গতকাল থেকে আমি একা হয়ে গেছি। আমার বৌ আর মেয়ে গতকাল দুপুরের ফ্লাইটে কলকাতা রওনা হবার পরেও ব্যাপারটা এতো কঠোর-ভাবে উপলব্ধি করিনি, কারন এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে অফিসেই গেছিলাম, আর সেখানে কাজে-অকাজে সময়টা কেটে গেছিলো। কিন্তু রাতে বাড়ি ফেরার পর আবিষ্কার করলাম-যে বাড়িতে আমার মেয়ে ঘুমিয়ে থাকার অবস্থাতেও যতো শব্দ হয়, তার ভগ্নাংশ-ও হচ্ছে না। জামা-কাপড় বদলে বসার ঘরে পৌছে বুঝলাম এখানে বসলে হয় টিভিতে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দেখতে হবে, নইলে ঘরের চারটে দেওয়াল আমাকে খেতে আসবে। অতঃপর রাত গভীর হয়ে চোখের পাতায় ঘুম না নামা পর্যন্ত আমি কখনো ম্যাচ দেখলাম, কখনো কম্পিউটারে ইন্টারনেট করলাম, কখনো এক-আধটা না দেখে রেখে দেওয়া সিনেমা দেখার চেষ্টা করলাম, কখনো বই পড়লাম, আর সব থেকে বেশি করে চেষ্টা করলাম এটা বুঝতে যে আগামি ১৪ দিন আমি অফিস-থেকে ফেরার পর কী করবো।
এমন নয় যে বিয়ের পর এই প্রথম আমি বৌ-মেয়ে ছাড়া বাড়িতে একা আছি। একটা সময় বরং পরিস্থিতি এমন-ই ছিলো যাতে আমার সাংসারিক "ব্যাচেলার"-জীবন ছিলো খুব-ই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু তারপর আস্তে-আস্তে পারস্পরিক টান-টা শরীরের গণ্ডি পেরিয়ে মনের মাঝে ছড়িয়ে গেলো, আর তারপর মনটাকে ভাসিয়েই দিলো। মেয়ে হবার পরেও অন্তত আমার অনেক দিন লেগেছিলো তার কান্নাকাটি আর বায়নাক্কা-র হাংগামা কাটিয়ে ওকে নিজের জীবনের এক অমূল্য অংশ বলে মানতে, কিন্তু একবার ও'র সপ্রাণ উপস্থিতি-কে আপদ-এর বদলে সম্পদ বলে বুঝতে পারার পর বাড়ি ফিরে ও'কে ডেকে নিয়ে সারা দিনের পর্যালোচনা না করে থাকা যায় না। একে ভালোবাসা বলে কি না তা বিদ্বদ্জনেরা বলতে পারবেন, তবে সরল বাংলায় বলতে গেলে: আমি এখন বৌ-মেয়ে-কে ছাড়া জীবন-যাপনের কথা ভাবতেই পারি না। ফলে গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাসন-বা-একক বন্দিদশা (যার পেছনেও আমার-ই হাত রয়েছে, নইলে বৌ ইচ্ছেটা প্রকাশ করা মাত্র ঝটপট প্লেনের টিকিট-টা কেন-ই বা কাটলাম?) শেষ হবার আশাতেই এই ব্লগ লেখা শেষ করছি। ভরসা থাকুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


