somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রিকি
ছোটো প্রাণ,ছোটো ব্যথা >ছোটো ছোটো দুঃখকথা >নিতান্তই সহজ সরল >সহস্র বিস্মৃতিরাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি>তারি দু-চারিটি অশ্রুজল>নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা> নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ> অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে>শেষ হয়ে হইল না শেষ

In the Shadow 2012 (Original Title: Ve Stinu)—চেক প্রজাতন্ত্রের Noir গোত্রের সেরকম মাপের একটা সিনেমা চলুন দেখে আসা যাক

২৩ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



“ A lie that is half-truth is the darkest of all lies.”

মানুষের সত্ত্বা এমন একটা জিনিস... যার সাধারণত দুইটা অংশ থাকে একটা বাহ্যিক এবং একটা অন্তঃস্থ। অন্তঃস্থ সত্ত্বাটি বাহ্যিকটাকে চালনা করে থাকে মূলত। কিছু কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই বাইরের সত্ত্বাটিকে একটা আলাদা মুখোশে আবৃত করে থাকে যার নাম ছল কিংবা প্রবঞ্চনা। কিছু কিছু মানুষ সত্ত্বার এই সূক্ষ্ম পার্থক্য বুঝতে না পেরে অন্ধের মত প্রবঞ্চনার রাস্তায় এগিয়ে বিপদের চোরাবালিতে পতিত হয়। মানব চরিত্রের এই বিশেষ দিক এবং কিছু ষড়যন্ত্রমূলক সামাজিক সমস্যার উপর নির্ভর করে তৈরি আজকের আলোচ্য সিনেমা।



সাল ১৯৫০... চেকোশ্লোভাকিয়ার এক শহরে বৃষ্টির রাতে একটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরের দিন সকালে কেসটির দায়িত্ব যায় Captain Hakl এর উপর...বুদ্ধিদীপ্ত হিমশীতল স্বভাবের Hakl ডাকাতি হয়ে যাওয়া দোকানে যায় তার সহকর্মীর সাথে। সেখানে গিয়ে সে ঘুরে ফিরে জায়গাটাকে প্রথমে পর্যবেক্ষণ করে এবং বোঝার চেষ্টা করে ঘটনা প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিল। পুরাতন এক সিন্দুক Hakl এমনভাবে ভাঙ্গা অবস্থায় পায় যা দেখে তার এমনি মনে হয়, ডাকাত আর কিছু হলেও অভিজ্ঞ নয়......amateur কারও ডাকাতি মনে হয় তার কাছে। কিন্তু সিন্দুকের কাছে একটি ছোট্ট চামড়ার pouch type জিনিস খুঁজে পায় সে... যেটা পাওয়ার পরে তার সন্দেহ গড়ায় একটা বিশেষ মানুষের উপর। এরপর Hakl এবং তার সহকর্মীটি দুপুরের খাওয়ার খেতে একটি সস্তা হোটেলে যায়...হোটেলে ঢুকে Hakl খাওয়ার order দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে কিছুক্ষণ জায়গাটা ভালভাবে দেখে নেয়। এরপর waitress খাওয়ার নিয়ে আসলে সে খাওয়ার ভান করে waitress এর দিকে তাকিয়ে থাকে কোন দিকে যাচ্ছে সে দেখার জন্য...হোটেলের পিছনের একটি ঘরে তাকে লক্ষ্য করে Hakl কিছু জুয়াড়িকে পায় যার মধ্যে একজনের কাছে সে Kirsch নামের একজনের ঠিকানা জানতে চায়...। সে বলে Kirsch একটি স্থানীয় Jews সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়াতে সেখানেই থাকে। Hakl সেই সংগঠনে গিয়ে Kirsch কে জেরা করে এবং চামড়ার ছোট pouch যেটা প্রকৃতপক্ষে Kirsch এর তা উন্মোচিত হয় এবং তার ঘর তল্লাশি করলে ডাকাতি হওয়া গহনাগুলোও খুঁজে পায় পুলিশ সদস্যরা এবং রাতারাতি কেস সমাধান হয়ে গেছে বলে ধারণা করে নেয় সবাই। কিন্তু ডাকাতির ধরণ দেখে এবং Kirsch এর জেলে যাওয়ার আগে বলে যাওয়া কিছু স্বীকারোক্তি মূলক কথায় Hakl এর সন্দেহ জাগে যে আদৌতে Kirsch এগুলোর সাথে জড়িত রয়েছে কিনা, তাকে ফাঁসানোর কেউ গভীর ষড়যন্ত্র বুনেছে কিনা । এদিকে কেস সমাধানের কিছু পরে Hakl এর Chief জানায় ডাকাতির কেসটি আর তাদের দেখার দরকার নাই, বরং Jews community জড়িত থাকায় সেটার দায়িত্ব গিয়ে পড়েছে State Security র হাতে। State Security র Major Zenke কেসটির দায়িত্ব নিয়ে Hakl কে এই কেসের দায়িত্ব থেকে মুক্ত করে। এদিকে Hakl এর বেশ কিছু জিনিস অসংলগ্ন মনে হতে থাকে...তাকে অব্যাহতি দাওয়ার পরও সে Chief এর সাথে কথা বলার পরে নিজে নিজেই কেসটির চিরুনি তল্লাশি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ঘটে যায় আরেকটি ক্রাইম... এবার স্থানীয় একটি পোস্ট অফিস লুটপাট এবং কয়েকজন খুন হয় এবং Hakl কিছুক্ষণ পর পৌঁছালে কিছু মানুষের মৃতদেহ, গুলির খোসা এবং ভুলক্রমে টেলিফোন directory তে বিঁধে যাওয়া একটি গুলি খুঁজে পায়। এরপর থেকে শুরু হয় সিনেমার সেরকম টানটান উত্তেজনা পর্ব। Hakl এর ব্যক্তিগত জীবনে পর্যন্ত বিপদের কালো মেঘ নেমে আসে। কি কারণ জড়িত মূলত অপরাধগুলোর পিছনে? Hakl কি পারে দুর্বোধ্য সব ষড়যন্ত্রমূলক বিষয়ের সত্য উদঘাটন করতে? কি হয় শেষ পর্যন্ত Captain Hakl এর সাথে? এক বাক্যে বলতে গেলে, অনেক দিন পর ৫০ দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি একটা সেরকম মাপের আগাথা ক্রিস্টির অমর সৃষ্টি Hercule Poirot ধাঁচের detective crime সিনেমা দেখলাম...... Hercule Poirot বললাম কেন আর সব কিছু বাদ দিয়ে, লোকটার কাজে কর্মে নিজস্ব একটা classic style ছিল…Captain Hakl ঠিক ওরকম না হলেও পাশের বাড়ির ছোট ভাই স্বরূপ।Fedora hat পড়া এই মানুষটির একটা আলাদা ধরণের Classic style আছে কেস solving এ...নিজস্ব জীবনযাত্রায়, চলাফেরায়... overall সবকিছুতে। অপরদিকে সিনেমার আর একটি মূল চরিত্র Major Zeneke কে দেখে প্রথমে Antonio Banderas মনে করেছিলাম...পরে দেখলাম এরা শুধু চেহারাতে identical না, অভিনয়েও... রাশভারী ভাব!!! :P Noir গোত্রের এই সিনেমার রহস্য যদি শুধু চুরি বা ডাকাতি বা গুটি কয়েক খুনের মধ্যেই যদি সীমাবদ্ধ থাকত তাহলে মনে হয় এটা সহজ হয়ে যেত চিন্তা করতে কি ঘটছে, কেন ঘটছে...কিন্তু ব্যাপার এর থেকেও অনেক বেশি জটিল। বৃহৎ পরিসর ব্যাপ্ত ষড়যন্ত্রের এক visual interpretation চেক প্রজাতন্ত্রের এই মুভিটি। ৫০ দশকের দিকে একটা সামাজিক ষড়যন্ত্রের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে এটি এবং ২০১২ সালের Academy Award for Best Foreign Film category তে চেক প্রজাতন্ত্রের হয়ে প্রতিনিধিত্বও করেছিল কিন্তু শেষ দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে। পূর্বে এই সিনেমার নাম In the Shadow of the Horse ধার্য করা হলেও পরে সেটির সাথে অন্য একটি সিনেমার নাম মিলে যাওয়াতে এর নামকরণ করা হয় 'In the Shadow'...আসলেই ছায়ার আড়ালে অনেক মানুষই নিজের উজ্জ্বল সত্ত্বাটিকে হারিয়ে ফেলে। এটি শুধু কোন dutiful detective এর বা চুরি ডাকাতির গল্প নয় বরং একটা বিশেষ ষড়যন্ত্র ব্যাতিরেকে দায়িত্ববান একজন মানুষেরও গল্প...A phenomenal movie with a razzmatazz but interesting plot.





In the Shadow 2012 (Original Title: Ve Stinu)

IMDB rating: 7.2/10
Genre: Crime/Thriller/Drama
Cast: Ivan Trojan, Sebastian Koch, Sona Norisová
Country of Origin: Czech Republic






**** এই লেখা সম্পূর্ণ রূপে আমার… পূর্বের কোন লেখার সাথে মিলে গেলে তা একান্তই co-incidence….no resemblance. আশা করি পোস্টটি ভালো লাগবে ! Happy Movie Watching !
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:৫২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডিস্কভারি অব ইন্ডিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৪



১৯৪৭ সালটা সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দেশবিভাগের বছর শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সময়ে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×