somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গায়েন রইসউদ্দিন
আমি রইসউদ্দিন গায়েন। পুরনো দুটি অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে না পারার জন্য আমি একই ব্লগার গায়েন রইসউদ্দিন নামে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি এবং আগের লেখাগুলি এখানে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আবার প্রকাশ করছি।

নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায়

১৭ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায়
সুফী জুলফিকার হায়দারের লেখা এই বইটির অনেক পুরানো একটি কপি আমার কাছে আছে । আমার যতদূর মনে পড়ে ‘সামু’-তে একসময় এই বইটি কারো কাছে আছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন, কোনো একজন লেখক-বন্ধু । আমি বলেছিলাম ‘আমার কাছে আছে, আমার ই-মেলে যোগাযোগ করুন’ শুধু একজন বন্ধু সিডনী, অস্ট্রেলিয়া থেকে ই-মেলে যোগসূত্র রেখেছিলেন, আমার কাছে তখন পিডিএফ কপি না থাকার জন্য পুরো বইটার স্ক্যান্ড কপি করে পাঠিয়েছিলাম । এখন সেভাবে সামু-তে প্রকাশ করার প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হ’ল । একজন পাঠক-বন্ধুর পরামর্শে আমি টাইপ ক’রে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিলাম । শুভেচ্ছা সর্বক্ষণ !!
ভূমিকা
‘নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায়’ সম্পর্কে কৈফিয়তস্বরূপ যৎকিঞ্চিৎ ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে । ১৯৩২ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত আমি ব্যক্তিগতভাবে কবি নজরুল ইসলামের সঙ্গে সখ্যসূত্রে আবদ্ধ ছিলাম, নিকটতম বন্ধু এবং অনুজপ্রতিম ভ্রাতা হিসাবে জড়িত ছিলাম ।
১৯৪৫ সাল থেকে আমার ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবর্তন সূচিত হতে শুরু করে । অবশ্য প্রথম দিকে সে ছিল একান্তভাবেই আমার মানসজগতের ব্যাপার—যার ক্রমপরিণতি হিসাবে আমি সংসার জীবনের কোলাহল থেকে সামগ্রিকভাবে দূরে সরেই ছিলাম । কবির সাথে মেলামেশা করার সময়, অথবা পরবর্তীকালে তাঁর চিকিৎসার সময়, আমার কোন পরিকল্পিত উদ্দেশ্য ছিল না, এবং ছিল না বলেই কবির প্রতিটি খুঁটিনাটি কাজ এবং কথাবার্তা আমি লিখে রাখিনি । আমি কোনদিন ভাবিওনি যে, ‘নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায়’ আমাকেই একদিন লিখতে হবে । দীর্ঘ বিশটি বছর ধরে আমার নিকট কবির এবং তাঁর নিকট আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবদের বহু চিঠি-পত্রাদি মওজুদ থাকা সত্ত্বেও এ-গ্রন্থ লেখার কথা কিছুদিন আগে পর্যন্ত আমার মনে জাগেনি ।
নজরুল ইসলাম রোগাক্রান্ত হয়ে প্রতিবাদ-শক্তি হারাবার পর নজরুল সম্পর্কে যে সব গ্রন্থ বাজারে বেরিয়েছে ঐ সবের কোন কোনটিোত ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে । ঐ সমস্তের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমার গুণগ্রাহী বন্ধুমহল আমাকে নজরুল সম্পর্কে একটি প্রামাণিক গ্রন্থ লেখার জন্য বিশেষ তাগিদ দিতে থাকেন । কবি নজরুল ইসলামের জীবনীগ্রন্থ রচনা করা আমার পক্ষে জাতীয় কর্তব্য বলেও অনেকে দাবী করেছেন ।
বর্তমানে সবাই, বিশেষ করে তরুণ সাহিত্যিক সম্প্রদায় নজরুল সম্পর্কে বহু কিছু জানার জন্য অত্যন্ত উৎসুক । আমার বিশ্বাস এঁদের অনেকেই নজরুলের জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে গবেষণায় ব্রতী হবেন । আশা করছি, আমার এই লেখা তখন তাঁদের কিছুটা কাজে লাগবে ।
এ পুস্তকে পূর্ব পাকিস্তানের বহু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে । কবির সেই দুর্দিনে যাঁকে আমি যেভাবে দেখেছি বা পেয়েছি, অনেকটা হুবহু সেভাবেই লিপিবদ্ধ করেছি । কোন অতিরঞ্জন কোথাও স্থান পায়নি, সত্যের মর্যাদা কোথাও ক্ষুন্ন হয়নি । অবশ্য এ কথা মানতে হবে যে, কবির প্রতি তখন তাঁরা যে মনোভাব পোষণ করছিলেন, তদানীন্তন অবস্থার ও রাজনৈতিক পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে তা হয়ত অস্বাভাবিক ছিল না ।
এই জীবনীগ্রন্থ লিখতে গিয়ে যে দুটো ত্রুটির কথা আমি বিশেষভাবে অনুভব করছি তা হচ্ছেঃ (১) এই গ্রন্থ সংলাপ আমার স্মৃতি থেকে লিখতে হয়েছে । (২) পূর্ব-পরিকল্পিত নয় বলে প্রতিটি দৈনন্দিন ঘটনাবলীর তারিখ উল্লেখ সম্ভব হয়নি ।
এই বই-এর পান্ডুলিপি তৈরি ব্যাপারে আন্তরিক উৎসাহের সাথে যাঁরা আমাকে সাহায্য করেছেন তাঁরা হচ্ছেন আমার পরম স্নেহাস্পদ জামাতা আব্দুর রশীদ ও ভাগিনেয় আবু জামাল খন্দকার । তাদের জন্য রইলো অজস্র স্নেহ-সিক্ত কল্যাণ আশীর্বাদ ।
জুলফিকার হায়দার
খোশবাগ,
১৮১, নিউ রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া, ধানমন্ডি
মধুবাজার, ঢাকা—১
২৫শে মে, ১৯৬৪

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪২
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×