সবকিছুর জন্য সরকারকে দোষ দেয়া আর কর্তাব্যাক্তিদের দিকে মুখ চেয়ে থাকা ঠিক নয়। অনেক কিছুই আমরা নাগরিকেরা করতে পারি।দেশে নানা দাতব্য সংস্থা ও যাকাত ফান্ড আছে।তাদের উপর ভরসা না থাকলে, দেখুন প্রতিদিন পত্রিকায় অনেক সাহায্যের আবেদন ছাপা হয় । যাচাইবাছাই করে এগুলোতে দেয়া যায়। আশেপাশেও অনেক এমন অভাবীকে পাবেন যারা এককালীন একটা মোটামুটি পরিমাণের টাকায় অনেক ভালো একটি জীবন পেতে পারেন। আমার একার হয়ত উপার্জন কম। কিন্তু প্রিয় বন্ধুদের বা কাছের মানুষ , আত্নীয়, অফিস কলিগদের একত্রিত পরিমাণে হয়তো একটা অর্থবহ অ্যামাউন্ট হবে।একটা ইফতার পার্টি ,নাইট আউট , গেট টুগেদার করতে কত আগ্রহে আমরা উদ্যোগ নেই। একটা দিন বা একটা রাতের পরে কারোরই এই ঘটনা মনেও থাকে না। কিন্তু একটু ভাবনা চিন্তা করে খরচ করা আমাদের এই টাকাটা একজনের বেঁচে থাকার অর্থ বদলে দিতে পারে। তা না করে আমরা পাঁচ দশ টাকা করে করে সিগনালে গাড়ি থামলে যে দুুদশজন হাত বাড়ায় তাদের দিয়ে দেই , মনে মনে ভাবি খুব যাকাত আদায় হলো। যদিও মনে জানি ও গাল দেই , এহ! গরিব না ছাঁই । পুরাই ব্যবসা। যেই জিনিস নিজেদেরই অন্তর ফাঁকি বলে বুঝতে পারছে তা দিয়ে কোন সাহসে অন্তর্যামীকে ফাঁকি দিতে পারবো বলে ভাবি?
আমাদের আসলে সবকিছুতেই ভেজাল । ছোটবেলায় কালিমা মুখস্থ করি অনেকেই মানে না জেনে। নামাজ পড়ি হয়তো সাত দিনে একবার জু'মায় কাতারে দাঁড়িয়ে একটা সূরাও ঠিক ঠাক না জেনে।শুধু উঠবস।তা তো জিমেও করা যায়, খামাখা মসজিদে যাবার কি দরকার? হজ করি তাও কালো পয়সায়। জানিই না হারাম পয়সাতে যে শরীর গঠিত, যার পরিচ্ছদ হারাম টাকায় কেনা তার দোয়া কবুল হয় না। এমন একটা দেশে ''যাকাত'' নিতে গিয়ে লোক মারা যাবে তাতে আর অবাক কি? আজ যে লোকের এই '' দান'' নিতে গিয়ে মানুষের প্রাণ গেলো, আমরা তো খুব নিন্দা করছি। কিন্তু আমাদের নিজেদের পরিবারে বা আমরা যারা নিজে উপার্জন করি কয়জনে এমন একটা লোককে দান করতে পেরেছি যার আসলে প্রাপ্য?
এই আমরাই কিন্তু দুনিয়া ঘুরে সবচেয়ে ভালো যেখানে জামা পাওয়া যায় সেখানে যাই। যে পার্লারে সবচেয়ে ভালো মেহেদী দেয় সেখানে লাইন দিয়ে বসে থাকি। সন্তানের পড়াশোনার জন্য সবচেয়ে ভালো কোচিং খুঁজে বের করি। যারা ভালো আয় করেন তারা পরিবারের জন্য যেখানে সবচেয়ে ভালো সুদ দেবে সেখানে ফিক্সড ডিপজিট করি। কিন্তু নিজের পরকালের বেলায় আমরা খুব উদাসীন। একটা কথা হাদীসের বাণী বলে লিখলেই হাজারে হাজারে শেয়ার করে দেই। একটু কষ্ট করে যাচাই করে নেই না। এটা ভুলে যাই ইসলামে বলেছে যে না জেনে শুনে কোন কিছু প্রচার করে সে মিথ্যাবাদী হিসেবেই অভিহিত হবে।আমরা এমনই এক জাতি ।অলস বললে মিথ্যা বলা হবে। মনে আছে? বিশ্বকাপ যখন হলো রাত জেগেও টিকিটের জন্য লাইন দিয়েছি।খুব যে বেশীদিন আগের কথা তাও না। পরকালের ভালোএকটা স্থায়ী বাসস্থানের টিকেট নিশ্চিত করতে আমাদের কারো মুহূর্ত ব্যায় করার সময় হয় না। যত শর্টকাটে পারা যায়! হাতুড়ে ডাক্তারের কথা শোনা যায়, আমরা হলাম হাতুড়ে ধার্মিক। সত্যিটা হলো আমাদের টাকা কম তাই অমন মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের গোটাকয়েক সস্তা শাড়িলুঙ্গির ''যাকাতে'' ঘটে না। থাকলে ঘটতো। আজ যারা যারা নূরানী জর্দার মালিকের বিচারের দাবীতে খুব লম্ফঝম্প মারছেন বলেন তো আপনাদের কয়জনের পরিবারে এইভাবেই ''যাকাত'' দেয়া হয় না? যে পাপ আমরা করি অন্যের বেলা তার বিচার করার নৈতিক অধিকার আমাদের নেই।আরও জেনে রাখুন , নিজেদের ভালোমানুষী নিয়ে অহংকার করারও কোন যোগ্যতা আমাদের নেই। '' শুধুই সুযোগের অভাবে ভালোমানুষদের'' তা থাকেনা।
পরম করুণাময় আল্লাহ্পাক আমাদের হেদায়েত দিন। আমীন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


