
তথ্য-প্রযুক্তিতে মানবজাতি যত অগ্রগতি লাভ করছে, মানব সভ্যতার জন্য হুমকিও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় পৃথিবীর বুকে যেই ডায়নোসররা রাজত্ব করে বেড়িয়েছে, তাদেরকেও এক নির্মম পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। মানব সভ্যতা কিভাবে ধ্বংস হতে পারে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কোন শেষ নেই। তবে মানব সভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি তাদের নিজেদের অাবিষ্কৃত প্রযুক্তিই। অাসুন জেনে নিই এমন ৫টি বিধ্বংসী প্রযুক্তি যা অামাদের জন্য যেকোন সময় বিপর্যয় ডেকে অানতে পারে।

১) হার্প বা হাই ফ্রিকোয়েন্সি একটিভ অরোরাল রিসার্স প্রোগ্রাম হলো এমন একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রযুক্তি চালু করে। অনেক গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে সুনামি, ভূমিকম্পের মত প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটানো যায়।

২) পারমাণবিক অস্ত্র সবসময়ই মানবজাতির জন্য এক হুমকির নাম। অার সেই অস্ত্র যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে হুমকির মাত্রাও বহুগুণ বেড়ে যায়। রাশিয়ার কাছে এমনই এক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি অাছে। পেরিমিটার নামে পরিচিত ডেড হ্যান্ড সিস্টেম অাপদকালীন সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম।

৩) বর্তমান সময়ের অালোচিত অারেকটি প্রযুক্তির নাম "লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার" বা সংক্ষেপে "এলএইচসি"। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অফ নিউক্লিয়ার রিসার্স কর্তৃক পরিচালিত এই যন্ত্রটি প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এর ওজন প্রায় ৩৮ হাজার টন! এর ভেতরে বিভিন্ন পারমাণবিক কণিকার মাঝে কৃত্রিমভাবে সংঘর্ষ ঘটানো হয়। অনেকেই ধারনা করেছিল, এধরনের সংঘর্ষের ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষ্ণগহবর তৈরী হয়ে সমগ্র মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে।

৪) বিভিন্ন মুভিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবটের উপস্থিতি প্রায়ই চোখে পড়ে। তবে মুভির সেই রোবটগুলোকে বাস্তব রূপ দানের জন্যও অনেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীতে এখন অনেক উন্নত রোবট অাছে এবং সেগুলোকে অারও উন্নত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান রোবটগুলো মানুষের নির্দেশ মেনে চললেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবটকে মানুষ কিভাবে বশ করবে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে।

৫) এলিয়েন তথা ভীনগ্রহবাসীদের নিয়ে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। মানুষ সবসময়ই চেয়েছে অন্য কোন গ্রহে যদি বুদ্ধিমান কোন প্রজাতি থেকে থাকে, তারা যেন মানব সভ্যতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। সেই উদ্দেশ্যে ১৯৭৭ সালে মহাকাশে ভয়েজার ১ ও ২ নভোযান প্রেরন করা হয় যাতে বিশ্বের ৫৫টি ভাষায় সম্বোধন রেকর্ড করা অাছে। এছাড়াও রয়েছে মানুষের হৃৎপিন্ডের শব্দ, বৃষ্টির শব্দ এবং পাথর নির্মিত যন্ত্রপাতির শব্দ। মানুষের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা যে একদিন মানবজাতির বিপর্যয় ডেকে অানতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারন কলাম্বাসের অামেরিকা অাবিষ্কার পর সেখানকার অাদিবাসীদের কি অবস্থা হয়েছিল, সেই ইতিহাস নিশ্চয় সবার জানা অাছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১৮ সকাল ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



