somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুখ গুলো ঘুড়ি হয়ে উড়ে গেল

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এইইই এইইই

-হুমম

-কি করো?

-গল্প লেখি

-কি গল্প?

-ভালোবাসার

-সুখের নাকি দূঃখের?

-সুখের

-দূঃখের গল্প লিখতে পারো না?

-দূঃখের গল্প লিখতে ভালো লাগে না

-কেন?

-কষ্ট লাগে

-তবুও আমার জন্য লিখো না একটা দূঃখের গল্প

-আচ্ছা লিখবো

-কবেএএএ?

-সুখ গুলো যেদিন ঘুড়ি হয়ে উড়ে যাবে

মৃত্তিকার এসব আবদার শুনতে শুনতে আমার কান ঝালাপালা হয়ে যায়।একেক সময়ের আবদার গুলো একেক রকমের।অহেতুক অদ্ভূত সব আবদার।আর সেসব না মেটালেও শাস্তিটাও হয় অদ্ভূত রকমের।মেয়ে সাবার সামনেই কান ধরে উঠবস করায়,কখনোও বা দূরে দূরে থাকে,কখনোও কয়েক দিনের জন্য কথা বন্ধ করে দেয়।

এবারের আবদার দূঃখের গল্প লেখার।যেটা আমার দ্বারা বরাবরই হয়ে ওঠে না।হয় না বললে,ভুল হবে।আসলে দূঃখের গল্প লিখতে ভয় হয়,কষ্ট লাগে।মনে হয় সুখের সুতোটা এই বুঝি কেটে গেল।এজন্যে অনেক বার না করেছি।কিন্তু মৃত্তিকার সেই একগুয়েমি ভাবের কাছে অবশেষে আমিই পরাজিত বারবার।যেমনটা হত তার সাথে আমার প্রথম দিন গুলোতেও।

কোন এক ঘুড়ি ওড়ানো পড়ন্ত বিকেলে তার সাথে আমার পরিচয়।সে এসেছিলো একটা লাল ঘুড়ি নিয়ে,আমি সবুজ,আরো অনেকে অনেক রংয়ের।কাটাকাটি খেলতাম।সে কাটতো আমার ঘুড়ি,আমি তার।এভাবে কাটাকাটি খেলতে খেলতে পরিচয়।সে একদিন আমায় বলেছিল,আমি নীল প্রজাপতি ঘুড়ির খবর জানি কিনা?অজানা সত্তেও সেদিন বলেছিলাম,জানি।পরে অবশ্য সারা শহর তন্যতন্য করেও খুঁজেও পাই নি নীল প্রজাপতি ঘুড়ির সন্ধান।লজ্জায় ওমুখো হই নি কয়েক দিন।তারপর যেদিন গেলাম আবার,গাল টেনে দিয়ে বলেছিলো এসো খেলি ঘুড়ি কাটাকাটি।

শুরুটা এভাবে।তারপরের সময়টাও কেটে গেছে সুন্দর ভাবে।ঘুড়ি কাটাকাটি থেকে হয়েছে নাকে ফুচকা ঠেসে দেওয়া,গাল টেনে দেওয়া থেকে হয়েছে বন্ধুত্ব,হয়েছে ভালো লাগা।ভালো লাগার শেষটা হয়েছে ভালোবাসায়,দুই জনের বোঝাপড়ায়।

জীবনে সুখটা পেয়েছি অফুরন্ত।দূঃখটা মাঝে মাঝে এসে ছুয়ে দিয়ে গেছে।ঐ একটু ছোয়াতেই ভয় পেয়েছি,কষ্টটা গাঢ় হয়ে জেকে বসত।

দূঃখকে ভয় করি বলেই হয়ত বিধাতা মৃত্তিকার সাথে আমার বন্ধনটাও করে দিয়েছিলো।সাড়ে তেরো হাত লাল পেড়ে শাড়ি পরেই সে এসেছিলো আমার ঘরে।সেই ঘরকে আলোকিত করে উপহার দিয়েছে প্রথম সন্তান সাবাকে।

আমি,সে,সাবা তিন জনের সুখের সংসার।সুখ গুলো মিশে আছে আমাদেরই পরশে অতি আপনে।সেই সুখের পরশে একটু খানি ভালোবাসা জমল চতুর্থ জনের আগমন বার্তায়।

অফিসের জরুরি মিটিং এ পড়ে ফ্যাসাদে পড়ে গিয়েছিলাম।অতি কষ্টে মিটিং শেষ হওয়ার আধাঘন্টা আগে অফিসের গাড়িটা নিয়ে ছুটলাম।গ্রীন লেন রোডের পাশে এসে দাড়াতেই সুখে বুঝি একটু ভাটা পড়লো।প্রচন্ড জ্যামের মধ্যে পড়ে গেলাম।অস্থির চিত্তে অপেক্ষা করতে লাগলাম জ্যাম ছোটার।হঠাত্‍ রাস্তার পাশের এক দোকানে চোঁখ পড়তেই গাড়ি থেকে ছিটকে বের হলাম।দৌড়ে গিয়ে দোকানে ঝুলিয়ে রাখা ঘুড়িটা হাতে নিলাম।মৃত্তিকার অতি পছন্দের নীল প্রজাপতি ঘুড়ি।সে এটা পেলে খুব খুশি হবে নিশ্চয়ই।ঘুড়িটা কিনে নিয়ে আবার গাড়ির দিকে হাটা দিলাম।

গাড়ির কাছে আসতেই মোবাইলটা বেজে উঠলো তার আপন সুরে কারো আমায় স্মরনে।মোবাইলের ডিসপ্লেতে লেখা সাবা মনি।রিসিভ করতেই কানে ভেসে আসলো,সাবার কান্না।তাকে কেউ সামলাচ্ছে বোধহয়।লোকটাকে চিনতে পারলাম না।তবে বিড়বিড় করে কি যেন বলল,মৃত্তিকা....অটিতে...আর নেই

পুরো দুনিয়াটা ঝাপসা হয়ে গেল আমার।হাত ফসকে পড়ে গেল ধরে রাখা নীল প্রজাপতি ঘুড়িটা।পাশে দাড়িয়ে থাকা একটা ছোট্ট ছেলে এসে উড়িয়ে দিল সেটা আকাশে।

সুখ গুলো ঘুড়ি হয়ে উড়ে গেল...
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×