
শহীদ রমিজ উদ্দীন কলেজের দুইজন শিক্ষার্থী দুই বাসের ওভারটেক প্রতিযোগিতায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার। ঝরে যায় দুটি নিষ্পাপ প্রাণ। ঘটনাস্থল অবরোধ। গাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ।

শিক্ষার্থীর মৃত্যুশোকে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের বস্তাপচা হাসি। সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়। শিক্ষার্থীদের ঘৃণার তোপে মন্ত্রী। ফলে নৌমন্ত্রীর ঘোষণা- হাসিই যখন প্রবলেম, আর হাসবো না। একথাতেও হাসি।

দেশের ছাত্রজনতার বিচার দাবি। সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে ঘাতক পরিবহনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ও ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানের মুখে পুলিশের লাঠিচার্জ। ফলাফল ছাত্র ভার্সেস পুলিশ সংঘাত।

আন্দোলনের প্লেকার্ডে সংযুক্তি ‘আমার ভাইয়ের রক্তলাল, পুলিশ কোন চ্যাটের বাল’। এই বলে জায়গায় জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের অনিয়মকে চোখে আঙুল দিয়ে সড়ক পথের সুশৃঙ্খল অবস্থান। ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে শিক্ষার্থীরা গাড়ি ও চালকের লাইসেন্স চেক ও ফিটনেস চেক। ফলে সমাজের রাঘব বোয়াল ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাংবাদিক-সেলিব্রেটিদেরও মুখোশ উন্মোচন। সোস্যাল মিডিয়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ


সুষ্ঠু আন্দোলন ও লাইসেন্স চেক এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলার কাজে শনির আখড়ায় ট্রাক ড্রাইভারের বর্বরোচিত মার্ডার এটেইন্ড। সোস্যাল মিডিয়ায় সরাসরি ভিডিও আপলোড। এরিয়াধীন পুলিশ প্রধানের বক্তব্য- ভিডিও পুরোনো। ফলে পুলিশ আবার চ্যাটের বাল।
উপরের পাঁচটি চিত্র আন্দোলনের সুষ্ঠু পদক্ষেপ। সুন্দরভাবেই স্টেপ বাই স্টেপ আন্দোলন চলছিল। গুটিকয়েক বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আন্দোলন সফলতার দিকেই ধাবমান। অনেকে বলছেন, লাইসেন্স চেক ও ফিটনেস চেকের সাথে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নাই। কথাটা আমিও কিছুটা সমর্থন করি। কারণ, রমিজ উদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থীকে যে ঘাতক পরিবহন ‘হত্যা’ করেছে। সে পরিবহনের লাইসেন্স ছিল, ড্রাইভারেরও লাইসেন্স ছিল। অভাব ছিল লাইন্সেন্স বা রাস্তাজ্ঞানের। আর এই রাস্তাজ্ঞান ছাড়াই বিআরটিএ টাকার কাছে মাথানত করে লাইসেন্স দিয়ে যাচ্ছে, সেটাও একটা দফারফা হওয়া দরকার।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে সড়ক খুড়তে গিয়ে বেড়িয়ে আসতেছে বড় বড় হর্তাকর্তাদের অনৈতিক সড়কযাত্রা। যাদের কাঁধে দেশ ভড় করে আছে, তারাই তলে তলে দুর্নীতির করাত দিয়ে দেশের শেকড় কেটে যাচ্ছে।
তো যাই হোক, আন্দোলনের এই পর্যায়ে হঠাৎ রাজধানীর জিগাতলায় দফায় দফায় ঘাত-প্রতিঘাতের খবর শোনা গেল। পুলিশের সামনেই ছ-ল অদ্যাক্ষরের একটি রাজনৈতিক দল নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলে পড়ল। চারজন মেয়ে শিক্ষার্থীকে তুলে নেয়ার খবর শোনা গেলেও ব্যাপারটা এখনো ধোয়াশাচ্ছন্ন হয়ে রইল। আর পুলিশরা স্রেফ চ্যাটের বাল হয়েই থাকল।
কারণ, পুলিশের সাথে ছাত্রদের সংঘাত তৈরি করেছে খোদ সরকারই। সরকার জানে, পুলিশ দিয়া ছাত্রশক্তিকে দমায়া রাখা যাবে না। কাটা দিয়ে কাটা তোলার মতো ছাত্র দিয়েই ছাত্র পেটাতে হবে। তাই পুলিশকে চ্যাটের বাল ভূমিকায় অবতীর্ণ করে সরকার আগেই গেমটা খেলছে। যার ফলে পুলিশের সামনেই ওই ছ-ল অদ্যাক্ষরের দলকে মাঠপর্যায়ে ডিফেন্স করতে নামাইছে। এছাড়াও আইন-প্রশাসন ও মিডিয়ার মাধ্যমেও ডিফেন্স করছে। এতেই ক্ষ্যান্ত নয়, ডিফেন্সের আরো কিছু চিত্র দেখেন-

অভিনেত্রী কাজী নওশাবাকে দিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে তাকে গ্রেফতার। আন্দোলনের মোটিভ চেঞ্জ করতে সরকারের এহেন কৌশল পুরোপুরি ব্যর্থ।
চিত্র - ২
বিআরটিসি কর্তৃক থ্রিজি, ফোরজি ইন্টারনেট গতি বিচ্ছিন্ন। উদ্দেশ্য, সোস্যাল মিডিয়ার অস্ত্রকে ভোতা করে দেয়া।
চিত্র - ৩
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার ধোয়াশাপূর্ণ গুজব। যদিও কোথাও লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি সরকারের।

শহীদ রমিজ উদ্দীন কলেজকে সরকার কর্তৃক পাঁচটি বিআরটিসি বাস প্রদান।

নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদান। সরকারের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণে দুই পরিবারই খুশি। প্রেস বিফিংয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে যার যার ছেলেমেয়েদের বাড়ি ফিরে নেয়ার আহ্বান জানায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার। জগতে কার জন্য কী করবেন, যার জন্য চুরি করবেন সেই বলবে চোর!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৩:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


