somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতীয় সিরিয়াল ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এরিষ্টটলের রাষ্ট্র দর্শন মতে প্রত্যেক পরিবার সমেতই একটি রাষ্ট্র। সেই রাষ্ট্রে রাজা প্রজা সবই আছে। আছে রাষ্ট্র চালানোর আইন ও বিধি বিধান। কিন্তু সেই রাষ্টের দিদি-বৌদিদের আছে এক ব্যাধি যা এইডস কিংবা ইবোলার চেয়েও মারাত্মক। আজকের এই কথাগুলো তাদের জন্য বলছি, যারা মূলত এই কঠিন গোপন রোগে আক্রান্ত। কঠিন রোগ সর্বদাই গোপন থাকে। যেমন, মানুষের দেহে এইচআইভি ভাইরাস ১২-২৪ বছর নিরবে থাকতে পারে তারপর সেটা এইডস রূপে প্রকাশ পায়। ক্যান্সারের ভাইরাস দেহে পাঁচ থেকে ছয় বছর নিভৃর্তে বসবাস করে কিন্তু যখন সেটা ক্যান্সার রূপে প্রকাশ পায় তখন চিকিৎসা দিয়ে ভাল করা দূরহ হয়ে ওঠে। অথচ দিনের পর দিন মানুষ সেই রোগটিকে নিজের দেহে বয়ে বেড়াচ্ছে কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারেনা আর যখন বুঝতে পারে তখন আর সময় থাকেনা। সুতরাং শুধু রোগ নির্ণীয় করলেই হবেনা, চাই সঠিক সময়ে সঠিক রোগের চিকিৎসা। অনেক রোগ-ই নিভৃতচারী কিন্তু এর প্রকাশিত রূপ বড় ভয়াবহ। আমাদের রাষ্ট্রের দিদি-বৌদি, মাসি-পিসিদের সেই মারাত্মক রোগের নাম হলো সিরিয়াল আসক্ততা মানে ভারতীয় সিরিয়াল আসক্তি। এটা এমনই এক আসক্তি যা না দেখলে দিদি-বৌদিদের সংসারের কাজ হয় না, মন উরুউরু করে, অস্থির অস্থির লাগে, নিজের সম্পূর্ণ দিনটাই অসমাপ্ত মনে হয়। এটা এক ধরণের ছোয়াচে রোগ, যা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে, এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ছড়ায়। দিদি-বৌদিরা যে নিজেরাই এ রোগে আক্রান্ত শুধু তাই নয়, তারা তাদের কচি-কাচা বাচ্চাদেরকেও এই মূল্যবোধে দীক্ষিত করছেন। ঘরের সবাই মিলে, এমনকি বাসার কাজের বুয়ারাও অন্যকিছু হোক বা না হোক এই বিনোদন থেকে বঞ্চিত হন না। অন্যকিছুতে অধিকার থাক বা না থাক সিরিয়াল দেখার অধিকার আছে সবার। আমাদের সংসার সমেত রাষ্ট্রে এই হলো নীতির হালচাল। কারণ রাষ্ট্র হলো একটি সংঘটন স্বরূপ, সুতরাং আজকাল টিভির পর্দায় সংঘটন তত্ত্ব বেশ জনপ্রিয় একটি নীতি।
বিশ্বায়নের যুগে সৃষ্টি হয়েছে মুক্ত বাজার অর্থনীতি অর্থাৎ বার্ডার লেস মার্কেট। আর সেই নীতির নিষ্পেষণে নিষ্পেষিত হচ্ছে বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশ। এখন ভারতীয় সিরিয়াল আর কোন বিনোদনের খোরাক নয়, এটি এখন পন্য। শধু পন্যই নয়, এটি রমরমা একটি ব্যবসার নাম যা বাংলার গন্ডমূখ্যরা বুঝতে পারেনা। এখন প্রশ্ন হলো ভারতীয় সিরিয়াল কি শুধুই বিনোদনের খোরাক নাকি পন্য? আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি এগুলো কখনো বিনোদনের খোরাক নয় এটি পন্য। কারণ, আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যখনই ভারতীয় সিরিয়ালের যেই চরিত্রটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, ঐ চরিত্রটি যেই পোশাক, যেই অর্নামেন্টস পরে অভিনয় করে সেই পোশাক, সেই অর্নামেন্টসগুলোই তখন আমাদের মার্কেটে পাওয়া যায়। যেমন: আনারকলি, মাসাক্কালি, সানিয়ামির্জা, ঝিলিক, আশকারা, খুশি, প্রতিজ্ঞা, পাখি নামক ড্রেসে বাংলাদেশের বাজার ছেয়ে গেছে। সর্বস্তরে এদের প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। এখন খুব কম সংখ্যক মানুষই আছেন যারা সেলওয়ার কামিজ কিংবা দেশীয় শাড়ি কেনেন। অনেকে আবার বেশি বিক্রিয় জন্য দোনের নাম দিয়েছেন স্টার প্লাস কিংবা জি বাংলা। এতে করে ফুলে ফেপে আস্ত দানব হচ্ছে অন্য দেশ আর আমরা নিতান্তই মুমূর্ষ হয়ে পড়ছি। আমাদের দেশীয় ব্যবসায়ীরা তাদের পন্য বিক্রি না হওয়ায় হারাচ্ছেন দেশীয় পন্য তৈরীতে মনোযোগ এতে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। অন্যদিকে বিদেশী পন্যের তোড়জোড়ে ঢাকা পড়ছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্বত্তা। একদিকে ভারতীয় সিরিয়ালের আগ্রাসনী কলা কৌশল বুঝতে না পারা অন্যদিকে আমাদের দেশপ্রেমের ঘাটতি এই দুইয়ের স্বমন্বয়ে আমরা দিন দিন হারিয়ে ফেলছি আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ। বিজাতি সংস্কৃতি এখন আমাদের মাথার উপর সাপের বিষ ফেনা ঢালছে। মাথা বেয়ে সে বিষ যখন মুখে এসে পড়বে তখনই মৃত্যু অবধারিত। সে মৃত্যু আমাদের দৈহিক নয়, সে মৃত্যু নৈতিকতার, সে মৃত্যু মানসিতার, সে মৃত্যু আত্মিক, সে মৃত্যু বাংলাদেশী স্বত্তার। আর একটি জাতিকে ধ্বংস করা মানেই হলো তার সংস্কৃতি, কৃস্টি কালচারকে ধ্বংস করার পূর্বশর্ত। সৃষ্টির আদি লগ্নে মানুষ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধ করেছে খাদ্যের জন্য। খাদ্য চাহিদা নিবারণ হওয়ার পর মানুষ যুদ্ধ করল ভূখন্ডের জন্য অর্থাৎ রাষ্ট্রের জন্য। সেই চাহিদা নিবারিত হওয়ার পর মানুষ এখন যুদ্ধ করছে আধিপত্য, অর্থ আর সম্পদের জন্য। সে সময় যুদ্ধ হতো সরাসরি আর এখন যুদ্ধ হয় কৌশলে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়। এখনকার যুদ্ধের নাম হলো মেধার লড়াই, বুদ্ধির মাইর। অতঃপর এটাতো আমরা বুঝতে পারলাম যে, ভারতীয় সিরিয়াল কোন বিনোদনের খোরাক নয়, এটি এক প্রকার পন্য।
তাহলে আমরা এসব কেন দেখছি? এই প্রশ্নটার উত্তর খোঁজা প্রয়োজন। বাংলাদেশী চ্যানেলের অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন বিরতির কারণে অনেক দর্শকই বাংলাদেশী নাটক দেখার প্রতি তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এটা একটা কারণ হতে পারে। অন্যত্র ভারতীয় সিরিয়ালে অতিরঞ্জিত সাজসজ্জা, পোশাক পরিচ্ছেদের ব্যবহার অনেককে আকর্ষণ করে। সেখানে বিজ্ঞাপনের অত্যাচার কম। কিন্তু তাদের পুরো সিরিয়ালটাই যে বিভিন্ন পোশাক আর গহনার বিজ্ঞাপন সেটা আমরা বুঝতে পারিনা। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে যদি বিজ্ঞাপনের কারণেই আমাদের দর্শক কম হয় তাহলে বাংলাদেশী চ্যানেল এত বেশি বিজ্ঞাপন দেয় কেন? এবার এই উত্তরটা খুঁজব। বাংলাদেশের দর্শক পরিধি, দেশের আয়তন ও বিজ্ঞাপন বাজার অনুপাতে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল থাকা দরকার ছিল ১০-১২টি। কিন্তু সেখানে বর্তমান হিসেব মতে চ্যানেল সংখ্যা প্রায় ২৪-২৫টি। এতে করে বিজ্ঞাপন দাতারা আরগুমেনট ক্রিয়েট করছেন এবং অধিক চ্যানেল থাকার কারণে তারা বিজ্ঞাপন রেটও কমিয়ে দিচ্ছেন। যার কারণে সম্প্রচারকগণ অনুষ্ঠানের বাজেট ওঠানোর জন্য অধিক বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন আর এতে বিরক্ত হয়ে আপনি হয়তো রিমোট টিপেই চলে যাচ্ছেন স্টার জলসা কিংবা জি বাংলায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে টিভি দর্শকের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ যাদের প্রত্যেকের বয়স ১৫ বছরের উর্ধ্বে। এই জরিপে বলা হয়, এসব দর্শক প্রতি ১০০ মিনিটে ২৫ মিনিট দেখেন বাংলাদেশী চ্যানেল আর বাকী ৮০ মিনিট দেখেন অন্যান্য বিদেশী চ্যানেল। তার মধ্যে শুধু মাত্র ভারতীয় চ্যানেল দেখেন ৪৫ মিনিট আর বাকী ১৫ মিনিট দেখেন আরবী, পাকিস্থানি, ও ইরেজি চ্যানেল। ভারতীয় চ্যানেলে ৪৫ ভাগ সময় তারা ব্যয় করছেন বিভিন্ন সিরিয়াল, সিনেমা, গান আর রিয়েলেটি শোগুলোর মাধ্যমে। ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দেখা যায় মোট ২৭২টি চ্যানেল। ন্যাশনাল মিডিয়া সার্ভের এক জরিপে বলা হয়, দর্শকরা বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাংলাদেশী চ্যানেল বেশি দেখেন। এ সময় হিন্দি চ্যানেলগুলোতে দর্শক সংখ্যা কম থাকে। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হিন্দি চ্যানেলগুলোর দর্শক সংখ্যা বেশি থাকে। এ সময় চ্যানেলগুলোতে সিরিয়াল, রিয়েলিটি শো দেখানো হয়। এক জরিপে বলা হয়, বাংলাদেশে ভারতীয় সিরিয়ালের ৯৮ ভাগ দর্শকই হচ্ছেন নারী। এসব নারীরা দিনের সিংহ ভাগ সময় বিনোদনের খোরাক মেটানোর জন্য জি বাংলা, স্টার প্লাস, সনি, কালারস, স্টার জলসা ও জলসা মুভিতে ব্যয় করেন। এ চিত্র বড় ভয়াবহ। যার কারণে আমরা দিন দিন হারিয়ে ফেলছি আমাদের মূল্যবোধ। সাম্প্রতি পাখি ড্রেসের ঘটনা সবারই জানা। গাইবান্ধার কিশোরী নুরজাহান খাতুন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কিশোরী হালিমা খাতুনের আত্মহত্যার মূল কারণ শুধু মাত্র পাখি ড্রেস। এমন কি খুলনার পাইকগাছা গদাইপুর গ্রামের গৃহবধূ শারমিন আক্তার পাখি ড্রেস কিনে না দেওয়ার কারণে তার স্বামী সাইদুল ইসলামকে তালাক পর্যন্ত দিয়েছেন।
এ কোন বোকার রাজ্যে বাস করছি আমরা? কোন আদর্শকে বুকে ধারণ করছি, বাঙালি সত্তা নাকি বিজাতি সত্তা? নেপোলিনের সেই বাণী কে না জানে, ‘তোমরা আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব।’ আজকের মায়েরা যদি বিজাতি সংস্কৃতি শিখে, আজকের মায়েরা যদি আকাশ সংস্কৃতির হুক্কাহুয়ায় মত্ত হন তাহলে আমার দিদিরা সামান্য পাখি ড্রেসের জন্য আত্মহত্যা করবেই তো, বৌদিরা দাদাদের তালাক দিবেই তো, দাদারা পরকীয় মত্ত হলে বৌদিরা তার লিঙ্গহানী করে জন্মের সাধ মিটিয়ে দেবেনই তো। এসব হওয়াই বাঞ্চনীয়। এসব প্রতিনিয়ত হচ্ছেই তো। এসব কি সামাজিক অবক্ষয় নয়? যার অনুভূতি আছে সে বুঝে কিন্তু যারা জীব হয়েও জড় পদার্থ তারা বুঝে না। তারা প্যারেলাইসড। তাদের শরীর ও মননে মহামরী ভর করেছে, ঠিক অনেকটা এইডস কিংবা ক্যান্সারের মত। সুতরাং মায়েরা মেরি হলেই শিশুরা যুগে যুগে পৃথিবীতে যিশু হয়ে জন্মায়।
সন্ধ্যা হতে না হতেই দিদি-বৌদিরা তাদের সৈন্য সামন্ত নিয়ে বসে পড়েন টেলিভিশনের সামনে। তারপর কেউ স্টার প্লাসে দেখেন, এ রিসতা ক্যায়া ক্যাহনা চাহে, ইস প্যায়ার কো ক্যায়া নাম দিয়া, ইহে মুহাব্বাতিন, সাথিয়া, বিরা ইত্যাদি; ইত্যাদি সিরিয়াল। কেউ স্টার জলসায় দেখেন, জলনূপুর, বধূবরণ, বোঝে না সে বোঝে না, চোখের তারা-তুই, কিরণমালা ইত্যাদি; ইত্যাদি সিরিয়াল। কেউ জি বাংলায় দেখেন, রাশি, বয়েই গেলো ইত্যাদি; ইত্যাদি সিরিয়াল। কেউ জি টিভিতে দেখেন, প্রবিত্রা রিসতা, কবুল হ্যা, অর প্যায়ার হো গ্যায়া, ডলি আরমানও কি ইত্যাদি; ইত্যাদি সিরিয়াল। কেউ কালারস এ দেখেন, সাসুরাল সিমারকা, মেরি আশেকি তুমসে হ্যা, বে-ইনতে হা, উরাণ ইত্যাদি; ইত্যাদি সিরিয়াল সমূহ। দিদিরা এসব হাÑ করে গলধঃকরণ করেন আর নিজেদের বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ ঘটান। কার সংসার ভাঙলো, কে আড়ি পেতে কার কথা শুনলো, কে পরকীয়ায় মত্ত, কার প্রতি কার বিদ্বেষ, কে বেশি হিংসুক, কে বেশি অহংকারী, কে কার সমালোচনা করছে, কার কি কূটনামি চাল, স¦ামী-স্ত্রীর দ্বন্ধ, বউ-শাশুরির যুদ্ধ ইত্যাদি; ইত্যাদি। যা আমাদের সংস্কৃতি নয়, তাকে শুধু মাত্র লোক দেখানোর জন্য আমাদের সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেওয়া এক প্রকার মানসিক রোগ। এর মধ্যে কোন প্রকার গর্ব নেই। বাবুই দালানে থাকলেও সেটা অন্যের কিন্তু চড়াই কুঁড়ে ঘরে থাকলেও সেটা তার নিজের। সেটাতেই তার গর্ব। সুতরাং আমাদের যা আছে সেটাই আমাদের নিজস্ব। অন্যের ধার করা সংস্কৃতিতে আমরা কেন পরিচিত হব? আমরা আমাদের প্রেম ও ভালসারা মাধ্যমেই আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্যকে গৌরবময় করতে পারি।
মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশে চলছে প্রায় অর্থশতাধিক ভারতীয় চ্যানেল অথচ ভারতে বাংলাদেশের একটি চ্যানেলও চলার অনুমোদন পায়না। তাহলে এখানে মুক্তবাজার নীতির অসমতা প্রকাশ পায়। যদি ভারতই শুধু তাদের সংস্কৃতি আমাদের দেশে প্রবেশ করানোর অনুমোদন পায় তাহালে আমাদের চ্যানেলগুলোকেও ভারতে চলার জন্য অনুমোদন দিতে হবে। আর যদি সেটা করা সম্ভব না হয় তাহলে সরকারকে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধের যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। অসম মুক্তবাজার ব্যবস্থা চলতে পারেনা। দেশীয় শিল্পের প্রতি সরকারকে আরও বেশি মনযোগী হতে হবে। শুধু মাত্র রাজনৈতিক অভিলাষে যেন আর কোন টিভি চ্যানেল সৃষ্টি না হয়। এতে করে বজায় থাকবে শিল্পের মান। ভাল অনুষ্ঠান তৈরীতে প্রতিযোগীতা মূলক বাজারের সৃষ্টি হবে। কিন্তু আমরা সচেতন না হলে, আমরা পরিবর্তন না হলে কোন উদ্যোগই বাস্তবায়ন হবেনা। আমরা কতই না বোকা, সম্পদ রক্ষা করার জন্য ঘরে তালা লাগাই, আলমারিতে সবকিছু পুরে রাখি তারপর দিন-রাত সেগুলোকে পাহারা দেই যাতে চোর তা চুরি করতে না পারে অথচ আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ আমাদের মূল্যবোধ, শ্রদ্ধা, ভক্তি ও নৈতিকতাগুলো যে দিন দিন বিজাতি সংস্কৃতির আগ্রাসনে যে চুরি হচ্ছে সে জন্য আমাদের কোন পাহার নেই। আমরা এখন নির্বিকার, দিধাগ্রস্থ ও প্যারেলাইসড। একটা জাতির ধ্বংসের এটাই হলো প্রাথমিক নিদর্শন।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:৪২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এ আগুন আপনাদেরও একদিন গ্রাস করবে।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৩


আজ যারা ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদির ভিত্তিতে ও তাঁর কথিত “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা”, “মুসলিম বিদ্বেষী” সহ নানা মিথ্যা অভিযোগ আর অজুহাতে রবীন্দ্রনাথ বিদ্বেষের ব্যাপারে চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি ও ইতরামি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×