somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গায়েন রইসউদ্দিন
আমি রইসউদ্দিন গায়েন। পুরনো দুটি অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে না পারার জন্য আমি একই ব্লগার গায়েন রইসউদ্দিন নামে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি এবং আগের লেখাগুলি এখানে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আবার প্রকাশ করছি।

এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের ময়নাতদন্ত (গুজরাত ফাইলস) ৫ম পর্ব

১৬ ই নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমেদাবাদের হোটেল অ্যাম্বাসাডরেই তখনও থাকছিলাম আমি । হোটেলটা ততদিনে আমার দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে উঠেছিল । মূলত মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকা খানপুরে অবস্থিত এই হোটেলটা আমার পক্ষে যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল । পরে জেনেছিলাম ওখান থেকে মাত্র কয়েকটা ব্লক পরেই ছিল রাজ্য বিজেপি-র দপ্তর । হঠাৎই সবার নজর এসে পড়ল আমার ওপর । বিজেপি নেতারা বলতে লাগলেন, আইয়ূব নামে একজন অল্পবয়সী ছোকরাই এইসব তথ্য ফাঁস করেছে । যে-কোনো কারণেই হোক তাঁদের মাথায় আসেনি যে, অন্তর্তদন্তমূলক সাংবাদিকটি কোনো মেয়েও হতে পারে । আমার তাতে কোনো অসুবিধে ছিল না, বরং এর ফলে নির্বিঘ্নে কাজ করে যেতে পারছিলাম । তবে এই সুবিধেটা বেশিদিন রইল না । রিপোর্ট প্রকাশিত হবার কয়েকদিন পরে অজানা নম্বর থেকে একটা মেসেজ এল আমার ফোনে, ‘আমরা জানি তুমি কোথায় আছ’।
জীবন সত্যিই পালটে গেল । সেইদিন থেকে শুরু করে তিনদিন অন্তর বাসস্থান পালটাতে লাগলাম; আমেদাবাদের আইআইএম ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন গেস্ট হাউস, হস্টেল আর জিমখানায় । পলাতকের মতো জীবন । এইসময় মোবাইল ফোনের বদলে ল্যান্ডলাইন ব্যবহার করতে শুরু করি । অবশেষে সিবিআই-কে যা-কিছু তথ্যপ্রমাণ জোগানো সম্ভব সবটুকু দিয়ে এবং আমার ফলো-আপ রিপোর্ট লেখা শেষ করে মুম্বাইতে এসে পৌঁছোলাম । ঠিক করলাম জীবনযাপনকে একটা রুটিনের মধ্যে আনতে হবে ।
কিন্তু ভবিতব্য আমার জন্য অন্য কিছু ভেবে রেখেছিল । রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অমিত শাহকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই—স্বাধীন ভারতের এই প্রথম কোনো কার্যরত গৃহমন্ত্রী গ্রেপ্তার হলেন । চারদিকে আলোড়ন পড়ে গেল । অধিকাংশ জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা গান্ধীনগরে সিবিআই দপ্তরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে শুরু করলেন । এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারির পরবর্তী ঘটনাস্রোতের রিপোর্ট করার জন্য গুজরাতে ফিরতে হল আমাকে ।
শাহের আমলে যে-সব পুলিশ অফিসার বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছিলেন, শাহের গ্রেপ্তারি যেন তাদের নতুন জীবন দিল । এইসময় বিভিন্ন অফিসার আমাকে কৌশলে জানাতেন যে তাঁরা আমার সঙ্গে কথা বলতে চান । আগে যাঁরা সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলতেন, এখন যেন তাঁরা কথা বলার শক্তি অর্জন করেছেন । অধিকাংশ কথোপকথনই ছিল ব্যক্তিগত, অফ দ্য রেকর্ড, কিন্তু সেটুকু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল সংঘর্ষের ঘটনাগুলো হিমশৈলের চূড়ামাত্র । গুজরাতের বিভিন্ন ঘটনার ফাইলে আরও ভয়াবহ কিছু লুকিয়ে আছে । আমরা কেউই সত্যের কাছাকাছি পৌঁছোতে পারিনি । বোঝা যাচ্ছিল বিগত এক দশকে বিচারব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে । মানুষের জীবনের নিরাপত্তার ভার যাঁদের হাতে, তাঁরা বিক্রি হয়ে গেছেন । সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ভুয়ো সংঘর্ষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক হত্যা পর্যন্ত বহু বিষয়ে বহু বেয়াড়া সত্য সামনে আসার জন্য অপেক্ষা করছিল । কিন্তু এগুলোর মধ্যে কোনোটাকে প্রমাণ করা যাবে কীভাবে ?
সাংবাদিকতার প্রথম কথাই হল প্রমাণ এবং আমার হাতে কোনো প্রমাণই ছিল না । ছিল শুধু কথোপকথন আর কিছু ঘটনার বিবরণ, অফ দ্য রেকর্ড স্বীকারোক্তি । এ-সব প্রমাণ করব কী করে ? তখনই আমি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিই, যা আমার জীবনকে পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে পালটে দেয় । রানা আইউবের বদলে দেখা দেবে মৈথিলী ত্যাগী, কানপুরের এক কায়স্থ মেয়ে, ‘আমেরিকান ফিল্ম ইন্সটিটিউট কনজারভেটরি’র ছাত্রী, গুজরাতের উন্নয়ন এবং সারা পৃথিবীর অনাবাসী ভারতীয়দের মধ্যে নরেন্দ্র মোদির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে একটা চলচ্চিত্র বানানোর জন্য যে দেশে ফিরে এসেছে । (ক্রমশঃ)....

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×