somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গায়েন রইসউদ্দিন
আমি রইসউদ্দিন গায়েন। পুরনো দুটি অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে না পারার জন্য আমি একই ব্লগার গায়েন রইসউদ্দিন নামে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি এবং আগের লেখাগুলি এখানে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আবার প্রকাশ করছি।

নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায় ১

১৮ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিরাজগঞ্জ সম্মেলন
১৯৩২ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে এক রবিবারে সকালবেলা আমি কবির বাড়িতে গেলাম । তখন কবির বাড়িতে নেপালী দারোয়ান, গ্যারেজে দামী মোটর । বেশ শান-শওকতের সঙ্গেই তিনি ছিলেন । এ সময় তিনি ৩৯, সীতানাথ রোডে এক ভাড়াটিয়া বাড়িতে বাস করতেন ।
বেলা তখন ৯টা । আমি সোজা দোতলায় চলে গেলাম । বৈঠকখানায় গিয়ে দেখি সিরাজগঞ্জের আসাদউদ্দৌলা শিরাজী বসে আছেন । আমিও আসন গ্রহণ করলাম । কিছুক্ষণ পরেই কবি এলেন । সদ্যস্নাত এবং পরিচ্ছন্ন ধুতি-গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় সেদিন সকাল বেলায় কবিকে খুবই সুন্দর দেখাচ্ছিল । তিনি মেঝেয় পাতা বিছানায় আমাদের সাথে আসন গ্রহণ করলেন এবং বললেনঃ এই যে তোমরা কতক্ষণ থেকে বসে আছ ?
আসাদউদ্দৌলা শিরাজী অবশ্যি আমার আগে থেকেই বসেছিলেন । আমি বললামঃ এই কিছুক্ষণ হলো ।
শিরাজী সাহেব সিরাজগঞ্জে নিখিলবঙ্গ মুসলিম যুব সম্মেলন অনুষ্ঠানের ইচ্ছা ও আগ্রহ নিয়ে কবির দরবারে হাজির হয়েছিলেন । এ-কথা সে-কথার পর তিনি তাঁর প্রস্তাব পেশ করলেন । সেই আসন্ন সম্মেলনে কবিকে সভাপতিত্ব করতে হবে । কবি শুনেই তাঁর স্বভাব-সুলভ হাসির তরঙ্গ তুলে বললেনঃ তুমি আর লোক পেলে না ? আমাকে দিয়ে এসব হবে-টবে না—কি বলতে কি বলে ফেলবো । শেষটায় হয়তো কাফের ফতোয়ায় আমাকে অভিষিক্ত করবে । নিখিলবঙ্গ যুব-সম্মেলন করতে চাও—বেশ করো । কিন্তু সভাপতিত্ব করার জন্য অন্য কাউকে গিয়ে ধর—আমাকে নয় । শুনছো আসাদ, যুব-সম্মেলনে আমার বলবার কথা যথেষ্ট রয়েছে । কিন্তু তোমার দেশ তো তা চায় না ।
কবির কথাবার্তার মাঝে বেদনামিশ্রিত অভিমানের সুর আমি সুস্পষ্ট লক্ষ্য করলাম । কিন্তু শিরাজী সাহেব নাছোড়বান্দা । তিনি বার বার একান্তভাবে কবিকে অনুরোধ করেই চলেছেন । শেষ পর্যন্ত কবি রাজী হলেন ।
আলাপ আলোচনার মাঝে তখন বেলা একটা বেজে গিয়েছে । ভেতর থেকে কবির খাওয়ার জন্য তাগিদ এলো । শীর্ণকায় রাম (চাকর) এসে যখন খাবার কথা বললো, তখন আমি আর শিরাজী সাহেব উঠে দাঁড়ালাম, বললামঃ কাজী দা তাহলে আজকের মতো আসি । কাজীদা বললেনঃ না বসো । এটা খাবার সময়, আর তোমরা খাবে না—না খেয়ে চলে যাবে, তা হয় না ।
তিনি আবার রামকে ডাকলেন । এলো তালপাতার সেপাই রাম ! কবি বললেনঃ সামনের বারান্দায় জায়গা পরিষ্কার করে তিনজনের খাবার নিয়ে এসো ।
রাম বালতি ন্যাকড়া এনে জায়গা নিকিয়ে কাঠের পিঁড়ি তিনখানি এনে পেতে দিলে । তারপর এলো খাবার । তিনজন খেতে বসলাম । কাঁসার থালা, পিতলের পেয়ালা, গ্লাস—এক কথায় নিখুঁত হিন্দুয়ানী পরিবেশ, কায়দা-কানুন, পরিবেশনের ধারা ইত্যাদিও ।
তিনজনে গল্প করছি আর খাচ্ছি । খাবার আয়োজন ছিল ভাল । কিন্তু বিশেষ করে আজো যা আমার মনে পড়ছে তা হচ্ছে—সেই কাঁসার থালায় লাল নটেশাকের অপূর্ব সুন্দর রঙ—যেন মেঝেটার রঙকেও হার মানায় । সেদিন খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বেলা প্রায় আড়াইটার সময় আমরা কবির বাড়ি থেকে বের হলাম । (ক্রমশঃ)

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫২
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×