মিষ্টি খাইছেন?? এইবার একটূ সরাবের কিঞ্চিৎ আয়োজন!!
মাইণ্ড খাইয়েন না ভাই...গাড়িপ্রেমীদের কাছে মার্সিডিজ বেঞ্জ লিমিটেড এডিশন যেমুন, আমার মতো জাত গেমারের কাছে গ্রাফিক্স কার্ড তেমুন!!
কিনতে গেছিলাম রেডন ৫৮৩০, দামে না পোষাইলে ৫৭৭০। সাথে পাওয়ার সাপ্লাই। কার মুখ দেইখা ঘুম থিকা উঠছিলাম কে জানে, গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সামনে আসতেই চোখে আটকায় গেল ঝকঝকে একটা লেখায়( সুন্দরী নারীদের চোখের দিকে যেমুন চোখ আটকায় যায়!!
লাফাইতে লাফাইতে দোকানে গেলাম। দাম শুইনা আরেকটু হইলে খুশিতে দোকানদাররে জড়ায় ধরছিলাম!! আমার বাজেটের মধ্যে এই অসাধারণ কার্ড থাকতে আমি অন্যগুলার পিছে ছুটতেছি। কি গাধা আমি!! তয় আমার খুশি দেইখা মনে হয় দোকানদার বুইঝা ফালাইল আমি কাইত, তাই দাম এক পয়সাও কমাইল না।
আমার ধারণা ছিল এইটা দেশে এখনো আসে নাই। আসলেও ২২-২৩০০০ হাজারের নিচে হইব না। কিন্তু কপাল থাকলে যা হয়… পায়া গেলাম ASUS ENGTX460 Direct CU 1GB GDDR5 Graphics Card!!
আসুসের অন্যান্য প্রোডাক্ট কেমন হয় জানিনা, তয় আগের গ্রাফিক্স কার্ডও আসুস ছিল, দুই বছর ঝামেলা ছাড়াই টিকছে(রেডন এইচডি ৪৬৭০)।
এই জিটিএক্স ৪৬০ যেকোন মিড-বাজেটের গেমারের জন্যে অতি লোভনীয়, কারণ এর পারফরম্যান্স ২৩০০০ টাকা দামের বিখ্যাত রেডন ৫৮৫০-এর চেয়ে খুব বেশি কম না, ৫৮৩০-এর চেয়ে বেশি, কিন্তু দাম ৫৮৫০ এর চেয়ে প্রায় ৮০০০ টাকা কম, আর পাওয়ারও কম খায়। এর মেমোরী ইন্টারফেস ২৫৬ বিট, ডিরেক্ট এক্স ভার্সন ১১,পিক্সেল শেডার ৫.২, কোনটাই রেডনের ৫*** সিরিজের কোনটার থেইকা কম না। ‘পাওয়ার খোর’ নামে এনভিডিয়া ২** সিরিজের যেই দুর্নাম ছিল, এই ৪** সিরিজ দিয়া সেইটা দূর হইছে। অবশ্য সেফটির জন্যে Gigabyte 720 Watt একটা পাওয়ার সাপ্লাই কিন্যা নিছি। এই কার্ডের আরেকটা বড় বিষয় হইল Asus এর DirectCU টেকনোলজি, যেটার কারণে কুলিংটা খুব ভালভাবে হয়, আর হাই ভোল্টেজে ৫০% বেশি লোড নিতে পারে।(আমারটা ওভাররাইড কইরা এরই মধ্যে ১৭৯৮ এমবি হইছে, কুন সমস্যা ছাড়াই!)সাইজেও একটু মোডা হইলেও মাশাল্লাহ…যেমন ফিগার, তেমুন সৌন্দর্য!!
এবার দেখি, কোন গেমের এতো বড় সাহস আমার পিসিতে ফুল কোয়ালিটিতে চলে না। মেট্রো ২০৩৩, কল অফ ডিউটি ব্ল্যাক অপ্স ডি্রেকএক্স ১১-এ এরই মধ্যে সব হাই দিয়া চালাইছি। মজাই মজা!! হট পারস্যুটও দারুণ জমতাছে। ফ্রেম রেট কন্সট্যান্ট ৬০ থাকে। ফিফা ১১-এ ফ্রেম রেট উঠছে ১৮৩ পর্যন্ত!! আয়া পরেন যারা খেলতে চান
প্রসঙ্গত যারা নতুন গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে চাইতাছেন, তাদের জন্যে দুইটা কথা কই। এনভিডিয়া না এটিআই, এই চিন্তা কইরা অনেকেই মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে চুল কমায় ফ্যালেন।
এই ফাটাফাটির অংশীদার হইতে পাইরা আমার খুশির শেষ নাই।
যারা গ্রাফিক্স কার্ড কিনার চিন্তা করতাছেন, আমার মতে এই কার্ডই বেস্ট। সামনের বছর Crysis 2, F.E.A.R. 3, Assassin’s Creeed Brotherhood, L.A. Noir এর মতো গেম আসতেছে, এগুলা ফুল কোয়ালিটিতে বিকল্প নাই। F.E.A.R. 3 এর ট্রেইলার যারা দেখছেন তারা জানেন…এর গ্রাফিক্স রীতিমতো বাস্তব!!
কাজ আর পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে এবার আরও ধুমায় চলবো রাত জাইগা গেমিং!!
বছর শেষে এই বছর আমার খেলা সেরা তিনটা গেমের ছুড বর্ণনা দিয়া পুস্ট শেষ করি।
১. Assassin’s Creed II
আমার খেলার সেরা গেম। ব্যক্তিগতভাবে আমি এইটারে ১০০ তে ৯৫ রেটিং দিব। একটা গেম যে শুধু গেম না, সিনেমার মতোই মানুষকে ছুঁইয়ে যাইতে পারে, তার নিদর্শন এই গেম। ৮০% বাস্তব ইতিহাসের উপর নির্ভর কইরা এই গেমের স্পট ১৪৭৬-১৪৯৮ সালের ইটালী্র ভেনিস, ফ্লোরেন্স, রোমের মতো বিখ্যাত শহর। রেনেসাঁ ইটালীকে এই গেমে অসাধারণ মুন্সিয়ানার সাথে ফুটায় তোলা হইছে, সেই সাথে দারুণ ভয়েস অ্যাক্টিং আর সাউণ্ড ইফেক্ট অন্য মাত্রা আইনা দিছে। সর্বোপরি গেমের প্রোটাগনিস্ট এজিও কে ভাল না বাইসা উপায় নাই। এককালের বড়লোকের দুলাল, অতি হ্যান্ডসাম, উওম্যানাইজার এই নায়ক যখন নিজের পরিবারের হত্যার প্রতিশোধ নাওয়ার জন্যে সব ভুইলা ঘুইরা বেড়ায়, তখন তার সাথে একাত্ম না হইয়া উপায় নাই। এজিওর পার্সোনালিটিই সম্ভবত এই গেমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। খেলেই তাকে চট করে ভুইলা যাওয়া কষ্টকর! গেমপ্লে আর A.I. অসাম, কল অফ ডিউটির সাথে পাল্লা দিতে পারে সহজেই। সত্যি কথা বললে, এই গেমের নেগেটিভ পয়েন্ট খুঁজে বের করাই কষ্ট! Hats off to Ubisoft
IGN Rating: 9.2/10, Gameradar Rating: 10/10, Gamespy Rating: 5/5
২. Batman: Arkham Asylum
ব্যাটম্যান নিয়ে ডার্ক নাইট সিনেমার মতোই অসাধারণ গেম। নতুন গ্রাফিক্স কার্ডে আবার খেলমু! সাউণ্ড ইফেক্ট, ভয়েস অ্যাক্টিং, ক্যারেক্টার ক্রিয়েশন সুপার্ব। বিশেষ করে জোকারকে দারুণ বানাইছে, তার হাসিটা হইছে পুরা আসলের মতোই। স্মুথ গেমপ্লে গেমটার বড় বৈশিষ্ট্য। আমার ব্যক্তিগত রেটিং ৯৩/১০০।
IGN Rating: 9.3/10, GamePro Rating: 4/5, Gamespy Rating: 5/5
৩. Call of Duty- Black Ops, Medal of Honor
দুইটারেই এক কাতারে রাখকলাম কারণ সামান্য তফাৎ ছাড়া দুইটারেই আমার অনেকটা একরকম লাগছে। তবে ব্ল্যাক অপ্স বেটার। এটারে আমি পার্সোনাল রেটিং দিব ৯২/১০০, আর মেডাল অফ অনার কে ৯০/১০০। কাহিনীর বিচারে দুর্দান্ত একটা গেম ব্ল্যাক অপ্স। তয় এর চেয়ে ক্যান জানি মনে হয় মডার্ণ ওয়ারফেয়ার ২-এর গেমপ্লেই ভাল ছিল। কিন্তু এটার ভয়েস অ্যাক্টিং দারুণ, সব বিখ্যাত অভিনেতাদের করা। ওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ারের রেজনভ আবার এই গেমে ফির্যা আসছে, যার চরিত্রে অভিনয় করছে বিখ্যাত অভিনেতা গ্যারি ওল্ডম্যান। মেসনের ক্যারেক্টারে অভিনয় করছে অ্যাভাটারের নায়ক স্যাম ওর্দিংটোন। মেডাল অফ অনারের সবচেয়ে চরম মিশন হইতাছে হেলিকপ্টারের মিশন টা। যারা খেলেন নাই, নির্ঘাৎ মিস করছেন। এছাড়া গেমপ্লে, A.I. মোটামুটি সব দিক দিয়েই ভাল এই গেমটাও।
হট পারস্যুট, ব্লাড স্টোন ০০৭, ডার্ক সাইডার্স, আলফা প্রোটোকল খেলতাছি। শেষ হইলে আমার এ যাবৎকালের খেলা সব গেম নিয়া মেগা পুস্ট দেওনের পরিকল্পনা আছে! গেমার ভাইরা দুয়া কইরেন। আপনার খেলা সেরা গেমটার নাম জানাইতে ভুইলেন না!
বি.দ্র. গেম সম্পর্কিত যেকোন প্রশ্ন, কিংবা যেকোন গেমের ডাউনলোড লিঙ্ক প্রয়োজন হলে মন্তব্যে লিখে রেখে যেতে পারেন। সাধ্যমত সাহায্য করার চেষ্টা করব।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



