somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শোষণগোলকে শোষিত

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবী যদি আবাস হয় আর আমরা,মনুষ্যজাতি যদি এর বাসিন্দা হই,তাহলে বলতে হয় যে আমরা এক শুণ্যে ভাসমান শোষণগোলকে বাস করি।এমন এক শোষণস্থল যেখানে অফুরন্ত চর্ব্য,চোষ্য,লেহ্য,পেয় থাকা সত্ত্বেও কেবল শোষণই প্রকটভাবে প্রতীয়মান।কেবল চুষে খেতেই আমাদের পরমাত্মা পরিতৃপ্তি লাভ করে।অনেক মহাত্মার পক্ষেও এই চুষে খাওয়ার লোভ সংবরণ করা কঠিন হয়ে ওঠে। আম-আত্মাদের কথা দূরেই থাক।এর কারণ হিসেবে জ্ঞানগর্ভ গবেষণায় না গিয়ে কেবল একটা কথাই বলতে পারি।মায়ের পেট থেকে পড়ার ঠিক পরমুহূর্ত থেকেই একমাত্র খাদ্য "মায়ের দুধ"টুকু আমরা কিন্তু একরকম শোষণ করেই পান করেছি।আর তখন থেকেই আমরা শোষণ অব্যাহত রেখেছি।এখন আপনিই বলুন,এইসব জন্মগত অভ্যাস কি এত সহজে ছাড়া যাআআই?
এখন চলছে বিংশ শতাব্দী।মানুষ এখন কত্ত ক্রিয়েটিভ।আর শোষণও হচ্ছে নিত্যনতুন ক্রিয়েটিভ উপায়ে।শোষণের আবহে এমনভাবে লেপ্টে আছি যে অনেক শোষণই গায়ে সওয়া হয়ে গিয়েছে। শোষণকে আর শোষণ বলে মনে হয়না।শোষণের ঢং দেখে মনে হয় এটা শোষণকারীর ন্যায্য অধিকার।আপত্তি করলেই তেড়ে আসবে নাহয় জিডি করে দেবে।।
চুষণকর্ম কাহাতক যায় একবার দেখুন।আমার বন্ধু ভার্সিটিতে গেল ভর্তা হতে, ধুত্তোর ভর্তি হতে। ভর্তির ফি কত তা ডিপার্টমেন্টএ এসে জেনে নিলো,কিন্তু ফি স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি মনে হওয়াতে বন্ধুটি কর্তব্যরত পিয়নকে ব্যাখ্যা করতে বললো কোন খাতে কত নিচ্ছে তারা।পিয়ন সবিস্তারে সব ব্যাখ্যা করে শেষে বললো,ডিপার্টমেন্ট হেড স্যারের দুঠো বই বের হয়ছে গত হপ্তায়। ওইগুলোও আপনারে দেওয়া হপে।এর জন্য লাগবে একাজার(একহাজার)। বন্ধুবর মোর তো পুরাই মাননীয় স্পিকার হয়ে গেল।এরপর ফেসবুকে স্টেটাস "ফিলিং সাক্ড"।
হ্যা,দেশ ডিজিটাল(!) হচ্ছে।আমাদের শোষণও ডিজিটাল হচ্ছে।কেবল আমাদের মন মানসিকতাই এনালগ রয়ে যাচ্ছে।সেদিন দেখলাম এক রিক্সাওয়ালা ভাইকে চড়-থাপ্পড় মারছে এক ডিজিটাল নাগরিক।কারণ হল ভাইটি ৫ কি ১০ টাকা বেশি চেয়েছে।ঘর্মাক্ত পরিশ্রম করে হাতেপায়ে রিক্সা টেনে সুদূর থেকে অদূরে একেবারে বাড়ির দরজার সামনে নিরাপদে নামিয়ে দিয়ে ভাইটি কি করলেন? অপকৌশলে না খেয়ে জালিয়াতি না করে ৫-১০টা টাকা সবিনয়ে চেয়ে নিলেন।বলতে গেলে ভিক্ষে চাইলেন,তবুও তা ভিক্ষা নয়।এই ১০টা টাকা দিয়ে যাতে খালিপেটে,আধাপেটে থাকা বউ বাচ্চার পেটে যতসামান্য বাড়তি কিছু দেওয়া যায়।আর আমাদের ডিজিটাল নাগরিক এতে মহা শোষিত বোধ করলেন।ব্যাটা জোচ্চোর রিক্সাওয়ালা,বাড়তি টাকা দিয়া ব্যাংক বেলেন্স বাড়াইবি না?
প্রশ্ন হল,আমাদের নাগরিকটি কেবল এইক্ষেত্রেই শোষিত বোধ করছেন? না নিত্য শোষিত হচ্ছেন বলে এই সামান্য ক্ষয়টাও ধাতে সয়ছেনা উনার?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:০৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×