পরে সুপ্রিম কোর্টের সামনে রেকর্ডগুলো পেশ করা হয়েছিল ।....(ক্রমশঃ)

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১:৪৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×