somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আহমেদ রাতুল
নৈতিকতার দিক থেকে আমি নিঃস্ব। লেখাপড়ায় চরিত্রের সংস্কার বদলায় না। ভেতরের অন্ধকার ঘোচে না। নাচ মহলে হাজার বাতির রোশনাই, খাসমহলে অন্ধকার।

আশিকুর রহমানের ডায়েরি-৪

১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা আমাকে ভাবে নির্ঘাত উন্মাদ, ঘরবন্দি থেকে কী সব লিখে রাখছি পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায়... তারা জানুক, আশ্চর্য সংঘাতের ভিতর কীরকমভাবে বেচে আছি আমি... বুকের ভিতর দাঁড়ানো একাকী বৃক্ষ থেকে অনর্গল পাতা ঝরে আর গোপনে অরগ্যানে বাজতে থাকে ছাই ওড়ানো সুর! আমার প্রতিটি স্বপ্নঘরের দরজায় দুলছে বিষধর গোখরের ফণা। তার চোখে চোখ রেখে শতাব্দীর ...


প্রতিদিন স্বাভাবিক নিয়মে বেঁচে থাকি-। গতকাল যেভাবে বেঁচেছিলাম মনে হয়েছিল- পরেরদিন বেঁচে থাকার দরকার নেই। তারপরও বেঁচে থাকি। জানালার কাঁচ দিয়ে আকাশ দেখি, সময় হলে অফিসের পথে পা বাড়াই অথবা মিশে যাই এই মানুষের ভারে নুয়ে পড়া শহরের অহংকারে। মহাবিশ্ব অথবা পৃথিবীর নিয়ম রক্ষা করতে গিয়ে আমাকে আদেশের শব্দ অনুসরণ করতে হয়। এভাবেই নিয়মের বারান্দায় একটি চেয়ারে পেতে তাতেই হেলান দিই এবং আমি চা খাই। ঘুমের পরে আয়নায় নিজেকে দেখবার জন্যে আগ্রহী হই- নানাবিধ কারণে কারো সাথে রেগে যাই, কাউকে ভালোবেসে ফেলি, কাউকে বুকে জড়াই এবং অনেককেই ভুলে যাই।

অনেকের অবজ্ঞা, কারো ছায়ামুখ কিংবা উষ্ণ আবেগেরও মুখোমুখি হই। কারো ঘোলা চোখে ক্ষুধার নখগুলো ভেসে ওঠে এবং আমি তা দেখতে পেয়ে ভেঙে পড়ি- একটা টেবিল পেতে কিংবা প্লেটের নিচে হাত নিয়ে ভাতভর্তি আঙুলগুলো লোকটির মুখে তুলে দিতে চাইলেও পারি না। এদিকে আছে আলস্য, খানিকটা শারীরিক তারুণ্য অথবা বরফের পেয়ালায় চুমুক। তারপর ছায়াদেখা রাত, অন্ধকার শুন্যগোলক।

চায়ের কাপ আমার প্রিয় জিনিসের তালিকায় নাম লেখায়- কারণ চায়ের পেয়ালা থেকে যে ধোঁয়া উড়তে থাকে তাতে আমি খুঁজে পাই দৃশ্য। নানাবিধ অঙ্কন। আর্ট। দেরিতে দরজা বন্ধ করে শুতে যাওয়া কিংবা দরোজা খুলেই ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস বহু পুরনো। হাস্যোজ্জ্বল সকালে টের পাই দরোজাটা খোলাই ছিল- শার্ল বোদলেয়ার, বুদ্ধদেব কিংবা দারবিশের কবিতার বইয়ের ওপর ধুলোর আস্তরণ মনে করিয়ে দেয় অনেকদিন হাতে নেয়া হয়নি । টের পাই পাশ্চাত্যের দর্শন আমাকে টানছে না- প্রাচ্যের সভ্যতা আমাকে বিমুখ করছে ইতিহাসের পাতা থেকে। অনুমান করি আজ বৃষ্টি হচ্ছে- ভুল ভাঙে ইট ভাঙতে থাকা নারীর হাতে উল্কির মতো ফোস্কা পড়া হাত দেখে। ধারণা করি আজ রোদ হাসবে- আদালতের রায় শুনে আগুন লেগে যায় শহরের ফুটপাতে।

আমি ধারণা করি এবার সূর্যমুখী পাহাড়ে দাবানল ছড়িয়ে যাবে- আমার অনুমান পাথর হয়ে যায়। মৃত্তিকালোভী ইঁদুরেরা ভয় পেতে শুরু করে। পাখিরা আকাশে আরেকটি আকাশ নির্মাণে ডানাগুলো বাতাসে উড়ায়- একে একে পুরো আকাশ পাল্টে যায় এবং অসাধারণ পাখিগন্ধফুল ফুটতে শুরু করে। আমি অবাক হয়ে, পাখিদের ভালোবাসতে শুরু করি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"কর্পোরেট_ফ্যাক্টসমুহ"

লিখেছেন মামুন রেজওয়ান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"কর্পোরেট_ফ্যাক্ট_২১"



সব সময় ইন্টার্ভিউ দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমরা জানতে পারি অনলাইনে। কিন্তু যারা ইন্টার্ভিউ নেন বিভিন্ন পজিশনের জন্য তাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা জানা হয়না আমাদের। তাই আমরাও যারা মোটামুটি এক্সপেরিয়েন্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×