প্রিয় বুয়া,
অফিসের কাজে আজ বিকেলে আমি রংপুরে যাবো। সারা সকাল অফিস করে মাত্র বাসায় ঢুকলাম। গোসল সেরে ফ্রিজ খুলে দেখি ঠান্ডা পানি নাই। জগ হাতে নিয়ে রান্না ঘরের দিকে গেলাম! কলসি থেকে পানি ঢালবো! ফুটানো পানি! কিন্তু না। রান্নাঘরের দরজা থেকেই আমাকে ফিরে আসতে হলো! বহু দিনের জমে থাকা খাবার, সবজি আরো নানাবিধ আবর্জনার মিলিত গন্ধ আমাকে বিভ্রান্ত করে দিলো! আমি এখন পানি না খেয়ে আছি!
ঈদ হলো ১৮ তারিখ। আমরা অফিস করলাম ১৬ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত! ১৭ তারিখ বাড়ি গেলাম! অথচ তারও দুই দিন আগে, ১৪ তারিখে, আপনি বেতন-বোনাসসহ ছুটিতে গেলেন! বললেন ৫ দিন থাকবেন। আপনার ৫ দিন কবে শেষ হবে বুয়া? ২১ তারিখ বিকেল থেকে আমি অফিস করছি। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীতো ২০ তারিখ থেকেই অফিস করছেন! আর আপনি?
আপনিতো জানেন, আপনার খালা (আমার বউ) সব কাজ করতে রাজি আছে, শুধু থালা-বাসন-কোসন-হাঁড়ি-পাতিল ধোয়ার কাজ ছাড়া! এই কাজে আমারও অনাগ্রহ! অথচ এই মুহুর্তে এই কাজটিই আমাদের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। আপনি অন্তত: ২ দিনের জন্যে এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে অাবার ফিরে যান, কোনো আপত্তি নাই!
আপনিতো জানেন, আমরা আপনাকে কতটা শ্রদ্ধা করি! কখনো কোনো কাজের হুকুম করিনা। আপনারে ইচ্ছে হলে আসেন, না হলে আসেননা। সন্ধ্যের পরে আসতে হয় বলে প্রায়ই কামাই করেন। অধিকাংশ দিন আমরাই থাকিনা! সব মিলে মাসে দিন দশেক! তবুও আমরা কিছু বলেছি? কখনো ১০ টাকা কম দিয়েছি? বরং সব মাসেই আমার স্ত্রী আপনাকে একটু বাড়িয়েই দেয়। বলে, আহারে মুরব্বী মানুষ! এগুলো কী ভালবাসার প্রকাশ নয়?
আপনি আসেন। একবার দেখে যান আমরা কেমন অাছি! তারপর দিন দুয়েক থেকে, দরকার পড়লে আবার ঘুরে আসেন!
আপনাকে দেখার জন্য মনটা কেমন কেমন করে!!!
পত্র পাঠে উত্তর না দিয়ে সরাসরি দেখা করলে আনন্দিত হবো!
ইতি,
তিন তলার শিল্পী খালা ও তার জামাই!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




