somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রিফ্রাক্শন
আমি একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে চাওয়া নকল মানুষ। নিজ ধর্মে বিশ্বাসী ধার্মিক। নিজ কাজে নির্ভরশীল শ্রমিক। দেশকে ভালবাসা এক দেশপ্রেমিক।মানুষে মানুষে সচেতনতা বাড়ুক, দেশ হোক উন্নত, সমৃদ্ধশালী। মানবতা আশ্রয় নিক হৃদয়ে।

শিরোনামহীন লেখা

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে মা ফোন দিয়েছিলেন, কাল বাবার রিটায়ার্ডের দিন। আমাদের সবাইকে স্কুলে যেতে বলেছে। আপু গেছে বাড়িতে, আমাকে যেতে বলল। পরীক্ষা শেষে তাই দ্রুত থিসিস সুপারভাইজারের কাছে গেলাম। প্রেজেন্টেশন ছিলো। কাল না থাকলে পরে কোন ভাবে ব্যবস্থা করা যাবে কিনা জানতে গেলাম কিন্তু কতগুলো কথা শুনিয়ে দিল। এখন আর এসব কথা গায়ে লাগে না। গত ৬ বছর ধরে দিনের পর দিন শুনে আসছি। যেন প্রতিদিন না শুনলে খাবার হজম হয় না। কানের একটা অভ্যাস হয়ে গেছে।

এখন আর মন খারাপও খুব কম হয়, দ্রুত রুমে ফিরে গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে লাল মিয়ার দোকানে চা পানের উদ্দেশ্যে বের হলাম। মনের ভেতরে এমনিতেই চিন্তা চলে আসছে। হয়ত কাল বাবার পাশে থাকলে বাবা একটু সাহস পেত, বিদায় নিতে খুব একটা কষ্ট হত না। এখন তো যেতে পারব না। কিছু জিনিস যেন এড়ানো যায় না। রাতে মাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। বাবা শুনলে হয়ত বলবে, "সময় মত পাশ করলে ঠিকই থাকতে পারত"।

বেশ ভালোই চিন্তা হচ্ছিলো। অথচ ২য় বর্ষে থাকাকালীন যখন অনেককে দেখতাম একই সাথে পড়াশুনা, টিউশনি করে নিজেই নিজের খরচ জোগান দিচ্ছে। আর সেই সময়ে আমি লালা মিয়ার চায়ের দোকানে বসে মহিলা হোস্টেলের বারান্দায় ঝুলতে থাকা অন্তর্বাস দেখে, পদ্মার পারে গানে আড্ডায় দিন কাটিয়েছি। এখন বুঝছি, দিন সবারই কঠিন আসে, করো হয়ত কিছুদিন আগে কারো কিছুদিন পরে।

লাল মিয়ার দোকানে গিয়ে দেখি রাফা বসে আছে। রাফা আমার ছোট বেলার বন্ধু হলেও একই সাথে এক রুমে ভার্সিটি তে থেকেছি ৩য় বর্ষ পর্যন্ত।

দেখা হওয়ার সাথে সাথে রাফা খবর দিলো ও নাকি গতকাল লেকচারার হিসেবে জয়েন করল। আরো কয়েকটি কথা হলো। দুকাপ চা আর দুটো সিগারেট নিয়ে কথা শুরু করলাম।

-কি অবস্থা?
-ভালো। পরীক্ষা দিলাম। পাশ করলে আর দেওয়া লাগবে না। কাল থিসিস প্রেজেন্টেশন।

-কোন রুমে ছিলি?
-১০৯
-আমি তো ১০১ এ ডিউটি দিলাম।
-বাহ! জয়েন করেই ইনভিজিলেটর?
-বাদ দে! ওসব। অন্য কথা বল!

কথা বলতে বলতে হঠাত রাফার মোবাইলে ফোন আসলো। "নীতুর বাবা মারা গেছে"- বলে উঠে চলে গেলো রাফা।

আমি কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে ফোন দিলাম মা কে। ফোন ধরেই মা বললেন, "তোর জামিল চাচা আর নেই।"

আমি থ হয়ে বসে থাকলাম। শুধু মনে আছে, গত শীতেও এই জামিল চাচার সাথে আড্ডা দিয়ে ছিলাম। তিনি আমার সাথে খুব করে বলেছিলেন আমি যেন গ্রামে একটা লাইব্রেরী করি। নতুন কিছু বই সংগ্রহ করি। আমি তাকে কথা দিয়ে আসছিলাম।

জামিল চাচা আমাকে পছন্দ করত। যদিও তাঁর সাথে আমি জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধটা করেছি। তবুও জানিনা তিনি কেন আমার সাথে এত ভালো ব্যবহার করেন। হয়ত তিনি তখন খুব একা থাকতেন।

শুনেছিলাম, গত ঈদে নাকি নিজের মেয়ে জামাই কে মেনে নিয়েছেন, সে জন্য হয়ত আমাকে আর মনে পড়েনি।

জামিল চাচার মেয়ের নাম নীতু। ছেলে রফিক, পড়াশোনা না করে বাড়ির সামনে মুদি দোকান চালায়। সেই দোকানেই আমাদের বন্ধুদের বিড়ি খাওয়ার হাতে খড়ি।

একদিন দুপুরে একা বসে বিড়ি টানতে ছিলাম। হঠাত জামিল চাচার বাড়ির ছাদে দেখলাম, এক কিশোরী যেন তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে হাজির। কিছুটা মগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিলাম।

ধীরে ধীরে তখন মনের ভেতরে একটা স্বপ্ন বড় হতে থাকে। আমিও যত্নে লালন পালন করতে থাকি। কাউকে জানাই না। জামিল চাচার মেয়ে বলে কাউকে জানাইনি।

কিন্তু আমার সে স্বপ্ন যখন প্রায় কিশোরে পা দেবে ঠিক তখনই অকাল মৃত্যু হলো। সেদিন রুমে শুয়ে আছি, রাফা বাড়ি থেকে ফিরলো, কিছুটা চিন্তিত হয়ে। আমি জানতে চাইলাম কি হয়েছে। বেশ কয়েক বার গুতানোর পরে রাফা বলা শুরু করল, "জামিল চাচা তো নীতুর বিয়ে দিতে চাচ্ছে, কিন্তু আমি আর নীতু দুজন দুজনকে ভালোবাসি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা পালাবো কিন্তু কোন বুদ্ধি পাচ্ছি না। "

অকাল বয়সে কোন ছেলে মারা গেলে একজন বাবার মেনে নিতে যতটা কষ্ট হয়, আমার স্বপ্নটাও এভাবে আমার প্রিয় বন্ধুর হাতে খুন হওয়াতে আমারো সেই কষ্টটা হচ্ছিলো। তবুও মেনে নিয়ে বললাম, "আমি ঠিক করছি, তবে?"।

-তবে কি?
-না, একসাতে এত বছর থাকলাম, একই রুমে ৩ বছর কাটাতে চললাম কিন্তু কিছুই বুঝলাম না।

-আসলে, আমি কাউকেই জানায় নি। যদি কোন ভাবে জেনে যায় সবাই!

"চিন্তা করিস না, পালিয়ে যা থাকার ব্যবস্থা আমি করছি" বলে উঠে এলাম। বন্ধুকেও দোষ দিতে পারলাম না, কারন আমিও গোপন রাখতাম।

সেই নীতুকে পালিয়ে যেতে হেল্প করেছি, বিয়ে দিয়েছি রাফার সাথে। জামিল চাচা কে সান্ত্বনা দিয়ে রেখেছি।

তারপর রাফা হল ত্যাগ করে বাসা নিয়ে থাকা শুরু করে। আজ ৩ বছর হয়ে গেলেও কোন দিন নীতু আমার সাথে কৃতঙ্গতা বসতও একটা কথা বলেনি, আবার রাফাও ওর বসায় একদিন ডাকলো না।

আজ নিজেকে কেমন যেন মনে হচ্ছে। সময়ের কাজ সময়ে করতে পারিনি, নিজের স্বপ্ন তো মরে গেছেই সাথে মরে গেছে বাবার স্বপ্ন, তবুও বেঁচে আছি কেবল ভরসা আর বিশ্বাস নিয়ে।

হ্যাঁ, ভরসা আর বিশ্বাস। আমার পরিবার এখনও আমার ওপর বিশ্বাস টা রেখেছে। ভরসা করে আমার ওপর। শুধু মাত্র এই জিনিস টা ধরে রাখতেই কিছু একটা করতে চাই!

ধন্যবাদ
অলস সময়ে কাটাতে লেখা
২৪/০১/২০১৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×