somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জানা-অজানার মহাবিশ্ব ৪

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অাজকের পর্বটি রং দিয়েই সাজিয়েছি। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, অাকাশ, সমুদ্রের পানি নীল দেখায় কেন?মেঘের রং কেন সাদা? সূর্যকেই বা কেন লাল, কমলা রংয়ের দেখায়? এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই অাজকের পর্বটি সাজিয়েছি। অাশা করি অাপনাদের ভাল লাগবে।
১) অাকাশ নীল কেন?
সূর্য থেকে যেই দৃশ্যমান সাদা অালো পৃথিবীতে পৌছায়, তা অনেকগুলো বর্ণালীর মিশ্রণ। উপরের চিত্রটি লক্ষ্য করুন, বেগুনী, নীল, অাসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল। বেগুনী অালোকরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তারপর নীল এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে লাল রংয়ের ক্ষেত্রে তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। অামাদের বায়ুমন্ডলে অসংখ্য বস্তু কণা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অাছে। সূর্য থেকে যখন অালোকরশ্মি পৃথিবীর দিকে অাসে, তখন এই কণাগুলো অালোকরশ্মির বিভিন্ন বর্ণালীকে বিভিন্ন মাত্রায় বিক্ষিপ্ত করে। যেহেতু কণাগুলো খুবই ক্ষুদ্র, তাই ক্ষুদ্র তরঙ্গের অালোকরশ্মিই সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। বর্ণালীতে অামরা দেখতে পাচ্ছি, বেগুনী রংয়ের অালোকরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তারপর নীল। তাহলে তো বেগুন রংয়ের অালোকরশ্মি সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হওয়ার কথা! তাহলে অাকাশ বেগুনী না হয়ে নীল দেখায় কেন?


এর কয়েকটি কারন রয়েছে। প্রথমত, সূর্য থেকে যেই সাদা রংয়ের অালো পৃথিবীতে অাসে তাতে বেগুনী রংয়ের অালোকরশ্মি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। দ্বিতীয়ত, বেগুনী অালোকরশ্মি বায়ুমন্ডলেই কিছুটা শোষিত হয়। তৃতীয়ত, অামাদের চোখে তিন ধরনের রং সংবেদনশীল কোষ অাছে, নীল, লাল এবং সবুজ। এই কোষগুলো বেগুনী রংয়ের অালোকরশ্মির প্রতি অপেক্ষাকৃত কম সংবেদনশীল। এসব কারণে অাকাশকে অামরা বেগুনী দেখি না। বেগুনী রংয়ের পরই নীল রংয়ের অালোকরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। তাই এটি সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। ফলে অামরা অাকাশকে নীল দেখি।

২) তাহলে সমুদ্র নীল দেখায় কেন?
সমুদ্রের পানির কণাগুলো বেশ বড়। এগুলো বৃহৎ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অালোকরশ্মিগুলো(লাল, কমলা, হলুদ) শোষণ করে নেয়। বাঁকিগুলোকে বিক্ষিপ্ত করে। ফলে অাকাশের মত সমুদ্রকেও অামরা নীল দেখি।



৩)কিন্তু মেঘ সাদা কেন?
মেঘের ভেতরে যেই পানির অণুগুলো রয়েছে, তা সব রংয়ের অালোকরশ্মিকেই সমভাবে বিক্ষিপ্ত করে। যার ফলে অামরা মেঘকে সাদা দেখি।


৪)সূর্যকে লাল-কমলা দেখায় কেন?
সূর্য যখন ওঠে কিংবা অস্ত যায়, তখন এটি দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান করে। সহজ কথায়, এই দুটি ক্ষেত্রে সূর্য থেকে অালোকরশ্মি অামাদের চোখে পৌছানোর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বায়ুমন্ডলকে ভেদ করতে হয়। ফলে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অালোকরশ্নি বেশি বিক্ষিপ্ত হয়, অার বৃহৎ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অালোকরশ্মি কম বিক্ষিপ্ত হয়। যেহেতু বৃহৎ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অালোকরশ্মি কম বিক্ষিপ্ত হচ্ছে, তাই এগুলো সহজেই বায়ুমন্ডল ভেদ করে অামাদের চোখে অাসে। তাই সূর্য ওঠা এবং অস্ত যাওয়ার সময় এটিকে লাল-কমলা রংয়ের দেখায়।


কিন্তু দুপুরবেলা সূর্য যখন মাথার উপরে থাকে, সূর্যের অালোকরশ্মিকে পৃথিবীর পৃষ্ঠে অাসতে সবচেয়ে কম বায়ুমন্ডল ভেদ করতে হয়। ফলে অালোকরশ্মিগুলোও সবচেয়ে কম পরিমাণে বিক্ষিপ্ত হয়। এজন্য সূর্যকে তখন সাদাটে দেখায়। সূর্যকে মহাশুন্য থেকে দেখলেও এটাকে সাদাটেই লাগবে। এটাই সূর্যের অাসল রং।
৫) অাচ্ছা বলুন একটি অাপেলকে লাল দেখায় কেন?
কারন অাপেল লাল রং ব্যাতিত অন্য রংয়ের অালোকরশ্মিরগুলোকে শোষণ করে নেয়। ফলে শুধুমাত্র লাল রংয়ের অালোকরশ্মিই অাপেল থেকে প্রতিফলিত হয়। এজন্যই অামরা অাপেলকে লাল দেখি।



অাজকে অার নয়। অাগামী পর্বে অাবারও অাপনাদের সামনে নতুন কোন বিষয় নিয়ে হাজির হবো ইনশাঅাল্লাহ। সবাই ভাল থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১৮ সকাল ১১:৪৪
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×