somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

A Tribute to Women (!)

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(ইহা নিতান্তই হালকা লেখা। সিরিয়াস মানুষদের জন্য নহে)

জীবনে যত শিক্ষা লাভ করিয়াছি তাহার মধ্যে একটি হইতেছে, নারীজাতিকে কখনোই তাহাদের পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে উপদেশ দিতে নাই। দিলেই আশাহত, এমনকি বাঁশাহত (বাঁশ + আহত) হওয়াও বিচিত্র নহে। স্কুলে পড়ার সময় নারীজাতিকে মোটামুটি পরিহার করিয়াই চলা হইত। কেউ কোন রমণীর সাথে বিশেষ কথাবার্তা বলিলে উহাকে মোটামুটি গর্হিত ক্রিয়া হিসাবেই গণ্য করা হইত। আমরা সেই বালককে লইয়া পরিহাস করিতে ছাড়িতাম না, তাহার জীবন অতিস্ট করিয়া নিষ্ঠুর আমোদ পাইতাম। এক বন্ধু একবার ক্লাস ক্যাপ্টেন হইয়াছিল, আমরা তাহাকে আর তাহার নারী ভাইস-ক্যাপ্টেনকে লইয়া এমনই মশকরা করিতাম যে সে বেচারা উক্ত ভাইস-ক্যাপ্টেনকে একরকম পাশ কাটাইয়াই চলিত। সে বেচারা এখন আমাদের শাপ-শাপান্ত করে, আমাদের মত কুলাঙ্গাররা না থাকিলে বেচারার উক্ত ভাইস-ক্যাপ্টেনের সাথে এতদিনে একটা প্রেম হইয়া যাইত। বন্ধুর অভিযোগ উড়াইয়া দেওয়া যায় না।



কলেজে উঠিয়া সকলের ভোল পালটাইয়া গেল। নারীজাতির সঙ্গলাভ বিশেষ কৃতিত্বের বস্তু হিসেবে বিবেচিত হইতে লাগিল। নিতান্ত অবলাকান্ত ধরণের বালকটিও রমণী বশীকরণের নিত্যনতুন কৌশল প্রদর্শন করিয়া তাক লাগাইয়া দিতে লাগিল! আমি যে শ্রেণীতে অধ্যয়ন করিতাম সেখানে আবার বালিকার সংখ্যা বালকদের দ্বিগুণ ছিল। সুতরাং, না মিশিয়া উপায় ছিল না।



সারাজীবন সংসার করিয়াও অনেকে রমণীকূলের মন বুঝিতে পারেন না, আমি ছয় মাস মিশিয়া কি বুঝিব? সে সময় কলেজের পাট সদ্য শেষ হইয়াছে। ফেয়ারওয়েলের আগে এক রমণী মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ করিল, সে নাকি ফেয়ারওয়েলে শাড়ি পড়িতে মনস্থ করিয়াছে। আমি লজ্জার মাথা খাইয়া আকণ্ঠ রোমান্টিসিজম পান করিয়া নেশাগ্রস্থ হইয়া কহিলাম, সুন্দরী (এই শব্দটুকু অবশ্য মনে মনেই কহিয়াছিলাম), কালো শাড়িতে তোমায় অপূর্ব লাগিবে। কালো শাড়ি পড়িয়া আসিও। 'সুন্দরী' আমাকে অবাক করিয়া দিয়া রাজি হইল। আমি অপেক্ষার প্রহর গুনিয়া দিন কাটাইতে লাগিলাম।



অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসিল। আমি অতি উৎসাহের চোটে অনুষ্ঠান শুরু হইবার দেড় ঘণ্টা আগেই হাজির হইলাম। কালো শাড়ি পড়া পরীকে আর খুঁজিয়া পাই না। একটু পড়ে আবিস্কার করিলাম, কোথায় পরী, কোথায় কালো শাড়ি? এ তো আকাশী শাড়ি পড়া আন্টি! নিমেষে মনটা তাবদা মারিয়া গেল। মন চাইতেছিল তৎক্ষণাৎ ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ করি, এ কি আন্টিমার্কা শাড়ি পরিধান করিয়াছ? আমার পছন্দের বুঝি কোন মুল্য নাই? ইতোমধ্যে অপর এক বালিকা উত্তমরূপে সাজুগুজু করিয়া আসিয়া হাজির হইলো বিধায় উক্ত ক্ষুদেবার্তা আর পাঠানো হইলো না। খুব ভাব ধরিয়া বালিকার সাথে ফটো তুলিলাম। ওমা! দিন কয়েক পড়ে বালিকা আমার এক বন্ধুকে বলিল, আমার পাশে নাকি উহাকে আমার খালার মত লাগিতেছিল! একজনকে আমি আন্টি বলিলাম, অপরজন দেখি স্বেচ্ছায়ই আন্টিত্ব লভিতে চায়।



এই সুযোগে বলিয়া রাখি, সম্পর্কে আন্টি নহে এমন কোন রমণীকে ভুলেও আন্টি বলিতে নাই। সে ২০১০ সালের কথা আমি তখন ছয় মাস হইলো খোমাবই (Facebook) ব্যবহার করি। এক বন্ধুনীর ছবি দেখিয়া আন্টি বলিয়া সম্বোধন করিয়াছিলাম। ভদ্রমহিলা আমাকে জনসমক্ষে তো আঙ্কেল ডাকিয়াছিলেনই, উপরন্তু ফোনেও ঝাড়ি দিতে ছাড়েন নাই। সুতরাং, সাধু সাবধান!



সবকথার শেষ কথা হইতেছে, আজকাল ন্যাড়ারা বারবার বেলতলায় যায়। বেলতলার এক অমোঘ আকর্ষণ আছে, যার দরুন হেলমেট পড়িয়া হইলেও ন্যাড়ারা বেলতলায় যায়। গুরু হুমায়ূন আহমেদ বলিয়াছিলেন, "প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে।" গুরুর কথার পিঠে বলিতে চাই, ন্যাড়া এবং বেলতলা কেউই প্রকৃতির বাইরে নয় বরং প্রকৃতিরই অংশ। বেলতলারা কেন যেন ন্যাড়াদের লইয়া আকর্ষণ-বিকর্ষণ খেলা করিতে পছন্দ করে। সে যাক, আসল কথায় আসি। সম্প্রতি এক রমণীকে তাহার পরিচ্ছদ লইয়া কিঞ্চিৎ উপদেশ দিবার সাধ হইতেছে। বেচারি মনে হয় নিজেকে এখনো ছোটবাবু মনে করে, তাই বাবুদের মত ছোট ছোট পোশাক পড়ে। দেখলে নিজেরই লজ্জা হয় মাঝে মাঝে। এ প্রসঙ্গে একখানা 'কোবতে' দিয়ে শেষ করছি।



''ছোট ছোট কাজে লাগে বড় বড় মামা

বড় বড় আপু পড়ে ছোট ছোট জামা

প্রগতির দুর্গতি থামা কেউ থামা।''

স্থুল কবিতা ব্যবহারের জন্য লেখক ক্ষমাপ্রার্থী ;)


১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×