somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আহমেদ রাতুল
নৈতিকতার দিক থেকে আমি নিঃস্ব। লেখাপড়ায় চরিত্রের সংস্কার বদলায় না। ভেতরের অন্ধকার ঘোচে না। নাচ মহলে হাজার বাতির রোশনাই, খাসমহলে অন্ধকার।

প্রিয় আকাশি

১৯ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্যারিসের চিঠি
লতিফুল ইসলাম শিবলী


প্রিয় আকাশি,
গতকাল ঠিক দুপুরে তোমার চিঠি পয়েছি। খামের উপর নাম ঠিকানা পড়েই চিনতে পেরেছি তোমার হাতের লেখা;
ঠিকানা পেলে কিভাবে লেখনি; কতদিন পর ঢাকার চিঠি;
তাও তোমার লেখা, ভাবতে পারো আমার অবস্থা??

গতকাল প্যারিসে ঝরেছিলো এ বছরের রেকর্ড ভাঙ্গা তুষারপাত।
তামাক ফুরিয়ে গেছে আনতে পারিনি; এই প্রথম আমি অনেকটা সময় নিয়ে ভুলেছিলাম তামাকের গন্ধ। তোমার চিঠিতে পরিবর্তন আর বদলে যাওয়ার সংবাদ; তুমি কষ্ট পেয়ে লিখেছো - রাত্রির ঢাকা এখন নিয়নের স্নিগধতা ছেড়ে নিয়েছে উতকট সোডিয়ামের সজ্জা,
আমাদের প্রিয় রমনা রেস্তোরা এখন কালের সাক্ষী,
শীতের বইমেলা পরিণত হয়েছে মিনাবাজারে,
টি এস সি'র চত্বরে যেন উপ্তপ্ত বৈরুত।
বদলে যাওয়া কষ্টের অপর নাম স্বৃতি এখন তাই নিয়ে বুঝি মেতে আছো;
এই পরবাসে আমার চোখের সামনেও
বদলে যেতে দেখলাম কত সুদুর ইতিহাস-
বালির বাধের মতন ভেসে গেল বার্লিন প্রাচীর ...
ইংলিস চ্যানেলের তল দিয়ে হুইসেল বাজিয়ে চলছে ট্রেন;
ইউরোপের মানচিত্র এখন রুটি হয়ে গেছে,
ক্ষিদে পেলেই ছিড়ে ছিড়ে খাও,
স্বাধীনতা মানেই যেন উদর পুর্তি ...
তুমি লিখেছ - "তোমাকে ভুলেগেছি কিনা?"
প্রিয় আকাশি,
আমি জেনে গেছি-
পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন কাজ ভুলে থাকা;
স্বৃতি থেকে পালিয়ে বাচার জন্য এই সুদীর্ঘ প্রবাসের অর্ধেকটা কাটিয়েছি বোহেমিয়ানদের মত ঘুরে ঘুরে
মাদ্রিদ থেকে হামর্বুগ;
নিউক্যাসল নেপোলি থেকে প্রাগ বুখারেষ্ট মেসিডোনিয়া;
নর্থ সি থেকে মেডিটেরিয়ান কিংবা ব্ল্যাক সি।
তবু বাচতে পারিনি স্বৃতি থেকে।
ফ্রানকফুটের বইমেলায় নতুন বইয়ের গন্ধে মনে পড়েছে তোমাকে।
সিসটাইন চ্যাপেলের
লাস্ট জাজমেন্টের মত মহান সৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে
প্রথমেই মনে পড়েছে তোমাকে।
সিসিলির কার্নিভেলে এথেন্সের কফিশপে জমজমাট কবিতা পাঠের আসরে মনে পড়েছে তোমাকে
সুইজারল্যান্ডের লেকের কাছে স্বচ্ছ জলে নিজের ছায়ার পাশে যাকে খুজেছি, সে তুমি;
ভাটিক্যানের প্রার্থনা সভা শেষে এক গ্রীক তরুণীকে বাংলায় কি বলেছিলাম জানো?
বলেছিলাম- 'তুমি আমার আকাশী হবে?'
ভুলতে পারেনি তোমাকে, শত চেষ্টা করেও পারিনি

আর কেউ না জানুক অসংখ্য জিপসি রাত জানে সেই না ভুলতে পারা ইতিহাস।
তুমি জানতে চেয়েছো প্যারিসের কথা- সত্যি বলতে কি,
প্যারিস খুলে দিয়েছে আমার আত্নার চোখ, সংগীত আর শিল্পের অভীন্ন সুর আমি শুধু প্যারিসেই শুতেছি।
কর্নসাটে যতবার মোর্জাট কিংবা বিতোভেন শুনেছি
ততবারই কেন যেন চিরদুখী পাগল ভিনসেন্ট ভ্যানগগের কথা মনে পড়েছ।
সমস্ত প্যারিসের রাস্তায় গ্যালারিতে ফেষ্টিভেলে খুজে ফিরেছি ভিনসেন্টের কষ্ট।
তোমার প্রিয় গায়ক জিম মরিসনের শেষ দিনগুলো কেটেছে এই প্যারিসে
প্যারিসেই জিমের কবর। অগনিত শিল্পীর কষ্ট থেকে প্যারিস পেয়েছে সৌন্দর্য, কষ্টই প্যারিসের ঐশ্বর্য।
আমাদের সুর্বন সময়ের স্বপ্নের প্যারিসে আজ নিজেকে ভীষন একা মনে হয়
এলোমেলো পড়ে আছি শিল্প সাহিত্যের এই জাগযজ্ঞে
তীব্র শীতের জন্য শ্বাস কষ্ট ভোগার মাঝে মাঝে
এইতো সেদিন আবারো বদলালাম চশমার কাচ।
প্রতিনিয়ত হেরে যাচ্ছি, সময়ের কাছে;
তুমি মনে রেখো পরির্বতনের দমকা হাওয়ায় আমি বদলাইনি এতটুকু।

বাইজেনটাইন সম্রাজ্ঞীর মত তোমাকে ঘিরে থাক পৃথিবীর সমস্ত সুখ।
তুমি আন্দ্যি সুন্দরী হয়ে ওঠো তোমার সৃষ্টিতে।
তুমি ভালো থেকো ... প্রিয় আকাশী ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৮ রাত ১১:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"কর্পোরেট_ফ্যাক্টসমুহ"

লিখেছেন মামুন রেজওয়ান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"কর্পোরেট_ফ্যাক্ট_২১"



সব সময় ইন্টার্ভিউ দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমরা জানতে পারি অনলাইনে। কিন্তু যারা ইন্টার্ভিউ নেন বিভিন্ন পজিশনের জন্য তাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা জানা হয়না আমাদের। তাই আমরাও যারা মোটামুটি এক্সপেরিয়েন্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×