
যে যা বলছে আমরা তাই নির্বিচারে বিশুদ্ধ ইতিহাস বলে মেনে নিচ্ছি। এটা দুঃখজনক নিঃসন্দেহে। প্রাচ্যতাত্ত্বিক বা অরিয়েন্টালিস্ট ইউরোপীয় ঐতিহাসিকগণ সুলতান মাহমুদ গজনবির ১৬ বা ১৭বার ভারত আক্রমণের এক মুখরোচক কাহিনি দাঁড় করিয়েছেন। এই কাহিনির পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, গজনবী লুণ্ঠন করতে ভারতে আক্রমণ করেছিলেন—একথাটা প্রমাণ করা। হিন্দু ঐতিহাসিক ও সাধারণ জনগণও এটাই মনে করে। অরিয়েন্টালিস্টরা সফল হয়েছিলেন বলতে হয়।
অথচ বাস্তবতা হলো, মাহমুদ গজনবি তার বাবার পরে সিংহাসনে বসে অাভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হন। ইতিহাসের সাধারণ পাঠই আমাদেরকে বলে দেয়, তার বাবার সময়েই শিয়া বিদ্রোহীরা প্রবলভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। বাবার রেখে যাওয়া সমস্যা সমাধান করা তার প্রথম ও প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, যে কোনো বুদ্ধিমান শাসকই অাভ্যন্তরীণ বিদ্রোহকে দমন না করে রাজ্যের বাইরে গিয়ে লুণ্ঠন করার শখ করবেন না।
তো যাই হোক, সুলতান মাহমুদ গজনবি আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহীদেরকে কঠোরভাবে দমন করার ফলে তাদের একাংশ হিন্দুস্তানের সিন্ধু অঞ্চলের দিকে আশ্রয় নেয়। গজনবি সেই অঞ্চলের রাজাকে বিদ্রোহীদের ফেরত দিতে বললে তিনি অসম্মতি জানায়। তারপর তিনি ১ মতান্তরে ২বার সেই রাজার রাজ্যে অভিযান চালান।
আমরাও যখন বলি ১৬ বা ১৭বার ভারতে আক্রমণ করেছেন মাহমুদ গজনবি তখন প্রকারান্তরে আমরা অরিয়েন্টালিস্টদের লুণ্ঠনতত্ত্বকেও প্রচার করি। আসলে অরিয়েন্টালিস্ট বা প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের লেখা এই ধরণের ইতিহাসের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ডিভাইড এন্ড রোল। মুসলিম শাসকদের চরিত্রে কালিমা লেপন করে তারা মুসলিম শাসক ও সাধারণ মুসলিমদের প্রতি হিন্দুদেরকে বিষিয়ে তুলে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি নষ্ট করে। ব্রিটিশরা ভারতে আসার পর যত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে তার ৫ভাগও মুসলিম শাসনামলে হয়নি।
মূলত প্রাচ্যতাত্ত্বিকরা মাহমুদ গজনবির ১৭বার ভারতাভিযানের কথা প্রচার করেছে। চাইলে প্রত্যেকবার তারা মুসলমানদের পরাভব ও পর্যুদস্ততার কথা বলতে পারতেন, এতে বাহ্যিকভাবে তাদের মুসলমানদের প্রতি ইতিহাসবিকৃতির আগ্রাসনটা কিছুটা পোক্ত হত। কিন্তু প্রাচ্যতাত্ত্বিকরা তা করেনি, তারা মুসলমানদের শৌর্যবীর্যের আড়ালে পুঁতে দিয়েছে ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক লুণ্ঠনতত্ত্ব। এতে মুসলমানরা তাদের শৌর্যবীর্য ও নেতাদের বীরত্ব দেখে ইতিহাসবিকৃতির মতো জঘণ্য বর্বরতম বিষয়টা কত সহজে ভুলে গেল! একেই বলে মাইন্ডগেম, একেই কলে ডিভাইড এন্ড রোল।
সূত্র : আয়নায়ে হাকিকতনুমাঁ, আকবর নজিরাবাদী
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


